জিম্বাবুয়েকে নিয়ে গর্বিত মাসাকাদজা, খুশি বাংলাদেশের জয়েও

বাংলাদেশের কাছে হারলেও বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা মাথা উঁচু রাখতে পারে, বলছেন তাদের সাবেক অধিনায়ক ও বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

আরিফুল ইসলাম রনিআরিফুল ইসলাম রনিব্রিজবেন থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2022, 02:39 PM
Updated : 30 Oct 2022, 02:39 PM

গ্যাবায় ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ের ড্রেসিং রুমে যাওয়ার পথ খুঁজছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। পুরনো পরিচিত বাংলাদেশের সাংবাদিককে দেখে থমকে দাঁড়ালেন। হাসিমুখে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন। খেলা ছাড়ার পর এখন তিনি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ক্রিকেট পরিচালক। দলের বিশ্বকাপ অভিযানেরও সঙ্গী তিনি। অভিনন্দন জানালেন বাংলাদেশের দারুণ জয়ের জন্য। জিম্বাবুয়ের হারের জন্য সমবেদনাও পেলেন।

স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীদের কেউ সেখানে তখন নেই। দুয়ারে দাঁড়িয়ে তাই অপেক্ষা করতে হলো মাসাকাদজাকে। তার সঙ্গে আলাপ জমানোর খানিকটা ফুরসতও মিলল।

‘ড্রেসিংরুমে গিয়ে ছেলেদের কি বলবেন?’ প্রশ্ন শুনে মাসাকাদজা মনে হলো একটু দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। একটু সময় নিয়ে বললেন, “আমি জানি ওদের এখন কতটা খারাপ লাগছে। বড় একটা সুযোগ ছিল। তবে ক্রিকেট খেলায় অনেক কিছুই হয়। ওরা অসাধারণ খেলছে এই বিশ্বকাপে। ওদেরকে এটাই বলব যে মাথা উঁচু করে রাখতে পারো।”

জিম্বাবুয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার মাসাকাদজা। দলের ব্যাটিং ভরসা ছিলেন অনেক দিন। নেতৃত্বও দিয়েছেন কয়েক দফায়। এখন ক্রিকেট প্রশাসনে থেকে চেষ্টা করছেন দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে।

ডেভ হাটনকে জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ফেরানোর উদ্যোগে ভূমিকা ছিল মাসাকাদজার। কিংবদন্তি এই ব্যাটসম্যান গত জুনে দায়িত্বে ফেরার পর জিম্বাবুয়ের দলের উন্নতি যেমন দৃশ্যমান, তেমনি শরীরী ভাষাই বদলে গেছে। মাসাকাদজার কণ্ঠে সেই তৃপ্তি।

“ছেলেরা যেভাবে খেলছে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারতাম না। এত দূর এসেছে, পাকিস্তানকে হারিয়েছে, আজকেও ভাগ্য সহায় হলে জয়টা আসত। সামনেও ওরা ভালো করবে, এই বিশ্বাস আমাদের আছে।”

ততক্ষণে নিরাপত্তাকর্মী একজন এসে দরজা খুলে দিয়েছেন। সিঁড়ি ধরে মাসাকাদজা নিচে নামতেই দেখতে পেলেন লিফট থেকে বের হয়ে উল্টো দিকে যাচ্ছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ‘হেই মোসা… মোসা’ বলে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন। ফিরে তাকিয়ে তাকে দেখে মোসাদ্দেকের মুখেও ফুটে উঠল চওড়া হাসি। ম্যাচের শেষ ওভার নিয়ে মজা করলেন দুজন, মেতে উঠলেন খুনসুটিতে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে মাসাকাদজার পরিচয় খুবই ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের সঙ্গে বহুবার তো এসেছেনই, বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন বহু ম্যাচ। ব্যাট হাতে ম্মরণীয় কিছু পারফরম্যান্সও তার আছে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের বিপক্ষে। অনেকবার এই দেশে আসায় এখানে তার বন্ধুর অভাব নেই।

বিদায় নিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেলেন বাংলাদেশের প্রতি তার সেই ভালোবাসার কথা।

“অবশ্যই আমি সবকিছুর আগে জিম্বাবুয়ের জয় চাই। তবে বাংলাদেশের জয়েও আমি খুশি হই। ওখানে আমার এত এত বন্ধু, এত স্মৃতি… বাংলাদেশের জন্য শুভ কামনা।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক