১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহিবজাদার হ্যাটট্রিক ফিফটি ছাপিয়ে মেন্ডিসের অপরাজিত ৮৭

পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াল শ্রীলঙ্কা।

সাহিবজাদার হ্যাটট্রিক ফিফটি ছাপিয়ে মেন্ডিসের অপরাজিত ৮৭

কুসাল মেন্ডিস। ছবি: আইসিসি ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 10:55 PM

Updated : 13 Oct 2026, 11:37 PM

ইনিংসের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে টানলেন সাহিবজাদা ফারহান। টপ ও মিডল অর্ডারে তেমন একটা সহায়তা পেলেন না তিনি। অধিনায়কের টানা তৃতীয় পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস আর আরাফাত মিনহাসের ক্যামিওতে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি গড়তে পারল পাকিস্তান। কিন্তু বোলিংয়ে লড়াই জমাতেই পারল না তারা। অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিসের চমৎকার ইনিংসে হোয়াইটওয়াশ এড়াল শ্রীলঙ্কা।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার জয় ৮ উইকেটে।

রাওয়ালপিন্ডিতে মঙ্গলবার পাকিস্তান ২০ ওভারে তোলে ১৬৮ রান। সেই রান সফরকারীরা পেরিয়ে যায় ১৭ বল হাতে রেখেই।

প্রথম দুই ম্যাচে কেবল ১ ও ৯ রান করতে পারা মেন্ডিস এবার জ্বলে ওঠেন দারুণভাবে। চার ছক্কা ও ৯ চারে ৪৮ বলে অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা তিনিই। এই সংস্করণে তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস এটি। আগের সেরা ছিল ৮৬, বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০২৪ সালে সিলেটে।

সাত চার ও তিন ছক্কায় ৪৭ বলে ৭৬ রান করেন সাহিবজাদা। ১৬৫.২৭ স্ট্রাইক রেটে তিন ম্যাচে ২৩৮ রান করে সিরিজ সেরা তিনি। সিরিজে আর কেউ দেড়শ রানও করতে পারেননি।

শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিত গড়ে দেন মূলত বোলাররা। দারুণ বোলিংয়ে চার ওভারে ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক দাসুন শানাকা।

সিরিজে প্রথম খেলতে নেমে ২৩ রানে একটি উইকেট নেন লেগ স্পিনার ভিজায়াকান্থ ভিয়াসকান্থ। একটু খরুচে বোলিংয়ে দুটি করে উইকেট নেন নুয়ান থুশারা ও ইশান মালিঙ্গা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ছিল ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত। প্রথম তিন ওভারে আসে ৩৪ রান। কিন্তু এরপর থেকে নিয়মিত উইকেট হারানোয় রানের গতি কমে যায় তাদের।

চতুর্থ ওভারে পাকিস্তান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন মালিঙ্গা। একটি করে চার ও ছক্কায় ৭ বলে ১২ রান করার পথে পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে একশ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন ফাখার জামান। প্রথম দুই ম্যাচে ঝড়ো ফিফটি করা মাজ সাদাকাত এবার ফেরেন শূন্য রানে।

১৭ বলে ১৬ রান করা হাসান নাওয়াজকে ফেরান ভিজায়াকান্থ। শানাকা টানা তিন ওভারে বিদায় করেন খাওয়াজা নাফে, মোহাম্মাদ ইমরান ও আব্দুল সামাদকে।

১০২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মিনহাসের সঙ্গে ৩৭ বলে ৬৬ রানের জুটিতে দলের স্কোর দেড়শ পার করেন সাহিবজাদা। শেষের আগের বলে আউট হন তিনি।

আট নম্বরে নেমে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২০ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন মিনহাস।

শেষ ওভারে স্রেফ ৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন থুশারা।

লক্ষ্য তাড়ায় লাহিরু উদারাকে শুরুতে হারালেও কোনোরকম বেগ পেতে হয়নি শ্রীলঙ্কাকে। আরেক ওপেনার সিনেথ জায়াওয়ার্দেনা ঝড় তুলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ২৬ বল করেন ৩৮ রান। মেন্ডিসের সঙ্গে ৪১ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন তিনি।

সেখান থেকে কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ৫৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৯৮ রানের জুটিতে বাকিটা সারেন কুসাল মেন্ডিস। পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি ৩৩ বলে। রাজাউল্লাহকে চার মেরে ম্যাচের ইতিও টেনে দেন লঙ্কান অধিনায়ক।

চারটি চারে ২৭ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন কামিন্দু।

এখন ইংল্যান্ডকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এই সিরিজের ম্যাচগুলো হবে প্রথমে রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে লাহোরে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৮/৮ (সাহিবজাদা ৭৬, ফাখার ১২, সাদাকাত ০, নাওয়াজ ১৬, নাফে ৩, ইমরান ৬, সামাদ ১৫, মিনহাস ৩৪*, রাজাউল্লাহ ০; বিনুরা ৪-০-৪৫-০, থুশারা ৪-০-৩৮-২, মালিঙ্গা ৪-১-৩৮-২, ভিজায়াকান্থ ৪-০-২৩-১, শানাকা ৪-০-২১-৩)

শ্রীলঙ্কা: ১৭.১ ওভারে ১৭২/২ (উদারা ১, জায়াওয়ার্দেনা ৩৮, কুসাল মেন্ডিস ৮৭*, কামিন্দু মেন্ডিস ৪০*; সালমান ৩-০-৪০-০, ইমরান ৪-০-৩১-১, রাজাউল্লাহ ৩.১-০-৩৭-০, মকিম ৪-০-৩৫-০, মিনহাস ৩-০-২৬-১)

ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: কুসাল মেন্ডিস

ম্যান অব দা সিরিজ: সাহিবজাদা ফারহান