Published : 19 Feb 2026, 12:40 PM
“টানা তিন শূন্য… কেউ কি বিশ্বাস করবেন…”, আভিশেক শার্মা আউট হতেই ধারাভাষ্যে চিৎকার করে উঠলেন নাসের হুসেইন। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন, আসলেই বিশ্বাস করা কঠিন। এই বলয় থেকে বের হওয়ার সম্ভাব্য একটি সমাধানও খুঁজে পেয়েছেন হুসেইন। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কের মতে, মানসিকভাবে চাঙা হয়ে উঠতে হবে ভারতীয় ওপেনারকে।
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবচেয়ে আলোচিত ব্যাটসম্যানদের একজন ছিলেন আভিশেক। এবার তিনি বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। বিশ্বকাপের সুপার এইটের আগেও আলোচনায় তিনিই। তবে কারণটা পুরো উল্টো। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলেও কোনো রানের দেখা পাননি।
প্রথম ম্যাচে প্রথম বলে আউট হন তিনি কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মারার চেষ্টায়। পরের ম্যাচে খেলতে পারেননি পেটের সমস্যায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে ফিরে সালমান আলি আগার বল তুলে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন তিনি মিড অনে। সবশেষ ম্যাচটি ছিল তুলনামূলক দুর্বল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। কিন্তু এ দিনও রানে ফেরা হয়নি তার। ভারতীয় বংশোদ্ভুত অফ স্পিনার আরিয়ান দত্তর বলে বোল্ড হয়ে যান প্রথম ওভারেই।
গত দেড় বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যিনি বোলারদের আতঙ্ক, বিশ্বকাপের আগের সিরিজেও বিধ্বংসী দুটি ইনিংস খেলেছেন, সেই ব্যাটসম্যান এখন একটি রানও করতে পারছেন না। সবশেষ ৭ ইনিংসের ৫টিতেই তিনি আউট হলেন শূন্য রানে।
ম্যাচের পর আইসিসি ডিজিটালে আলোচনায় নাসের হুসেইন বললেন, নিজের সেরা সময়ের স্মৃতিতে ডুব দিয়ে এখনকার আঁধার থেকে বের হতে পারেন আভিশেক।
“আমার মনে হয়, তিন শূন্যের ব্যাপারটি অবশ্য মানসিক। ১০, ১৫, ২০ করে আউট হলে বলা যায়, ‘ওকে, ঠিক আছে।’ কিন্তু সে যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে তিনটি শূন্য মানে এত বেশি পতন! সে বলে টানা হিট করে যেতে পারে।”
“এখন প্রয়োজন তার একটু পিঠ চাপড়ে দেওয়া, এমনকি প্রয়োজন পড়লে আগামী দিন দুয়েক কেউ তার রুমে গিয়ে ভিডিও ছেড়ে দেওয়া। দলের অ্যানালিস্টকে বলা হোক তার সব ভালো ইনিংসের ভিডিও তাকে পাঠাতে, প্রচুর আছে এমন ইনিংস। এরপর দুই দিন ঘরে বসে ভিডিও দেখে নিজেকে মনে করিয়ে দিক, সে কত ভালো ব্যাটসম্যান, কত ভালো শট খেলতে পারে। এভাবে নিজের মানসিক অবস্থা ভালো জায়গায় আসতে পারে।”
রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সুপার এইট শুরু করবে ভারত।