মোসাদ্দেকের স্পিন ঝলকে সমতায় বাংলাদেশ

ঝড়ো ফিফটি করলেন লিটন দাস, জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 02:50 PM
Updated : 31 July 2022, 02:50 PM

ম্যাচের শুরুতেই নড়েচড়ে বসার জোগাড়, প্রথম ওভারে বল হাতে মোসাদ্দেক হোসেন! তবে সেটি কেবল চমকের শুরু। মোসাদ্দেক বিস্ময় উপহার দিলেন বোলিং দিয়েই। ম্যাচের বয়স ৭ ওভার হওয়ার আগেই তার নামের পাশে উইকেট ৫টি! বাংলাদেশের জয়ও যেন লেখা হয়ে গেল সেখানেই। শুরুতেই খাদে পড়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ে পরে আর চেষ্টা করেও পারল না লড়াইয়ে ফিরতে।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ।

ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে আগের ১১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কখনোই এক ম্যাচে ২ উইকেটের বেশি নিতে পারেননি মোসাদ্দেক। এই সংস্করণে ১৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার মোট উইকেট ছিল স্রেফ ৭টি। সেই তিনিই এবার নতুন বলে চার ওভারের টানা স্পেলে ২০ রানে নেন ৫ উইকেট।

মোসাদ্দেকের ঝলকের পর সিকান্দার রাজার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ে যেতে পারে ১৩৫ পর্যন্ত। লিটন দাসের ঝড়ো ফিফটির পর বাংলাদেশ সেই রান পেরিয়ে যায় ১৫ বল বাকি রেখে।

মোসাদ্দেকের স্পিনে জিম্বাবুয়ের আঁধারে ডোবার শুরু ম্যাচের প্রথম বল থেকেই। বেশ বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন রেজিস চাকাভা। প্রথম ওভারের শেষ বলেই আরেকটি বড় ধাক্কা। আগের দিন ফিফটি করা ওয়েসলি মাধেভেরেও আউট অনেক বাইরের বলে আলগা শট খেলে।

টি-টোয়েন্টিতে দেশের হয়ে প্রথমবার বোলিং ওপেন করে প্রথম ওভারেই দুই উইকেট মোসাদ্দেকের। বাংলাদেশের আর কেউ প্রথম ওভারে নিতে পারেননি জোড়া উইকেট।

এমন দুর্দান্ত কোনো বোলিং অবশ্য তিনি করেননি। রাতারাতি মুত্তিয়া মুরালিধরন, সাকলায়েন মুশতাক হয়ে ওঠেননি। তবে ক্রিকেটে যে রকম হয়, দিনটিই ছিল মোসাদ্দেকের। তার স্পিন জালে ধরা পড়তে থাকে একের পর এক বড় শিকার।

রিভার্স সুইপ করার চেষ্টায় স্লিপে ধরা পড়েন ক্রেইগ আরভিন। ফিরতি ক্যাচ দেন শন উইলিয়ামস। মিল্‌টন শুম্বার সুইপে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ক্যাচে পূর্ণ হয় মোসাদ্দেকের পাঁচ।

বোলিং ওপেন করে এই প্রথম ৫ উইকেট নিতে পারলেন বাংলাদেশের কেউ। তার ২০ রানে ৫ উইকেটের চেয়ে ভালো বোলিং আছে কেবল ইলিয়াস সানির (৫/১৩)।

জিম্বাবুয়ের রান তখন ৫ উইকেটে ৩১। রান রেট পাঁচেরও নিচে!

