‘কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না’, ব্যাটিং নিয়ে আক্ষেপ বাংলাদেশ অধিনায়কের

অস্ট্রেলিয়ার কাছে দুই ম্যাচেই হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাটিং ব্যর্থতাকে দায় দিলেন নিগার সুলতানা।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 March 2024, 10:19 AM
Updated : 24 March 2024, 10:19 AM

সিরিজ শুরুর আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানার কণ্ঠ। গত কিছুদিনে যে উন্নতির ধারাবাহিকতা, সেই পথ ধরে ছুটে অস্ট্রেলিয়াকেও ভড়কে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়ার পর এখন তার কথায় মিশে থাকছে শুধু আক্ষেপ আর হতাশা। পরাজয়ের জন্য তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন দলের ব্যাটারদের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ের আশা নিয়ে সিরিজ শুরু করলেও তেমন কিছু করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পরে ব্যাট করে ৯৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে বড় ব্যবধানে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে রোববার আগে ব্যাট করে তারা তুলতে পারে কেবল ৯৭ রান। প্রথম ম্যাচে ১১৮ রানে জয়ী অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের জয়ে নিশ্চিত করে ফেলে সিরিজ জয়ও।

ফিফটি করা তো বহুদূর, কোনো ম্যাচে ৩০ ছুঁতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার। দুই ম্যাচে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কেবল তিন জন করে ব্যাটা। দুই ম্যাচে ফিফটি জুটি হয়নি একটিও।

দলের অভিজ্ঞ ব্যাটাররা হতাশ করেছেন প্রবলভাবে। অসুস্থতার কারণে শামিমা সুলতানা না থাকায় টপ অর্ডারের মূল ভরসা ফারজানা হক। ওয়ানডেতে দুটি সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার প্রথম ম্যাচে ফিরেছেন শূন্যতে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রান করতে বল খেলেছেন ৫২টি। শামিমার জায়গায় সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ সোবহানা মোস্তারি (১০ ও ৫)। দুই ম্যাচে মুর্শিদা খাতুনের রান মোট ১৫।

ব্যর্থ সেই ব্যাটারদের তালিকায় অধিনায়ক নিজেও আছেন। প্রথম ম্যাচে ২৭ রান করে তিনি রান আউট হয়েছিলেন দৃষ্টিকটুভাবে। পরের ম্যাচে ফিরেছেন ১ রানেই।

অভিজ্ঞ রিতু মনি ও ফাহিমা খাতুন বা তরুণ স্বর্ণা আক্তার, চূড়ান্ত ব্যর্থ সবাই।

উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন বটে। বেশ ধীরগতির পিচ, বাউন্স কিছুটা অসম, টার্ন তো আছেই। তবে এই ধরনের উইকেটে খেলেই তো অভ্যস্ত এই ব্যাটাররা!

দ্বিতীয় ম্যাচের পর অধিনায়ক নিগার বললেন, এই ম্যাচের উইকেটে কোনো সমস্যা ছিল না। আঙুল তুললেন তিনি ব্যাটারদের দিকেই।

“উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল। তবে আমাদের ব্যাটাররা যেভাবে ব্যাট করেছে, খুব হতাশাজনক ছিল তা। কারণ, আমরা সাধারণত এভাবে খেলি না। ব্যাপারটার সমাধান করতে হবে আমাদের।”

“শীর্ষ একটি দলের সঙ্গে খেলছি, এটা মূল ব্যাপার নয়। আমরা আমাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী খেলতে পারছি না। গত ৬ মাসে আমরা যেভাবে খেলেছি, এখানে তা পারছি না। আমাদের ব্যাটিং ইউনিট ভালো। কিন্তু নিয়মিত ধস নামছে, কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। বল সহজেই ব্যাটে আসছে। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারছে না কেউ। প্রথম ৫ ব্যাটারের কেউ যখন ভালো করে না, ভালো স্কোর গড়াও কঠিন হয়ে ওঠে।”

আগের ম্যাচের অভিজ্ঞতার কারণেই কি না, দ্বিতীয় ম্যাচে দুই ওপেনার ফারজানা ও সোবহানা বেছে নেন অতি সাবধানী ব্যাটিংয়ের পথ। তাতে প্রথম আট ওভারে উইকেট পড়েনি বটে, তবে রানও আসেনি খুব একটা। রানের গতি থমকে ছিল একদমই। পরে তা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় উইকেট পড়েছে টপাটপ। ব্যাট থেকে প্রথম বাউন্ডারি এসেছে ২০তম ওভারে!

শুরুর দিকের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার তাগিদ অনুভব করছেন অধিনায়ক নিগারও।

“পাওয়ার প্লেতে যখন খুব একটা রান আসে না, তখন অন্যদের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। ওরা (ফারজানা ও সোবহানা) ক্রিজে টিকে ছিল, কিন্তু রান আসছিল না। আমাদের এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।”