‘প্রকাশ্যে সমালোচনা’ করায় কুমিল্লা কোচ সালাউদ্দিনের শাস্তি

সংবাদ সম্মেলনে আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা করায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচকে বড় অঙ্কের জরিমানা করল বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Jan 2023, 04:49 PM
Updated : 15 Jan 2023, 04:49 PM

আম্পায়ারিং আর এডিআরএস নিয়ে প্রশ্নে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, “কিছু বলতে পারব না… সাসপেন্ড করে দেবে…।” না বলতে চেয়েও অবশ্য বারংবার প্রশ্নে বেশ কিছু কথা বলেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে করা মন্তব্যের জন্য শেষ পর্যন্ত সাজা পেতেই হলো তাকে।

বিসিবির আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে সালাউদ্দিনকে। পাশাপাশি তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে বিপিএলের সফলতম কোচের নামের সঙ্গে।

আচরণবিধির ২.৭ ধারা অনুযায়ী লেভেল ২ ভাঙার অভিযোগ আনা হয় সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য এই ধারায় আছে, ‘ম্যাচের কোনো ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা ও অনুপযুক্ত মন্তব্য করা।’

রোববার রাতে বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাঠের দুই আম্পায়ার, তৃতীয় আম্পায়ার ও চতুর্থ আম্পায়ার এই অভিযোগ আনেন সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তিনি দায় স্বীকার করে ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পালের দেওয়া শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

চট্টগ্রামে শনিবারের এই ম্যাচে কুমিল্লার রান তাড়ায় চতুর্দশ ওভারে একটি আউটকে ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত। চট্টগ্রামের ইফতিখার আহমেদের বলে কুমিল্লার জাকেরকে এলবিডব্লিউ দেওয়া হলে রিভিউ নেন ব্যাটসম্যান। রিভিউয়ে দেখা যায়, বলের প্রায় সবটুকু অংশই পিচ করেছে স্টাম্প লাইনের বাইরে। সামান্য একটু অংশই কেবল লাইন স্পর্শ করেছে। 

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, আউটের জন্য বলের বেশির ভাগ অংশ থাকতে হয় লাইনে। এটি তাই ‘নট আউট’ হওয়ার কথা। তবে টিভি আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্তই রেখে দেন। এটা নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক মেইলে জানানো হয়, বিপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, বলের কোনো একটুৃু অংশ লাইন স্পর্শ করলেই সেটিকে 'ইন লাইন' বলে ধরে নেওয়া হবে।

বিপিএলে আম্পায়ারিং বিতর্ক চলছে এবার শুরু থেকেই। ডিআরএসের সব প্রযুক্তি না থাকায় অনেক সীমাবদ্ধতা সঙ্গে নিয়ে একটি রিভিউ রাখা হয়েছে, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে এডিআরএস। এটা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে নিত্য।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিনের কাছে প্রশ্ন ছুটে যায় এটা নিয়ে। তার কথায় ফুটে উঠেছিল একই সঙ্গে অসন্তোষ ও অসহায়ত্ব।

“এই ‍মুহূর্তে আমি আসলে কিছু বলতে পারব না। এটা নিয়ে তো বিতর্ক অনেক চলছে। আমি শুরুতেই বলেছিলাম এক-দুইটা সিদ্ধান্তে আপনি ম‌্যাচ হেরে যাবেন। সিদ্ধান্তগুলো যদি আরেকটু ভালো হয়, আরেকটু চিন্তা ভাবনা করে দেয় তাহলে ভালো। খালি চোখে যেটা আমরা দেখছি নট আউট, সেটা থার্ড আম্পায়ার আউট দিয়ে দিচ্ছে। কী করতে পারি? আমাদের তো কিছু করার নেই। আমরা মাঠে চিল্লাচিল্লি করি, এটা কি চান?”

“এমনিই সাসপেন্ড করে দেবে। ঠিক আছে! যেহেতু খেলা চলছে। প্রতিবাদ করেও তো লাভ নেই। আমরা লিখিত দেব বা প্রতিবাদ করব যে, সেটা করেও লাভ নেই। কোনো লাভ হবে না। আসলে কিছু করার নেই। হাত-পা বাঁধা আছে। যা হবার তাই হবে আর কী!”

এডিআরএস নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই সংশয় প্রকাশ করে আসছিলেন সালাউদ্দিন। এটি নিয়েও তিনি আবার নিজের মতামত জানান এ দিন।

“এডিআরএস থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো আমার মনে হয়। আম্পায়ার যেটা দিয়ে দেবে, সেটা (রেখে) দেওয়াই ভালো। এটা তো একেবারে লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছে, এমন না যে...। আমার কাছে মনে হয় এক-দুইটি সিদ্ধান্ত...প্রথম ম্যাচেও একটা সিদ্ধান্ত খারাপ হয়েছে, আজকেও। এমন ডিআরএস থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।”

তবে শুধু সালাউদ্দিনই নয়, রুংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান, খুলনা টাইগার্সের ডাচ পেসার পল ফন মিকেরেনও এডিআরএস নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক