Published : 17 Feb 2026, 05:18 PM
ইউভরাজ সিংয়ের সঙ্গে বার দুয়েক দেখা হয়েছে ইউভরাজ সিং সামরার। নামের মিল, নামের পেছনে গল্প, ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা, এসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে তখন। পরেরবার দেখা হলে ভারতের সাবেক তারকাকে আরেকটি কথাও বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন কানাডার প্রতিভাবান তরুণ, ‘টি-টোয়েন্টিতে আপনার সেঞ্চুরি না থাকলেও আমার আছে!’
সত্যিই তেমন কিছু বলবেন কি না কে জানে! তবে এখন প্রতিক্রিয়া প্রকাশের উপযুক্ত ভাষা খুঁজে হয়রান ইউভরাজ সিং সামরা। যার নামে তার নাম, যাকে আদর্শ মেনে বেড়ে উঠেছেন, তাকেই একটি জায়গায় ছাড়িয়ে গিয়ে অতিপ্রাকৃত অনুভূতি হচ্ছে কানাডার ওপেনারের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মঙ্গলবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৫ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন ইউভরাজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ আসরে সহযোগী কোনো দেশের ব্যাটসম্যানের প্রথম শতরান এটি।
এছাড়া বিশ ওভারের বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানও তিনিই। ইনিংসটি খেলেছেন তিনি ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে। কানাডার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই এত কম বয়সে সেঞ্চুরি নেই আর কারও।
গত জুনে আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজের ব্যাটের ধার দেখিয়েছিলেন ইউভরাজ। ১৫ বলে ফিফটি করে কানাডার রেকর্ড গড়েছিলেন এক ম্যাচে। আরেক ম্যাচে করেছিলেন ৩৫ বলে ৬৩। আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১৬ রান করেছিলেন প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে।
সেই ইউভরাজ প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। শতরানের পর চোখেমুখে উচ্ছ্বাসের আভা নিয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বললেন, বাছাই শেষেই এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
“সত্যি বলতে, আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার পর থেকেই মনের ভেতর এই ছবি এঁকেছি। প্রতিটি দিন, প্রত্যেকটি দিন স্বপ্ন দেখেছি এই মঞ্চে সেঞ্চুরি করব। বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে এসে সেটা করতে পেরে… এবং সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করে… সত্যিকার অর্থেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার।”
নামের জন্যই ইউভরাজকে নিয়ে কিছুটা আলোচনা আগেই ছিল এবারের বিশ্বকাপে। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে ভালোবেসে নামটি রেখেছেন তার বাবা, তাকে গড়ে তুলেছেন ক্রিকেটার হিসেবে, এসব গল্প তিনি শুনিয়েছেন বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় গ্রেট ইউভরাজ সিংয়ের সর্বোচ্চ স্কোর ৭৭, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সব মিলিয়েই তার সেঞ্চুরি নেই, তাকেই ছাড়িয়ে দেখেন কানাডার ইউভরাজ, এই অনুভূতি যখন জানতে চাওয়া হলো, এই তরুণের আবেগ মিশে থাকল প্রতিক্রিয়ায়।
“অবিশ্বাস্য লাগছে… আবেগের এত বেশি স্রোত বইছে ভেতরে, সত্যি বলতে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ছেলেবেলা থেকে ইউইভ রাজ সিংকে আদর্শ মেনেছি। তার সঙ্গে একই নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হতে পারাই স্পেশাল কিছু।”
এমন দিনে তার একটু আক্ষেপ বাবা মাঠে না থাকায়, “আজ যদি বাবা এখানে থাকত! তবে বাড়িতে বসে তিনি নিশ্চিতভাবেই দেখছেন। সেই সেঞ্চুরি তার জন্য…।”
বাবা তাকে সবসময়ই বলতেন ইউভরাজ সিংকে কপি করতে। কিন্তু ছেলে সবসময় বলতেন, “আমি নিজের মতোই হতে চাই।” বিশ্বকাপ শুরুর আগে একটি সাক্ষাৎকারে এই গল্পও করেছেন তিনি।
বাবা নিশ্চয়ই এখন খুশিই হবেন, কথা রেখেছে ছেলে!