Published : 04 Aug 2025, 12:12 PM
আউটের ধরন যেমনই হোক, কখনোই তা ভালো লাগে না কোনো ব্যাটসম্যানের। তবে সবচেয়ে অপ্রার্থিত আউট সম্ভবত ‘রিটায়ার্ড আউট।’ ব্যাটিং ঠিকঠাক হচ্ছে না, দলের চাওয়া পূরণ হচ্ছে না, তখন স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে যাওয়া বা দলে ডাকের ব্যাটিং ছেড়ে দিয়ে আউট হওয়া তো চরম বিব্রতকর। সেই তেতো স্বাদই এবার পেতে হলো রোস্টন চেইসকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে ফ্লোরিডায় সোমবার বাংলাদেশ সময় সকালে ‘রিটায়ার্ড আউট’ অভিজ্ঞতা হয় চেইসের।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রিটায়ার্ড আউট হওয়ার দ্বাদশ নজির এটি। তবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটার মধ্যে চেইসই প্রথম।
১৩ ওভার শেষে যখন তিনি ক্রিজে যান, জয়ের জন্য তখন সাত ওভারে ৮০ রান প্রয়োজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কাজটা কঠিন হলেও এই সময়ের ক্রিকেটে খুব দুরূহ নয়। উইকেট বাকি তখনও সাতটি। চেইস নামার পরপর একটি বাউন্ডারিও মারেন। কিন্তু এরপর ঠিকঠাক টাইমিং করতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তার রান দাঁড়ায় ১০ বলে ১০।
এরপর হারিস রউফের বলে ব্যাটের কানায় লেগে একটি বাউন্ডারি তিনি পান। পরের বলে নেন সিঙ্গল। এরপর ক্রিজ ছেড়ে যেতে হয় তাকে। ১২ বরে ১৫ রান করে রিটায়ার্ড আউট।
সময় ফুরিয়ে আসছিল দ্রুত। তিন ওভারে প্রয়োজন তখন ৪১ রান। চেইসের জায়গায় তাই জেসন হোল্ডারকে নামায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। হোল্ডার বিদায় নেন দ্বিতীয় বলেই। ক্যারিবিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ১৩ রানের পরাজয়ে হেরে যায় সিরিজ।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ‘রিটায়ার্ড আউট’ এখন আর খুব বিরল কিছু নয়। কৌশলগত কারণে এই ঘটনা প্রায় নিয়মিতই দেখা যায় বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট বা টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয়। চেইসকে দিয়ে ২০ ওভারের ক্রিকেটে এই আউটের নজির হলো ৪৮টি।
তবে যতই নিয়মিত হোক, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই আউটে ব্যাটসম্যানের এক ধরনের গ্লানি তো থাকেই।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম এই আউট দেখা গেছে নেপালের কির্তিপুরে ২০১৯ এসএ গেমসে। মালদ্বীপের বিপক্ষে ৩৫ বলে ২৪ করে রিটায়ার্ড আউট জন ভুটানের সোনাম টোবগে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি দেখা যায় আড়াই বছর পর। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপিয়ান উপ-আঞ্চলিক বাছাইয়ে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ওপেনার হেভিট জ্যাকসন ৪৩ বলে ৩৮ করে মাঠ ছেড়ে যান পঞ্চদশ ওভারে।
সপ্তাহ ঘোরার আগেই ওই আসরেই আবার একই অভিজ্ঞতা হয় জ্যাকসনের। এবার এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ক্রিজ ছাড়েন তিনি ৩৯ বলে ৫০ রান করার পর।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুইবার রিটায়ার্ড আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান এখনও পর্যন্ত ফ্রান্সের এই ওপেনারই।
এরপর গাম্বিয়া মুস্তাফা সুয়ারেহ, নামিবিয়ার নিকোলাস ডেভিন, গ্রীসের ক্রিস্তোদুলাস বোগদানোস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলি নাসির, বতসোয়ানার ভিনু বালাকৃষ্ণান, নাইজেরিয়ার সেলিম সালাউ, সুইজারল্যান্ডের খালিদ নিয়াজি ও আমিরাতে ইথান ডি’সুজা এভাবে আউট হয়েছেন।
অভিজাত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ থেকে প্রথমবার তাদের সঙ্গী হলেন চেইস।
রিটায়ার্ড আউটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচয় অবশ্য সেই ২০০১ সালে। একই ইনিংসে এভাবে আউট হয়েছিলেন মারভান আতাপাত্তু ও মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে। তবে সেই বিদায়ে দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যানের কোনো ঘাটতি ছিল না, বিব্রত হওয়ার ব্যাপারও ছিল না। বরং বাংলাদেশের জন্য তা এক গ্লানিময় অধ্যায়।
ডাবল সেঞ্চুরি করে আতাপাত্তু ও দেড়শ করে ইচ্ছে করেই মাঠ ছেড়ে যান জায়াওয়ার্দেনে। প্রথম ইনিংসে ৯০ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে ততক্ষণে বিশাল লিড পেয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। দুই ব্যাটসম্যান তাই ক্রিজ ছেড়ে যান অন্যদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিতে।
টেস্টে রিটায়ার্ড আউটের নজির ইতিহাসে এই দুটিই, ওয়ানডেতে নেই। টি-টোয়েন্টিতে ১২টির সঙ্গে এমন আউট আরও যোগ হবে সামনে, বলে দেওয়া যায় নিশ্চিতভাবেই।