Published : 17 Feb 2026, 03:17 PM
কানাডাকে হাতছানি দিচ্ছিল ইতিহাস। নিউ জিল্যান্ডকে চোখ রাঙাচ্ছিল অঘটন। শেষ পর্যন্ত সম্ভাবনা আর শঙ্কার নেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত খুব একটা জমল না। ইউভরাজ সিং সামরার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল কানাডা। কিন্তু তাকে ছাপিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে নিউ জিল্যান্ডকে অনায়াসেই জিতিয়ে দিলেন রাচিন রাভিন্দ্রা আর গ্লেন ফিলিপস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডাকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করল নিউ জিল্যান্ড।
চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে তাকে হতাশ করেননি ড্যারিল মিচেলের নেতৃত্বে সতীর্থরা।
চেন্নাইয়ে মঙ্গলবার কানাডা ২০ ওভারে তোলে ১৭৩ রান। সেখানে ১১০ রানই আসে ইউভরাজ সিংয়ের ব্যাট থেকে।
বিশ ওভারের বিশ্বকাপের ১০ আসরে সহযোগী দেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটি। ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানও তিনিই, যার নাম রাখা হয়েছে ভারতীয় গ্রেট ইউভরাজ সিংয়ের নামে।
কানডা পরে বোলিংয়ে ২ উইকেট আদায় করে নেয় ৪ ওভারের মধ্যেই। তবে রাভিন্দ্রা ও ফিলিপস ৭৩ বলে ১৪৬ রানের জুটিতে শেষ করে দেন ম্যাচ।
৩৯ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন রাভিন্দ্রা। ৩৬ বলে ৭৬ রান করে ম্যাচের সেরা ফিলিপস।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা কানাডা চমকে দেয় শুরুতে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, চমকে দেন ইউভরাজ। সহযোগী দেশগুলির লড়াইয়ে তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের নমুনা দেখা গেছে আগেও। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে কিউই বোলারদের সামনে এমন দাপুটে ব্যাটিংয়ে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার।
তার সঙ্গী অধিনায়ক দিলপ্রিত বাজওয়া কেবল একটা প্রান্ত আগলেই ছিলেন। রানের গতি সেভাবে বাড়াতে পারেননি।
উদ্বোধনী জুটিতে ৮৪ বলে ১১৬ রান যোগ করেন দুজন। সেখানে ৩৯ বল খেলে দিলপ্রিত করতে পারেন মোটে ৩৬ রান।
রান বাড়ানোর কাজটি মূলত ইউভরাজই করেন। প্রথম ওভারে দুটি চার দিয়ে শুরু করলেও পরে একটু সময় নেন তিনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জ্বলে ওঠেন আবার। এরপর ছুটতে থাকেন অপ্রতিরোধ্য গতিতে। শেষ পর্যন্ত থামেন শেষ ওভারে।
ফিফটি করেন তিনি ৪৬ বলে। সেখান থেকে শতরান পর্যন্ত যেতে বল খেলেন স্রেফ ২২টি।
কানাডার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান তিনিই।

তিনে নামা নাভনিত ধালিওয়াল আউট হয়ে যান একটি ছক্কা মেরেই। শেষ দিকের দাবি মেটাতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। কানাডার স্কোর তাই বড় হয়নি আরও।
রান তাড়ায় অ্যালেনের শুরুর ঝড়ে প্রথম ২ ওভারে ২৯ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। তৃতীয় ওভারে টিম সাইফার্ট বিদায় নেন ১০ বলে ৬ রান করে। পরের ওভারেই শিভাম শার্মার দুর্দান্ত ক্যাচে থামায় বিপজ্জনক অ্যালেনকে (৮ বলে ২১)।
কানাডা তখন ছিল তুমুল উজ্জীবিত। তবে রাভিন্দ্রা ও ফিলিপস পেশাদার ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম নিয়ে ফেলেন। সরে যায় চাপ। রান বাড়তে থাকে তরতরিয়ে।
দলের জন্য সুখবর হয়ে আসে রাভিন্দ্রার ফর্মে ফেরা। ১৪ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পান তিনি। ফিলিপস ছিলেন বরাবরের মতোই বিধ্বংসী চেহারায়। ২২ বলে ফিফটি করেন তিনি। সেখানেই ছক্কা ছিল ৫টি। পরে যোগ করেন আরও একটি।
দুজনের ঝড়ে ম্যাচ শেষ হয়ে যায় ২৯ বল আগেই।
এই গ্রুপ থেকে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
কানাডা :২০ ওভারে ১৭৩/৪ (ইউভরাজ ১১০, দিলপ্রিত ৩৬, নাভনিত ১০, কার্টন ২, হার্শ ৩*, হেলাইগার ৮*, হেনরি ৪-০-২৮-১, ডাফি ৪-০-২৫-১, জেমিসন ৪-০-৪১-১, নিশাম ৪-০-৩৮-১, ম্যাককননি ৩-০-৩৪-০, ফিলিপস ১-০-৬-০ )।
নিউ জিল্যান্ড : ১৫.১ ওভারে ১৭৬/২ (সাইফার্ট ৬, অ্যালেন ২১, রাভিন্দ্রা ৫৯*, ফিলিপস ৭৬*; জাসকারান ২.১-০-৩১-০, হেলাইগার ৪-০-৪২-১, সাদ ৩-১-২৯-১, দিলপ্রিত ২-০-২৬-০, আনশ ২-০-২৪-০, শিভাম ২-০-২৩-০)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: গ্লেন ফিলিপস।