ইংলিসের অনন্য কীর্তির পর শেষ বেলার উইকেটে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া
বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পর ব্যাটসম্যানদের একের পর বাজে শটে চাপে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, কেপ টাউন টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া।
দিনের খেলা শেষ হতে তখন ১০ মিনিটেরও কম সময় বাকি। স্পিনার ন্যাথান লায়নের অফ স্টাম্পের বাইরে কিছুটা ফুল লেংথ ডেলিভারি লেগ সাইডে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ব্যর্থ হলেন টেম্বা বাভুমা। তার ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে বলটি টার্ন করে ছোবল দিল স্টাম্পে। উল্লাসে ফেটে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের প্রতিরোধ ভেঙে শেষ বেলার এই উইকেট যে ম্যাচে অনেকটাই এগিয়ে রাখল অস্ট্রেলিয়াকে।
টেস্ট ক্রিকেটের আরও একটি রোমাঞ্চকর দিন কাটল কেপ টাউনে। সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের তৃতীয় দিনেও ম্যাচের মোড় বদলাল বারবার।
জশ ইংলিসের সেঞ্চুরির পর ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৪২৯ রানে আটকে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা লিড পায় ১০০ রানের। একপর্যায়ে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৪১ রানে এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু ৫৯ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে শেষ ৬ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে এইডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহ্যাম উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পর, মার্কেস অ্যাকারম্যানের আগ্রাসী ফিফটি ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বাভুমা ও ম্যাথু ব্রিটস্কির লড়িয়ে জুটিতে দিন শেষ করার পথেই ছিল স্বাগতিকরা। এরপরই বাভুমার ওই আত্মঘাতী শট।
দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৪০ রান। ৪০ রানে এগিয়ে আছে তারা।
উইকেট থেকে বেশ সহায়তা পাচ্ছেন অভিজ্ঞ অফ স্পিনার লায়ন। চতুর্থ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
৪ উইকেটে ৩৩০ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন ৮৫ রানে অপরাজিত ইংলিসের সেঞ্চুরির ঠিকানায় পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। দিনের নবম ওভারে ৯৭ থেকে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেন সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা ব্যাটসম্যান।
এটি তার দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এতে অনন্য কীর্তি গড়লেন ৩১ বছর বয়সি ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণেই অন্তত দুটি করে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনিই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও তার সেঞ্চুরি দুটি করে।
মাইলফলক ছোঁয়ার পর ওই ওভারেই বিদায় নেন ইংলিস। অফ স্পিনার সাইমন হার্মারের অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি। ১১ চার ও দুই ছক্কায় গড়া তার ১৩৫ বলে ১০২ রানের ইনিংস।
অ্যালেক্স কেয়ারির সঙ্গে ইংলিসের জুটি থামে ১৮৫ রানে এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসের শুরুও এখান থেকেই।
হার্মার একটু পর ফিরিয়ে দেন আরেক থিতু ব্যাটসম্যান কেয়ারিকেও। সাত চারে ১৬৮ বলে ৮০ রান করেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
তিন পেসার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হেইজেলউড ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। কুপার কনোলির ৮৩ বলে ২৯ রানের সুবাদে ৪২৯ পর্যন্ত যেতে পারে অস্ট্রেলিয়া।
১০৪ রানে ৪ উইকেট নেন হার্মার, ৬০ রানে ৩টি মার্কো ইয়ানসেন।
বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বস্তি উবে যায় ব্যাটিংয়ে মার্করাম ও বেডিংহ্যামের বাজে শটে। স্টার্ককে আলগা শট খেলে আউট হন মার্করাম, হেইজেলউডের শর্ট বলের শিকার বেডিংহ্যাম।
৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন অ্যাকারম্যান ও বাভুমা। প্রথম ইনিংসে ৯৪ বলে ৯৫ রান করা অ্যাকারম্যান এবারও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান। ফিফটি করেন তিনি ৬৪ বলে।
২০০৮ সালে মেলবোর্নে গ্রায়েম স্মিথের পর, প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো টেস্টের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশ স্পর্শ করলেন ৩০ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার।
১৩৯ কিলোমিটার গতির ভয়ংকর এক ডেলিভারিতে অ্যাকারম্যানের ৮০ বলে ৬২ রানের ইনিংস থামান স্টার্ক। বাঁহাতি পেসারের শর্ট বল দ্রুত লাফিয়ে ওঠে এবং বলের লাইন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ঠিকমতো পারেননি ব্যাটসম্যান। বলটি ব্যাটের গোড়ার দিকে ছুঁয়ে হেলমেটে লেগে স্লিপে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে জমা হয়।
বাভুমার সঙ্গে আলোচনার পর অ্যাকারম্যান শেষ মুহূর্তে রিভিউ নিতে চাইলেও, আম্পায়ার জানিয়ে দেন যে সময় শেষ হয়ে গেছে।
সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বাভুমা ও ব্রিটস্কি। বেশ ধৈর্য নিয়েই ব্যাটিং করছিলেন বাভুমা। কিন্তু শেষ বেলায় মনোযোগ হারিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। থামে তার ১১৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংস। ভাঙে ১০৫ বল স্থায়ী জুটি।
৫৯ বলে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন ব্রিটস্কি। তার সঙ্গী এখন রিকেলটন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: (তৃতীয় দিন শেষে)
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৩২৯
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১২৫.১ ওভারে ৪২৯ (আগের দিন ৩৩০/৪) (ইংলিস ১০২, কেয়ারি ৮০, কনোলি ২৯, কামিন্স ০, স্টার্ক ১১, লায়ন ১, হেইজেলউড ৪*; রাবাদা ২৩-১-৯৮-১, ইয়ানসেন ২২.১-৭-৬০-৩, কুটসিয়া ১৯-৪-৭০-১, মুল্ডার ২১-৫-৬৩-১, হার্মার ৩৭-৬-১০৪-৪, মার্করাম ৩-০-১৪-০)
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৪৭ ওভারে ১৪০/৪ (মার্করাম ১, অ্যাকারম্যান ৬২, বেডিংহ্যাম ১১, বাভুমা ৩৫, ব্রিটস্কি ১৯*, রিকেলটন ৮*; স্টার্ক ৯-১-২৯-২, হেইজেলউড ১১-১-৩৭-১, কামিন্স ৯-০-২৯-০, লায়ন ১৪-৩-৩১-১, কনোলি ২-১-৩-০, রেনশ ২-০-৭-০)
