Published : 28 Feb 2026, 10:13 PM
ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তেমন কোনো সুযোগই দেখছেন না কৃষ্ণামাচারি শ্রীকান্ত। দেশটির সাবেক ওপেনার ও সাবেক প্রধান নির্বাচকের চোখে ক্যারিবিয়ানদের টপ অর্ডার ‘ভীষণ বাজে’, পেস বোলিং ‘খুব সহজ।’ তার বিশ্বাস, সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল অনায়াসে জিতে সেমি-ফাইনালে উঠবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অলিখিত কোয়ার্টার-ফাইনালে রোববার কলকাতায় মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুপার এইটের এই শেষ ম্যাচটি যারা জিতবে, তারাই উঠবে সেমি-ফাইনালে।
আসরে দুই দলই এখন পর্যন্ত হেরেছে একটি করে ম্যাচ। দুই দলেরই সেই হার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
সবশেষ ওই ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৭ উইকেটে ৮৩। সেখান থেকে ১৭৬ রানের পুঁজি গড়ে তারা। তবে বোলিংয়ে তারা পাত্তাই পায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জিতে যায় ১৬.১ ওভারেই।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শনিবার শ্রীকান্ত বললেন, ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বোলিং আক্রমণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেই।
“ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছক্কা মারার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তাদের বোলিং করবে কে? ইয়ান বিশপকে (সাবেক ফাস্ট বোলার ও ধারাভাষ্যকার) ফিরে এসে তাদের হয়ে বোলিং করতে হবে। তাদের টপ অর্ডারও ভীষণ বাজে, বিশেষ করে ওপেনাররা। (শিমরন) হেটমায়ার টপ অর্ডারের একজন ভালো খেলোয়াড়, সে ভারতীয় কন্ডিশনের সঙ্গেও অভ্যস্ত। তাদের ব্যাটিং লাইনআপ অনেক বেশি অধারাবাহিক। ভারত অনেক শ্রেয়তর দল।”
“শামার জোসেফের মতো খেলোয়াড়দের ভারত গুঁড়িয়ে দেবে। ব্র্যান্ডন কিং ও শেই হোপ মোটেও রান করতে পারেনি। ভারতের জন্য খুব সহজ জয় হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুধু ভালো স্পিনার আছে। তাদের মিডিয়াম পেসাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব সহজ। তারা কোনো মুভমেন্ট আদায় করে নিতে পারে না এবং তাদের কোনো গতি বা বাউন্সও নেই।
আসরে এখনও জ্বলে উঠতে পারেননি ওপেনার কিং। ছয় ম্যাচে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৫। আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক হোপ পরপর দুটি ফিফটি করেছেন নেপাল ও ইতালির বিপক্ষে। বাকি চার ম্যাচে ২০ রানও ছুঁতে পারেননি তিনি।
তিন নম্বরে যা একটু ভালো করছেন হেটমায়ার। ৩৬ বলে ৬৪, ৩২ বলে অপরাজিত ৪৬ ও ৩৪ বলে ৮৫ রানের তিনটি ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
শ্রীকান্তের মতে, ইডেনের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রথমে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়তে পারলেই হয়তো কিছুটা সুযোগ থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
“ভারতের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ একমাত্র হুমকি হতে পারে যদি প্রথমে ব্যাট করে তারা ২৪০ রান করতে পারে। ২০০ থেকে ২১০ রান করলেও হয়তো তাদের সুযোগ থাকতে পারে। কলকাতা ছোট মাঠ, যেখানে পিচ ব্যাটিং সহায়ক, যা দুই দলের জন্যই কাজে লাগবে। যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫টি ছক্কা মারে, তাহলে ভারত ছক্কা মারবে ১৮টি।”
এই মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে কখনও হারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচ খেলে জয় সবকটিতে। এখানেই ২০১৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওভারে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায় জিতে শিরোপা উল্লাস করেছিল ক্যারিবিয়ানরা।