হাসান মাহমুদের যুগল আনন্দ
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অংশ হতে পেরে ও বিশ্বকাপ অভিষেকে ভালো করে উচ্ছ্বসিত তরুণ এই ফাস্ট বোলার।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তাসকিন আহমেদ। ম্যাচের সেরা তিনি। আলোর প্রায় সবটুকু তাকে ঘিরেই। কিন্তু একটু পাশে তাকালেই দেখা যাবে দ্যুতিময় আরেকজনকে। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন তিনিও। হাসান মাহমুদ!
তাসকিনের মতো দীর্ঘ ক্যারিয়ার অবশ্য হাসানের নয়। বাংলাদেশ দলে এখনও তিনি অনেকটা নবীন। অভিজ্ঞতায় যেমন, তেমনি বয়সেও। দেশের জার্সিতে এটি তার স্রেফ সপ্তম টি-টোয়েন্টি। বিশ্বকাপে এটিই তার অভিষেক ম্যাচ। বিশ্ব আসরে শুরুর ম্যাচ রাঙিয়ে যেমন তিনি উচ্ছ্বসিত, তেমনি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অংশ হতে পেরেও দারুণ খুশি।
ক্যারিয়ারের শুরুর এই সময়টায় নিজের সেরাটাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকের ক্ষেত্রেই বারবার হয়। হাসানের ক্ষেত্রেও তা সত্যি। তিন-চার উইকেট তিনি নিয়ে নেননি। তবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সোমবার ৪ ওভারে ১৫ রানে ২ উইকেট পরিসংখ্যানে তার যেমন সেরা বোলিং, তেমনি বোলিংয়ের মানের দিক থেকেও নিশ্চিতভাবেই সেরা।
বেলেরিভ ওভালে সোমবার ইনিংসের প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদের জোড়া শিকারের পর দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আনা হয় হাসানকে। চাপটা তিনি আলগা হতে দেননি। স্রেফ ২ রান দেন ওই ওভারে, ৫টিই ছিল ডট বল।
পাওয়ার প্লের ভেতরই তিনি পেতে পারতেন প্রথম উইকেটের দেখা। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে তার বলেই কলিন আকারম্যানের ক্যাচ ছাড়েন ইয়াসির আলি। ওই ক্যাচটি ঠিকঠাক হলে হয়তো ম্যাচ এতদূর গড়াতই না। ১৬ রানে জীবন পেয়ে এই ডাচ ব্যাটসম্যান খেলেন ৪৮ বলে ৬২ রানের ইনিংস।
ত্রয়োদশ ওভারে আক্রমণে ফেরার পরও তার বলে পড়ে ক্যাচ। এবার সহজ ক্যাচ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ওই ওভারেই অবশেষে স্বাদ পান সাফল্যের। টিম প্রিঙ্গলকে বোল্ড করেন। ওভারে কোনো রানই দেননি।
নিজের শেষ ওভারে দেখা পান আরেকটি উইকেটের।
শুধু এই ম্যাচেই নয়, অস্ট্রেলিয়াতে আসার আগে ত্রিদেশীয় সিরিজেও তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। চোট কাটিয়ে দলের ফেরার পর প্রথম ম্যাচে একটু ছন্দ পেতে সমস্যা হয়েছিল বটে। তবে পরের দুই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা বয়ে আনলেন বিশ্বকাপেও।
ম্যাচের পর অল্প কথায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন নিজের বোলিং নিয়ে সন্তুষ্টির কথা।
“এখনও পর্যন্ত ভালোই হচ্ছে। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শুরু করেছিলাম, ভালো হচ্ছে। প্রথম ওভার থেকে তাসকিন ভাই ম্যাচের ‘ফ্লো’ ধরেছিল। পরে আমি নিয়েছিলাম। খুব ভালো লাগছিল।”
এমনিতে উইকেট উদযাপনে খুব একটা উচ্ছ্বাসের প্রকাশ বা বাঁধনহারা উদযাপন করতে তাকে দেখা যায় না। তবে এই ম্যাচ ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। নিজের উইকেট পাওয়ার আনন্দে তো বটেই, ক্যাচ নিয়েও তাকে দেখা গেছে মন খুলে উদযাপন করতে।
নিজের এমন রূপ নিয়ে তিনি ছোট্ট করে জানালেন বড় উপলক্ষের কথা, “প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছি, অবশ্যই রোমাঞ্চিত ছিলাম।”
এই ম্যাচে তার বোলিং ফিগার যেমন দুর্দান্ত, তেমনি ছিল বোলিংয়ের ধার। মসৃণ ও জটিলতাহীন বোলিং অ্যাকশন তার বড় শক্তির জায়গা, গতি তার সহজাত সম্পদ। সুইং করাতে শিখছেন। মাথা খাটিয়ে বোলিং করার ছাপও রাখছেন। সঙ্গে নিজের লাইন-লেংথ, স্কিল আরও শাণিত করছেন অনুশীলনে।
২৩ বছর বয়সী এই পেসারের ওপর তাই দলের আস্থাও যথেষ্ট। ছোট্ট ক্যারিয়ারই বারবার হোঁচট খেয়েছে চোটের কারণে। কিন্তু যখনই ফিট হয়ে উঠেছেন, তাকে সরাসরি দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তিনিও আস্থার প্রতিদান দিতে শুরু করেছেন।
যদিও তার পরীক্ষার এখনও অনেক বাকি আছে। বহু চ্যালেঞ্জ তার সামনে আসবে। তবে এখনই তাকে মনে হচ্ছে এই সংস্করণে দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি নিজেও দারুণ উপভোগ করছেন এটি। তবে মাত্রই যে শুরু, সেটিও তিনি জানেন। তাই শোনালেন স্বপ্নের কথা।
“আমার খুবই ভালো লাগছে যে তাসকিন ভাই, মুস্তাফিজ ভাই, উনাদের সঙ্গে বোলিং করছি। ভালো লাগছে। আমরা চেষ্টা করব এই (পেস) ইউনিটকে ধরে রাখার। সামনে বাংলাদেশকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে।”
