Published : 23 Feb 2026, 08:59 AM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত হারতে পারে, এটা বুঝি ভুলতে বসেছিল ক্রিকেটবিশ্ব। দক্ষিণ আফ্রিকা শুধু সেই দুঃসাধ্য সাধনই করেনি, ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভারতকে স্রেফ বিধ্বস্ত করেছে তারা। বড় ব্যবধানে সেই জয়ের পর প্রোটিয়া নায়ক ডেভিড মিলার বলছেন, ভারতের দলটা অসাধারণ হলেও তাদেরক হারানো অসম্ভব নয়।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও এরকম একটা আবহ তৈরি হয়েছিল। ভারত হয়ে উঠেছিল অপ্রতিরোধ্য। একের পর এক ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে তারা পৌঁছে গিয়েছিল শিরোপার মঞ্চ। কিন্তু তাদের সেই অপরাজেয় যাত্রা মুখ থুবড়ে পড়েছিল আসল দিনটিতেই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গিয়েছিল তারা ফাইনালে।
এরপর শুরু হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের দাপুটে যাত্রা। ২০২৪ বিশ্বকাপে শিরোপা জিতে নিল তারা অপরাজিত থেকে। এবারের আসরেও গ্রুপ পর্বে ধরা দিল সব ম্যাচে জয়। অবশেষে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক ধারণ ক্ষমতার মাঠেই থেমে গেল ভারতের সেই অপরাজিত পথচলা। ৭৬ রানে ম্যাচ জিতে নিল প্রোটিয়ারা, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয়।
দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয়ের ভিত গড়ে দেন ডেভিড মিলার। শুরুতে তিন উইকেট হারানোর পর অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান নেমে দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণে ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস উপহার দেন। ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত এই ব্যাটসম্যান বললেন, ভারতকে হারাতে পারার বিশ্বাস তাদের ছিল।
“তাদেরকে হারানো যায়। ভারত অবিশ্বাস্য এক দল। তবে আমাদের জন্য এরকম একটি টুর্নামেন্টে মূল ব্যাপার হলো ছোট ছোট ব্যাপারগুলি ঠিকঠাক করা এবং কাজ শেষ করা।”
“আমরা পরিণত দল। ছেলেদের অনেকেই একসঙ্গে অনেক খেলেছে এবং চাপের মধ্যে এই ব্যাপারটি অনেক কাজে দেয়। ব্যাপারটি হলো স্রেফ নিজেদের পথে থাকা, কাজ শেষ করা নিশ্চিত করা এবং আরও বেশি কিছুর তাড়না থাকা।”
জয়ের ব্যবধান বড় হলেও মিলার বললেন, কাজটা খুবই কঠিন। ছোট ছোট ব্যাপারগুলি ভালোভাবে করার ব্যাপারটি তুলে ধরলেন তিনি আবার।
“কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। ভারতের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। তাদের বিপক্ষে অনেক খেলেছি এবং তাদের সঙ্গে বা আরও সীমানা আরও ছাড়িয়ে বললে, দুটি বড় দল যখন খেলে, তখন মূল ব্যাপারটি হলো ছোট কাজগুলিই লম্বা সময় ধরে ঠিকঠাক করতে পারা। চাপ আসবেই, তবে সেটাকে আলিঙ্গন করে কাটিয়ে উঠতে হয়।। দলীয় প্রচেষ্টার প্রয়োজন এখানে।”