৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

রিকেলটন-মুল্ডারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর শেষ দিনের রোমাঞ্চের অপেক্ষা

কেপ টাউন টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তিনশর কাছাকাছি লক্ষ্য দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

রিকেলটন-মুল্ডারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর শেষ দিনের রোমাঞ্চের অপেক্ষা

ষষ্ঠ উইকেটে ৩১৯ বলে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন রায়ান রিকেলটন ও ভিয়ান মুল্ডার। ছবি: ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 10:35 PM

Updated : 30 Oct 2026, 11:27 PM

কেপ টাউন টেস্টে চাপের মুখে কী দারুণভাবেই না ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ আফ্রিকা। রায়ান রিকেলটন ও ভিয়ান মুল্ডার গড়লেন অসাধারণ এক জুটি। দুজনই উপহার দিলেন তাদের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়াকে তিনশর কাছাকাছি লক্ষ্য দিল টেম্বা বাভুমার দল।

সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে কেবল ৪০ রানে এগিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই তারাই শেষ পর্যন্ত দিয়েছে ২৮৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য।

দিনের শেষ ওভারে প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৮৭ রানে। প্রথম ইনিংসে ঘাটতি ছিল ১০০ রানের।

ছয় নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিতে ২১৯ বলে ১০১ রান করেন কিপার-ব্যাটসম্যান রিকেলটন। মুল্ডারের সঙ্গে তার ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৩১৯ বলে ১৫৪ রান।

এই জুটি ভাঙার পর দ্রুত আরও তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। নবম উইকেট পতনের সময় সেঞ্চুরি থেকে ১৮ রান দূরে ছিলেন মুল্ডার। কাগিসো রাবাদাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ জুটিতে তিনি যোগ করেন মূল্যবান ৩৬ রান। সাত নম্বরে ২২১ বলে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার।

নিউল্যান্ডসে ৪ উইকেটে ১৪০ রান নিয়ে শুক্রবার ব্যাটিং শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের দিন রিকেলটন ৮ ও ম্যাথু ব্রিটস্কি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা উইকেট থেকে আগের দিন যতটা সহায়তা পেয়েছিলেন, এ দিন তা পাননি। প্রথম ঘন্টায় তাদের দারুণভাবে সামলান দুই ব্যাটসম্যান।

পানি পানের বিরতির চার ওভার পর প্যাট কামিন্সের বলে হঠকারী এক শট খেলতে গিয়ে ৪৩ রানে নিজের উইকেট উপহার দেন ব্রিটস্কি। তাকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের সবচেয়ে দীর্ঘ ৩৭২ বলের উইকেট-খরা কাটান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। প্রথম সেশনে এই একটি উইকেটই কেবল নিতে পারে সফরকারীরা।

রিকেলটনের সঙ্গে জমে যায় মুল্ডারের জুটি। দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে এই দুজন ২৮ ওভারে যোগ করেন ৯২ রান। দ্বিতীয় নতুন বলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি মিচেল স্টার্ক, জশ হেইজেলউডরা।

দিনের শেষ সেশনে ৯৯ থেকে হেইজেলউডের বলে দুই রান নিয়ে ২১৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রিকেলটন। তার তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরিই হলো ঘরের মাঠে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে হোবার্টে কুইন্টন ডি ককের ১০৪ রানের পর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি করা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কিপার-ব্যাটসম্যান তিনি।

পরের ওভারেই ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন রিকেলটন। তার বিদায়ের পর ১৬ রানের মধ্যে আরও ৩ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

টেস্টের নতুন এক নম্বর অলরাউন্ডার ও বোলার মার্কো ইয়ানসেন শূন্য রানে ফেরেন স্টার্কের শর্ট বলে। অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নের বলে বোল্ড হন সাইমন হার্মার। জেরল্ড কুটসিয়াও ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে বিদায় নেন।

তখন ৮২ রানে খেলছিলেন মুল্ডার। পুরো দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন। শেষ ব্যাটসম্যান রাবাদাকে প্রতি ওভারে সর্বোচ্চ দুটি বল খেলার সুযোগ দেন। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন ২৮ বছর বয়সি অলরাউন্ডার।

মাইলফলক ছোঁয়ার পর কামিন্স ও লায়নকে ছক্কায় ওড়ান মুল্ডার। দিনের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে কামিন্সের শর্ট বল পুল করার চেষ্টায় থামে তার চমৎকার ইনিংস।

৩৬ রানের শেষ জুটির ৩৩ রানই আসে মুল্ডারের ব্যাট থেকে। ১৪টি বল খেলে তাকে দারুণ সহায়তা করেন পেসার রাবাদা।

কেপ টাউনে ২৮৮ রানের বেশি তাড়া করে টেস্ট জয়ের নজির আছে একটি। ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়াই এখানে ৩৩১ রান তাড়া করে জিতেছিল। তবে এবার তাদের জন্য কাজটি কঠিনই হওয়ার কথা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (চতুর্থ দিন শেষে)

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৩২৯

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪২৯

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ১৩৪.৪ ওভারে ৩৮৭ (আগের দিন ১৪০/৪) (ব্রিটস্কি ৪৩, রিকেলটন ১০১, মুল্ডার ১১৫, ইয়ানসেন ০, হার্মার ১, কুটসিয়া ১, রাবাদা ২*; স্টার্ক ২৪-২-৬৫-৩, হেইজেলউড ২১-২-৬৮-১, কামিন্স ২৪.৪-৫-৭১-২, লায়ন ৪৪-১০-১০১-২, কনোলি ৪-১-১৪-০, রেনশ ৮-২-২২-০, হেড ৫-০-১৫-০, লাবুশেন ৪-০-১৮-০)