চারে নামা সিকান্দার রাজা তখনও টিকে ছিলেন। অসাধারণ ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান আবারও হয়ে উঠলেন দলের ত্রাতা। আগের দিন ২৬ বলে ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ছিলেন ম্যাচের নায়ক। এ দিন পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে বেছে নিতে হয় ভিন্ন পথ। দলকে বড় বিপর্যয় থেকে লড়াইয়ের পথে ফেরান তিনি। সঙ্গী হিসেবে পান রায়ান বার্লকে।

এই দুজনের জুটিতে শতরান পেরিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। দুজনে যোগ করেন ৬৫ বলে ৮০ রান।

আগের ম্যাচের মতো বাংলাদেশের দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম এ দিনও খুব একটা প্রভাব রাখতে পারেননি। সেই তুলনায় যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিলেন আরেক পেসার, দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ১৬ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা হাসান মাহমুদ।

অষ্টাদশ ওভারে বার্লকে (৩১ বলে ৩২) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদই।

রাজা ফিফটিতে পা রাখেন ৪৪ বলে। তবে এ দিন আর শেষ সময়ে তাকে ঝড় তুলতে দেয়নি বাংলাদেশ। মুস্তাফিজের স্লোয়ারে বল আকাশে তুলে মুনিম শাহরিয়ারের হাতে ধরা পড়েন তিনি ৫৩ বলে ৬২ রান করে।

শেষ ওভারে শরিফুলের বলে লুক জঙ্গুয়ের ছক্কায় জিম্বাবুয়ে যেতে পারে ১৩৫ পর্যন্ত।

তবে ওই স্কোর নিয়ে লড়াই করা কঠিন। প্রথম ম্যাচের মতো অতটা না হলেও উইকেট ছিল মোটামুটি ব্যাটিং সহায়কই। জিম্বাবুয়ের নাটকীয় কিছু করার আশা অনেকটা শেষ করে দেন লিটন।

মুনিম যদিও ব্যর্থ হন আবারও। ৮ বলে ৭ করে বোল্ড হয়ে যান তিনি রিচার্ড এনগারাভার স্লোয়ারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিং করে জাতীয় দলে আসা ওপেনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও পুরোপুরি ব্যর্থ। ৫ টি-টোয়েন্টি খেলে তার মোট রান ৩৪।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করে জাতীয় দলে ফেরা এনামুল হকও ব্যর্থ আরও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে। তার ১৬ রান আসে ১৫ বলে।

তারপরও রান তাড়ায় বাংলাদেশকে নড়বড়ে মনে হয়নি, কারণ লিটন দাসের ব্যাটে ছিল স্ট্রোকের ছটা। মুগ্ধতা জাগানিয়া সব শটে ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন তিনি স্রেফ ৩০ বলেই।

আম্পায়ারের সংশয়পূর্ণ সিদ্ধান্তে তার ইনিংস থামে ৫৬ রানে (৩৩ বলে)। সিরিজে রিভিউ নেই বলে লিটন পারেননি নিজেকে রক্ষার দাবি জানাতে। তবে বাংলাদেশকে বিপদে পড়তে হয়নি। আফিফ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান অনায়াসেই।

২৮ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ, ২১ বলে ১৯ রানে শান্ত।

মোসাদ্দেককে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি। বোলিং দিয়েই তো তিনি নায়ক হয়ে গেছেন ম্যাচের চিত্রনাট্যে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (চাকাভা ০, আরভিন ১, মাধেভেরে ৪, রাজা ৬২, উইলিয়ামস ৮, শুম্বা ৩, বার্ল ৩২, জঙ্গুয়ে ১১*, মাসাকাদজা ৬, এনগারাভা ০*; মোসাদ্দেক ৪-০-২০-৫, মেহেদি ৩-০-১০-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৩০-১, শরিফুল ৪-০-৩৭-০, হাসান ৪-০-২৬-১, আফিফ ১-০-১২-০)

বাংলাদেশ: ১৭.৩ ওভারে ১৩৬/৩ (লিটন ৫৬, মুনিম ৭, এনামুল ১৬, আফিফ ৩০*, শান্ত ১৯*; মাসাকাদজা ৩-০-২২-০, এনগারাভা ৩-০-২৩-১, চিভাঙ্গা ১.৩-০-১৯-০, উইলিয়ামস ২-০-১৩-১, বার্ল ১-০-১২-০, রাজা ৩-০-১৮-১, মাধেভেরে ৩-০-১৮-০, জঙ্গুয়ে ১-০-৭-০)

ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোসাদ্দেক হোসেন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক