গেবেখা টেস্ট থেকে বাদ স্টাবস, ফিরলেন ব্রিটস্কি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে উইকেটরক্ষক থাকবেন রায়ান রিকেলটন, তাতে অনিশ্চিত কাইল ভেরেইনার একাদশে জায়গা।
ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের দলে পরিবর্তন এনেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গেবেখায় অনুষ্ঠেয় ম্যাচ থেকে বাদ পড়েছেন ট্রিস্টান স্টাবস। তার বদলি হিসেবে ডাক পেয়েছেন ম্যাথু ব্রিটস্কি।
আগামী রোববার শুরু তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয়টি। প্রথম টেস্টে ২৪১ রানে হেরে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা।
কিংসমিডে ভালো করতে পারেননি স্টাবস, দুই ইনিংসে করেন যথাক্রমে ৩২ ও ১ রান। এই ম্যাচের আগে সবশেষ টেস্ট খেলেন তিনি ১১ মাস আগে, ভারতের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের দুই ইনিংসে তার ব্যাটে আসে ৪৯ ও ৯৪ রান।
ব্রিটস্কি এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলে করতে পারেন কেবল ১৪ রান। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সংস্করণে অভিষেক হয় তার। আর সবশেষ টেস্ট খেলেন তিনি ২০২৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন ব্রিটস্কি। নামিবিয়া সফর ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সীমিত ওভারের দলে থাকায় চলমান মৌসুমে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার।
সাদা বলের ক্রিকেটে অবশ্য নিয়মিত রান পাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সি ব্রিটস্কি। ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ শুক্রি কনরাডের আশা ওয়ানডের এই ছন্দ টেস্টেও ধরে রাখবেন ব্রিটস্কি।
“ম্যাট আগেও আমাদের দলের অংশ ছিল। ওয়ানডেতে তার বর্তমান ফর্ম তাকে দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রেখেছে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ম্যাটের মানসিকতা ও দৃঢ়তা।”
ব্রিটস্কি দলে আসায় দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন-আপে পরিবর্তন প্রায় নিশ্চিত। কোচ কনরাড জানিয়েছেন, গেবেখায় উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলবেন রায়ান রিকেলটন।
এতে একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন কাইল ভেরেইনা। টেস্টে সবশেষ ১৩ ইনিংসে কোনো ফিফটি করতে না পারা এই কিপার-ব্যাটসম্যান অবশ্য আছেন দ্বিতীয় টেস্টের দলে।
ভেরেইনা বাদ পড়লে ব্যাটিং লাইন-আপে রিকেলটনের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা টিম ম্যানেজমেন্টকে। ডারবানে এইডেন মার্করামের সঙ্গে ওপেন করেন রিকেলটন। উইকেটরক্ষক ভূমিকায় থেকে তিনি ওপেনিংয়েই ব্যাটিং করবেন নাকি নিচের দিকে করবেন, তা এখন দেখার বিষয়।
এ নিয়ে অবশ্য কোচ কনরাড চূড়ান্ত কিছু জানাননি।
“রিকস (রিকেলটন) কিপিং করলে, তাকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচের দিকে নামানো হবে, নাকি ওপেনিংয়েই ব্যাটিং করবে, যে ভূমিকায় সে আগেও খেলেছে, সেটা নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে না ওঠায় ওপেনার টনি ডি জর্জিকে দ্বিতীয় টেস্টের জন্যও বিবেচনা করা হয়নি। কবে নাগাদ তিনি মাঠে ফিরবেন, এমন কিছুও জানানো হয়নি। তার অনুপস্থিতি এবং রিকেলটন নিচের দিকে ব্যাটিং করলে দলে ডাক পাওয়া ব্রিটস্কি কিংবা অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা মার্কাস অ্যাকারম্যানের ওপেনিংয়ে সুযোগ মিলতে পারে।
ডারবান টেস্টের দল থেকে আর কোনো পরিবর্তন আনেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে উঠলেও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় কাগিসো রাবাদাকে প্রথম টেস্টে খেলায়নি তারা। আশা করা হচ্ছে, দ্বিতীয় টেস্টে তারকা পেসারকে একাদশে দেখা যাবে।
রাবাদা ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা দলে পেসার আছেন আরও ছয়জন- আনরিখ নরকিয়া, মার্কো ইয়ানসেন, ভিয়ান মুল্ডার, জেরল্ড কুটসিয়া, ড্যান প্যাটারসন এবং কর্বিন বশ।
দলে তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনারও রেখেছে প্রোটিয়ারা- কেশাভ মহারাজ, সাইমন হার্মার ও সেনুরান মুথুসামি। ডারবানে মহারাজ ও হার্মারকে খেলানো হলেও দ্বিতীয় টেস্টে তিন স্পিনারের যে কোনো একজনের একাদশে সুযোগ মিলতে পারে।
দ্বিতীয় টেস্টের দক্ষিণ আফ্রিকা দল: টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), মার্কাস অ্যাকারম্যান, ডেভিড বেডিংহ্যাম, কর্বিন বশ, জেরল্ড কুটসিয়া, সাইমন হার্মার, মার্কো ইয়ানসেন, কেশাভ মহারাজ, এইডেন মার্করাম, ভিয়ান মুল্ডার, সেনুরান মুথুসামি, আনরিখ নরকিয়া, ড্যান প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, ম্যাথু ব্রিটস্কি, কাইল ভেরেইনা।
