তাইজুলের ফর্ম নিয়ে প্রবল দুর্ভাবনায় কোচ
দেশের সফলতম টেস্ট বোলার সবশেষ চার টেস্টে উইকেট নিতে পেরেছেন মাত্র পাঁচটি, তার ফর্মহীনতায় ভুগছে দল।
জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র টেস্টে রেকর্ডগড়া ৭ উইকেট। এরপর থেকে ঠিক চেনা ছন্দে নেই তাইজুল ইসলাম। শুকিয়ে গেছে উইকেটের জোয়ার। বোলিংয়েও দেখা মিলছে না প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার মতো কোনো উপাদান। অভিজ্ঞ স্পিনারের ফর্মহীনতা ভাবাচ্ছে প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে।
গোটা ক্যারিয়ারেই তাকে ফর্মহীনতায় খুব একটা ভুগতে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে স্বয়ংক্রিয় পছন্দ তিনি। স্পিন বিভাগে তার উপস্থিতি বাংলাদেশকে সবসময়ই দেয় বাড়তি সুবিধা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের কোনো ইনিংসেই তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী স্পিনার।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৮.১ ওভার হাত ঘুরিয়ে তাইজুলের শিকার ছিল স্রেফ ২ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তার বিপক্ষে ওয়ানডের গতিতে রান তোলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে এক ওভারে চার বলের ঝলকের বাইরে বাকি ২৫ ওভার তেমন ধার ছিল না তার বোলিংয়ে।
শুধু মিরপুর নয়, এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ছন্দে ছিলেন না তাইজুল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের তিন ইনিংসে তার শিকার ছিল মোটে দুই উইকেট। পরে আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৯ ওভার বোলিং করে পান স্রেফ ১ উইকেট।
সব মিলিয়ে সবশেষ চার টেস্টে তার উইকেট মাত্র পাঁচটি। এক যুগের টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই এতটা উইকেটখরায় পড়েননি তাইজুল। তাই স্বাভাবিকভাবেই সিলেটে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে আলোচনার বড় অংশে বাঁহাতি স্পিনার।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তাইজুলকে নিয়ে দুর্ভাবনার কথা লুকাননি বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও।
“এটা সত্যিই বড় উদ্বেগের বিষয়, কারণ দলের মূল স্পিনারদের সে (তাইজুল)। তাই এমন পরিস্থিতি অবশ্যই দুর্ভাবনার। ওর নিজের মধ্যেও নিশ্চয়ই এমন ভাবনা কাজ করছে। ওর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, দলের মতো সে নিজেও এটা নিয়ে ভাবছে। কারণ সে আমাদের দলের অন্যতম বড় অস্ত্র।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে একাদশে তাইজুলের জায়গা নিয়েও। টেস্টে ঘরের মাঠে তাকে বাইরে রেখে খেলার সবশেষ ঘটনা ১১ বছরের বেশি সময় আগে। ২০১৫ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের একাদশে ছিলেন না বাঁহাতি স্পিনার।
এবার সিলেটে তাইজুলকে বাইরে রেখে দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানকে নিয়ে খেলবে কি না বাংলাদেশ, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি সিমন্স।
“বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। একটু পরই যখন আমরা আলোচনায় বসব, তখন এটি নিয়ে গুরুত্ব দিয়েই ভাবার আছে।”
তাইজুল থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের একাদশে একটি পরিবর্তন অনিবার্য। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় ছিটকে গেছেন মুমিনুল হক। তার অনুপস্থিতিতে একাদশে ফিরতে পারেন আঙুলের চোটে মিরপুরে খেলতে না পারা মুশফিকুর রহিম।
তবে ব্যাটিং অর্ডারে দীর্ঘ দিন ধরে পাঁচ নম্বরে থিতু মুশফিক। তাই মুমিনুলের তিন নম্বর জায়গাটি থাকছে ফাঁকা। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের জায়গায় কে নামতে পারেন, সেই ধারণা দিয়ে রাখলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
“ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাই বেশি। সম্ভবত অধিনায়ককেই (নাজমুল হোসেন শান্ত) তিনে ব্যাট করতে দেখা যাবে।”
ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের সম্মিলিত ব্যর্থতায় মিরপুর টেস্টে হেরেছে বাংলাদেশ। সিরিজ ড্র করতে সিলেটে তাই ড্রয়ের বিকল্প নেই। পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতেও জিততে হবে ম্যাচ।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্মে একদমই নেই আশার আলো। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর তিন সংস্করণ মিলিয়ে সাত ম্যাচের একটিও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতার সুবর্ণ সুযোগ হারিয়ে ড্র করেছে তারা।
দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে ব্যাটিং ব্যর্থতার দিকটিই বড় করে দেখছেন সিমন্স।
“ডারউইন টেস্টের পর থেকে আমরা ভালো করতে পারিনি, বিশেষ করে ব্যাটিংটা একদমই ভালো হয়নি। দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নামলে আমরা কী করতে পারি, সেটা ডারউইনে দেখিয়েছিলাম। এরপর যে সংস্করণেই খেলেছি, ব্যাটিং আশানুরূপ হয়নি।”
তবে মিরপুর টেস্টে শুধু ব্যাটিং নয়, বাংলাদেশের ব্যর্থতার বড় কারণ স্পিনারদের নিষ্প্রভতা। সফরকারী তিন স্পিনার রস্টন চেইস, জোমেল ওয়ারিক্যান ও জশুয়া বিশপ মিলে নেন বাংলাদেশের ১৬ উইকেট। বিপরীতে বাংলাদেশের তিন স্পিনার তাইজুল, মিরাজ ও নাঈমের শিকার স্রেফ ৮টি।
ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ স্পিনারদের বিপরীতে লড়াই জমাতে না পারার বিষয়টিও মেনে নিয়েছেন সিমন্স। তবে দলের স্পিনারদের সামর্থ্যে আস্থা হারাচ্ছে না বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
“আমাদের স্পিনারদের অন্য কোনো দল এভাবে ছাপিয়ে গেছে, এমনটা খুব বেশি দেখিনি। আমরা ভালো বোলিং করতে পারিনি, এটা সত্যি এবং আমরা তা উপলব্ধি করতে পারছি। দলের আলোচনায় আমরা তা মেনে নিয়েছি।
“তবে এমন কিন্তু সবসময় ঘটে না। স্পিনাররা আমাদের শক্তির জায়গা। বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান পেসার এসেছে ঠিকই, তবে স্পিনও অন্যতম শক্তি। এখানেই শেষ ম্যাচে শেষ দিনে এই দুই স্পিনারই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছিল। তাই স্পিনারদের ওপর এখনও আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।”
সিলেট টেস্ট শুরু বৃহস্পতিবার।
