মালিকের দারুণ ইনিংসে জয়ে ফিরল রংপুর

পরপর দুই ম্যাচে হারের পর জয়ের দেখা পেল রংপুর রাইডার্স।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2023, 11:42 AM
Updated : 23 Jan 2023, 11:42 AM

চাপ সামলে দাপুটে ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিলেন শোয়েব মালিক। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাকি কাজ সারলেন বোলাররা। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বড় ব্যবধানে জিতল রংপুর রাইডার্স।  

বিপিএলে সোমবার মিরপুরে চট্টগ্রামকে ৫৫ রানে হারাল রংপুর। চোট কাটিয়ে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ফেরার দিনে জয়ের দেখা পেল তারা টানা দুই ম্যাচ হারার পর।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এ দিন ১৮০ রান তাড়ায় চট্টগ্রামের ইনিংস থামে ১২৪ রানে। অসুস্থতার কারণে আফিফ হোসেন ব্যাটিং না করায় ৯ উইকেটেই সমাপ্ত হয় চট্টগ্রামের ইনিংস। 

আসরের শুরু থেকেই ছন্দে থাকা মালিক এই ম্যাচে ছাড়িয়ে যান আগের সব ম্যাচকে। ক্যারিয়ারে ৭৫তম ফিফটিতে ঠিক ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ৪১ বছর ছুঁইছুঁই ব্যাটসম্যান।

পঞ্চাশের আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে বিপদমুক্ত করার দায়িত্ব দারুণভাবে সামলান মালিক। চতুর্থ উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমারজাইকে নিয়ে গড়েন ১০৫ রানের জুটি। 

পরে বল হাতে দারুণ শুরু এনে বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান। গতি তারকা হারিস রউফ নেন ৩টি উইকেট। উইকেটের পেছনে সোহানের দেখাও মেলে চেনা ক্ষিপ্র চেহারায়।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া শেখ মেহেদি হাসান। ১ রানে জীবন পেয়েও ৬ রানের বেশি করতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমন।

মোহাম্মদ নাঈম শেখ বেশ ভালো ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনারও। ইনিংসের নবম ওভারে লঙ্কান লেগ স্পিনার ভিজয়াকান্থ ভিয়াসকান্থের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি ৫ চার ও ১ ছয়ে ২৯ বলে ৩৪ রান করে।

এরপর ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন মালিক। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ওমরজাই। মালিক শুরুতে একটু সময় রেওয়ার পর দশম ওভারে তাইজুল ইসলামকে জোড়া ছক্কায় ইঙ্গিত দেন মোড় বদলে দেওয়ার। মেহেদি হাসান রানার লেংথ বলে দারুণ শটে বল সীমানার ওপারে পাঠান ওমরজাই।  

সবচেয়ে বেশি ঝড় বয়ে যায় তাইজুলের ওপর দিয়েই। ১৪তম ওভারে তাকে  ৩ ছয় এক চার মারেন মালিক। পরের ওভারে ভিজয়াকান্থকে চার-ছয় মারেন আফগান ওমারজাই।

স্রেফ ২৯ বলে ফিফটি পূরণ করেন মালিক। ওমরজাই সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি। মেহেদি রানার বলে দারভিশ রাসুলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১ চার ও ৪ ছয়ে ২৪ বলে ৪২ রান করে। 

মালিক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৪৫ বলে ৫টি করে চার-ছয়ে সাজান নিজের ইনিংস। 

কিছুটা খরুচে হলেও চট্টগ্রামের হয়ে ৩ উইকেট নেন মেহেদি রানা।

রান তাড়ায় প্রথম তিন ওভারেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় চট্টগ্রাম। প্রথম ওভারে রকিবুলের বলে কট বিহাইন্ড হন উসমান খান। ওমরজাইয়ের করা পরের ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই আউট অভিষিক্ত তৌফিক খান। 

খাওয়াজা নাফে প্রথম বলে চার মেরে ভালো কিছুর আশা জাগালেও ফেরেন সোহানের দারুণ বুদ্ধিমত্তায়। রকিবুলের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটে লাগাতে পারেননি নাফে। বল জমা পড়ে সোহানের গ্লাভসে। তিনি বল স্টাম্পের কাছে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। ফলো-থ্রুতে নাফের পা ক্রিজ থেকে মুহূর্তের জন্য ওপরে উঠতেই চোখের পলকে বেলস ফেলে দেন সোহান। বিদায়ঘণ্টা বাজে পাকিস্তানি তরুণের।

তিন উইকেট পড়ে গেলেও ব্যাটিংয়ে নামেননি আফিফ। পরে জানা যায়, জ্বর নিয়ে ফিল্ডিং করলেও পরে ঠাণ্ডা জ্বরের তীব্রতা বাড়ায় ব্যাটিং করার মতো অবস্থা ছিল না তার। খেলা চলার সময়ই তিনি হোটেলে ফিরে যান।

বিরুদ্ধ স্রোতে সাঁতরে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন অধিনায়ক শুভাগত হোম। রাসুলির সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন তিনি। পরে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মিলে জাগিয়ে তোলেন সম্ভাবনাও।

তবে বড় রান তাড়ায় প্রয়োজন ছিল বড় ইনিংস। তা করতে পারেননি রাসুলি ও জিয়াউর। ২ চারে ১৭ বলে ২১ রান করেন রাসুলি। ১ চার ও ৩ ছয়ে ১২ বলে ২৪ রান করে আউট হন জিয়াউর। 

স্রেফ ২৮ বলে ফিফটি পূরণ করেন শুভাগত। এরপর তিনিও পারেননি ইনিংস আরও লম্বা করচে। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি ৪টি করে চার-ছয়ে ৩১ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে। তাতেই একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় রংপুরের জয়। 

১৬তম ওভারে শেখ মেহেদির বলে ফের কিপিংয়ে বুদ্ধিমত্তা দেখান সোহান। ড্রাইভ করতে গিয়ে মুহূর্তের জন্য পা বাইরে বের করেন মেহেদি রানা। অল্প সময়ের মধ্যেই বেল তুলে তার বিদায়ঘণ্টা বাজান রংপুর অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম হেরে যায় বেশ বড় ব্যবধানেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৭৯/৬ (শেখ মেহেদি ১, নাঈম ৩৪, পারভেজ ৬, মালিক ৭৫*, ওমারজাই ৪২, নাওয়াজ ৭, শামীম ৭, রকিবুল ০*; শুভাগত ৩-০-১৩-২, আফিফ ২-০-১৩-০, মৃত্যুঞ্জয় ৪-০-৩১-০, ভিজয়াকান্থ ৪-০-৪১-১, তাইজুল ৩-০-৪১-০, মেহেদি রানা ৪-০-৩৯-৩)

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৬.৩ ওভারে ১২৪ (উসমান ৪, নাফে ৬, তৌফিক ০, রাসুলি ২১, শুভাগত ৫২, জিয়াউর ২৪, ভিজয়কান্থ ৬, মৃত্যুঞ্জয় ৭*, মেহেদি রানা ০, তাইজুল ১, আফিফ আহত অনুপস্থিত; রাকিবুল ৪-০-২৪-২, ওমারজাই ৩-০-২৩-১, হারিস ৩.৩-০-১৭-৩, নাওয়াজ ২-০-২০-০, হাসান ৩-০-৩৪-১, শেখ মেহেদি ১-০-৪-১)

ফল: রংপুর রাইডার্স ৫৫ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: শোয়েব মালিক।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক