বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের ভারতীয় স্পিনার মুক্তা রবীন্দ্র মাগ্রে।
Published : 01 Jun 2023, 07:40 PM
জান্নাতুল ফেরদৌসের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলার চেষ্টায় ব্যাটে-বলে করতে পারলেন না জাসিয়া আক্তার। বল গ্লাভসে নিয়েই স্টাম্প ভেঙে দিলেন রোজিনা আক্তার। বড় শটের ওই চেষ্টা ব্যর্থ হলো বটে। তবে ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে সিটি ক্লাবের বোলারদের তুলোধুনা করে ছাড়লেন ভারতীয় ব্যাটার। উপহার দিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি।
১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে বড় জয় এনে দিয়েছেন জাসিয়া। বিকেএসপির এক নম্বর মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার নারী ক্রিকেট লিগের ম্যাচে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ১৭০ রানে জিতেছে মোহামেডান। ২৯২ রানের লক্ষ্যে ৫৫ বল বাকি থাকতে ১২১ রানে গুটিয়ে গেছে সিটি ক্লাব।
আগের ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে ঝড়ো ইনিংস খেলেন জাসিয়া। প্রতিপক্ষ অল্প রান করায় সেদিন ফিফটি ছুঁতে পারেননি। এবার আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটার খেললেন চলতি লিগের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
১০৪ বলের ইনিংসে ১৫ চারের সঙ্গে ৮টি ছয় মেরেছেন সবশেষ উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগে দিল্লি ক্যাপিট্যালসে সুযোগ পাওয়া জাসিয়া। পরে বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে তিনিই পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
তিন ম্যাচে মোহামেডানের তৃতীয় জয় এটি। চার ম্যাচের সবকয়টি হারল সিটি ক্লাব।
সেঞ্চুরি করার পথে তৃতীয় উইকেটে রুমানা আহমেদের সঙ্গে ১৫৭ রানের জুটি গড়েন জাসিয়া। ৪১ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর সেঞ্চুরিতে যেতে আর ৪৪ বল লাগে তার। পরের ১৯ বল থেকে নেন আরও ৪২ রান।
জাসিয়া ফেরার পর বাকি ১৯.৩ ওভারে ৮০ রানের বেশি করতে পারেনি মোহামেডান।
অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রুমানা করেন ৭ চারে ৬১ বলে ৫৬ রান। শেষ দিকে ৩ চারে ২৮ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যান আরেক অভিজ্ঞ সালমা খাতুন।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সিটি ক্লাব। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন জান্নাতুল ফেরদৌস। ৬০ বলের ইনিংসে ৫টি চার মারেন তিনি।
মোহামেডানের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন রুমানা ও সালমা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৯১/৮ (জাসিয়া ১৪২, শারমিন ৭, আয়েশা ০, রুমানা ৫৬, ফাল্গুনি ১৩, সোবহানা ০, সানজিদা ৮, সালমা ৩১*, ফারজানা ১৪, খাদিজাতুল ১*; দিশা ১০-০-৫৪-১, কোহিনুর ৬-০-৩৭-২, ফাহিমা ১০-১-৫৯-১, জান্নাতুল ফেরদৌসি ১০-০-৫৬-২, জান্নাতুল ফেরদৌস ১০-০-৫৩-২, কামরুন নাহার ৪-০-২৫-০)
সিটি ক্লাব: ৪০.৫ ওভারে ১২১ (ফাতেমা ২৮, সাবিকুন ১১, রোজিনা ০, শিবানি ১২, জান্নাতুল ফেরদৌস ৪১*, দিশা ৬, কামরুন নাহার ০, পিংকি ৭, কোহিনুর ০, ফাহিমা ৪, জান্নাতুল ফেরদৌসি ০; জাসিয়া ৪-০-১৬-২, সোবহানা ৫-০-১৩-০, সালমা ৭-২-১৫-৩, খাদিজাতুল ৫-০-২২-০, রুমানা ৭.৫-১-১৩-৩, আয়েশা ৬-১-১৪-১, লাবণী ৪-০-১৬-১, সানজিদা ১-০-৫-০, ফাল্গুনি ১-০-৭-০)
ফল: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১৭০ রানে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: জাসিয়া আক্তার
মুক্তার ৭ রানে ৪ উইকেট, সাথির ২১ বলে ফিফটি
দারুণ বোলিংয়ে কেরানিগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমির একশর মধ্যে আটকে রাখেন মুক্তা রবীন্দ্র মাগ্রে, নাহিদা আক্তাররা। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ছোট লক্ষ্যকে আরও মামুলি বানিয়ে দেন সাথি রানি বর্মণ। রুপালী ব্যাংক ক্রীড়া পরিষদ পায় অনায়াস জয়।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে রুপালি ব্যাংকের জয় ১০ উইকেট। পুরো ৫০ ওভার খেলে কেরানিগঞ্জ করে স্রেফ ৯৪ রান। যা টপকে যেতে ৮.১ ওভারের বেশি লাগেনি রুপালী ব্যাংকের দুই ওপেনার সাথি ও ফারজানা হকের।
চার ম্যাচে রুপালী ব্যাংকের এটি তৃতীয় জয়। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে অন্যটি। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারাই সবার ওপরে। চার ম্যাচের সবকয়টিই হেরেছে কেরানিগঞ্জ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায় কেরানিগঞ্জ। সেখান থেকে তাদের একশর কাছাকাছি নিয়ে যান শোভা খানম। ৬ চারে ১০৪ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। এছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন শুধু রচনা তৃপ্তি (২৯ বলে ১০)।
ভারতীয় অফ স্পিনার মুক্তা ১০ ওভারে ৫ মেডেনসহ স্রেফ ৭ চারে ৪ উইকেট নেন। তিনিই জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। জাতীয় দলের বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা ১০ ওভারে ৫ মেডেনসহ স্রেফ ১০ রানে নেন ১ উইকেট।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন সাথি। প্রথম ওভারেই ৪টি চার মারেন তিনি। পঞ্চম ওভারে আবারও ৪টি বাউন্ডারি আসে তার ব্যাট থেকে।
১২ চারে স্রেফ ২১ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সাথি। এরপর মারেন ম্যাচের একমাত্র ছক্কাটি। সব মিলিয়ে ১৪ চার ও ১ ছয়ে ২৬ বলে ৬৬ রান করেন তিনি। ফারজানা খেলেন ২৪ বলে ৫ চারে ২৭ রানের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
কেরানিগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমি: ৫০ ওভারে ৯৪/৮ (শাহানাজ ০, রচনা ১০, সুমাইয়া ৫, জামিলা ৩, শোভা ৪৫, শারমিন ০, জহুরা ১, মাকতুবা ৮, কণা ৯*, পারভিন ০*; হাবিবা ৬-০-১০-১, রিতু ১০-১-২৫-২, নাহিদা ১০-৫-১০-১, সাথিরা ৫-১-১২-০, মুক্তা ১০-৫-৭-৪, সাথি ৪-০-১০-০, শরিফা ৫-১-১৯-০)
রুপালী ব্যাংক ক্রীড়া পরিষদ: ৮.১ ওভারে ৯৮/০ (সাথি ৬৬*, ফারজানা ২৭*; শাহানাজ ১-০-১৭-০, পারভিন ২-০-২৫-০, কণা ১.১-০-১৭-০, ফারিয়া ২-০-১৪-০, শারমিন ১-০-১৮-০, মাকতুবা ১-০-৬-০)
ফল: রুপালী ব্যাংক ক্রীড়া পরিষদ ১০ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: মুক্তা রবীন্দ্র মাগ্রে।