Published : 02 Jan 2026, 09:25 AM
মোহাম্মাদ আশরাফুলের কাছে প্রশ্ন ছিল তার দলের মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে। রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং কোচ উত্তর দিতে গিয়ে টেনে আনলেন রিপন মন্ডলকে। পাল্টা প্রশ্ন ছুটে গেল, “রিপনকে কি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে রাখা উচিত?” রাজশাহী কোচ হান্নান সরকারের সংবাদ সম্মেলনের অনেকটা জুড়েও থাকল রিপনের প্রসঙ্গ এবং সেখানেও মূল আলোচনা, এই পেসারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা উচিত কি না।
রিপনের পারফরম্যান্সের কারণেই আসলে প্রশ্নগুলি যৌক্তিক হয়ে উঠছে। গত মাসে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন তরুণ এই পেসার। বিশেষ করে, ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং ও একের পর এক ইয়র্কার করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। সেই পারফরম্যান্স বয়ে এনেছেন তিনি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে বিপিএলেও।
এখানে নিজের প্রথম ম্যাচে গত সোমবার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৪ উইকেট নেন মাত্র ১৩ রানে। সেদিন তিনি নতুন বল, পুরোনো বল, সবকিছুতেই ছিলেন উজ্জ্বল। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে শুরুতে ছিলেন তিনি খরুচে। কিন্তু যথারীতি জ্বলে ওঠেন ডেথ ওভারে।
শেষ ওভারে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে রংপুরের মুঠো থেকে ম্যাচ বের করে আনেন তিনি। ম্যাচ হয় ‘টাই।’ শেষ নয় ওখানেই। সুপার ওভারে আরও ক্ষুরধার বোলিং করেন তিনি। রংপুর করতে পারে মাত্র ছয় রান। সেই রান তাড়া করতে কোনো সমস্যাই হয়নি রাজশাহীর।
ম্যাচের পর রাজশাহী অধিনায়ক শান্ত তুলে ধরলেন, শেষের চ্যালেঞ্জটা নিতে ও চাপের মধ্যে কতটা শান্ত ছিলেন রিপন।
“সে অসাধারণ ছিল। ইমার্জিং টুর্নামেন্ট (রাইজিং স্টার্স) থেকেই সে ভালো বল করছে। মাঠের বাইরে প্রচুর পরিশ্রম করে সে। ভালো ব্যাপার হলো, সে ওভারটির করার আগে খুব ধীরস্থির ছিল। সে খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল, ওভারটি করতে চেয়েছিল নিজ থেকেই। এই ধরনের চরিত্রই আমরা চাই কোচ ও অধিনায়ক হিসেবে।”
রংপুরের ব্যাটিং কোচ আশরাফুল বললেন, রিপনের বোলিংই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে শেষ দিকে। তার ধারণা, এই পেসারের দিকে নজর রাখছেন নির্বাচকরা।
“রিপন মন্ডলের প্রশংসা করতেই হবে। যেভাবে সে সাম্প্রতিক সময়ে পারফর্ম করছে, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়েও আমরা দেখেছি সুপার ওভারে চমৎকার বোলিং করেছিল। ওই ছন্দই ধরে রেখেছে এখানে। শেষ ওভারে ও সুপার ওভারে চমৎকার বোলিং করেছে।”
“অবশ্যই নির্বাচকরা দেখছেন, উনারা চিন্তা করছেন। তারা ভালো বলতে পারবেন (বিশ্বকাপ দল নিয়ে)। এমনিতেও আমাদের পেস ইউনিট খুব ভালো। সেখানে সুস্থ প্রতিযোগিতা হচ্ছে সব সংস্করণে। অবশ্যই নির্বাচকরা ভালো বলতে পারবেন।”
চাপের মধ্যে রিপনের ধীরস্থির থাকার বিশেষ ক্ষমতা আলাদা করে চোখে পড়েছে রাজশাহী কোচ হান্নানেরও। এজন্যই ২২ বছর বয়সী পেসারের ওপর ভরসা ছিল তাদের।
“রিপন সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। চাপের মধ্যে বোলারদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয় এবং বাস্তবায়ন করাও কঠিন হয়। রিপন যেহেতু সম্প্রতি এই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, সেটা তার পক্ষে কাজ করেছে এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, রিপন পারবে।”
হান্নান নিজেও এই বছরের শুরুতে ছিলেন জাতীয় নির্বাচক কমিটিরই অংশ। পরে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নির্বাচক কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একটু ঘুরিয়ে হলেও তিনি বললেন, রিপন জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত।

“বিশ্বকাপে… আমি জানি না, নির্বাচকরা কী চিন্তা করছে। নিজে যখন নির্বাচক ছিলাম, তখন ভিন্নভাবে দেখতাম। এখন শুধু আমার দলকে নিয়েই চিন্তা করছি। সে অবশ্যই ভালো অবস্থায় আছে। আমি সবসময় একটা কথা বলি যে, ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে পেসাররা যখন ভালো ছন্দে থাকে, শেইপে থাকে, তখন তাদেরকে নিয়ে বড় ইভেন্ট বা বড় জায়গায় চিন্তা করা যায়।”
“রিপন নিশ্চিতভাবেই ভালো শেইপে আছে, ভালো রিদমে আছে। তাকে নিয়ে নিশ্চিতভাবেই নির্বাচকরা চিন্তাভাবনা করছে। তবে কাকে বাদ রেখে তাকে নেবেন, সেটাও ভাবতে হবে। কাজেই একটা ভালো সমস্যা বা মধুর সমস্যা নির্বাচকদের থাকবে।”
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন রিপন। নির্বাচক হিসেবে তখন কাছ থেকেই দেখেছিলেন হান্নান। সেই সময় থেকে এখন তার উন্নতিগুলোও চোখে পড়ছে এখনকার কোচের।
“এক বছর আগে যখন আমরা টপ এন্ড খেলতে গেলাম অস্ট্রেলিয়ায়, তখন আমি নির্বাচক হিসেবে ছিলাম সেখানে। তখন থেকেই তার ভালো বোলিং চোখে পড়েছিল। পরে বিপিএলে ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সে আমার দলে ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার চোটের ব্যাপার ছিল। পরে এইচপি স্কোয়াডে ক্যাম্প করে ফিটনেস যথেষ্ট ভালো করে নিয়েছে এবং তার পেস বেড়েছে, আপনারা নিশ্চিতভাবেই লক্ষ্য করেছেন।”
“এসব নিয়ে কোচরা খুব ভালো কাজ করেছেন। তাদের কৃতিত্ব অবশ্যই দিতে হবে। ট্রেনাররাও ভালো কাজ করেছেন। প্রেরণাদায়ী যে আলোচনা, সেসব আমার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই হয়ে থাকে। আমার মনে হয়, রিপন খুব ভালো ও আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে।”