শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড
Published : 03 Feb 2026, 11:13 PM
দলের রান ৬০ হতেই নেই ছয় উইকেট। বিপর্যয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে দায়িত্বশীল ফিফটিতে লড়ার মতো সংগ্রহ এনে দিলেন স্যাম কারান। পরে জেকব বেথেল ও উইল জ্যাকসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অল্প রান নিয়েও শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল ইংলিশরা।
পাল্লেকেল্লেতে মঙ্গলবার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১২ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড। স্রেফ ১২৮ রানের পুঁজি নিয়ে স্বাগতিকদের ১১৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।
আগের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১১ রানে ও ৬ উইকেটে হারে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এনিয়ে দুইবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে দুইবারই হোয়াইটওয়াশড হলো তারা। প্রথমবার ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে।
ঘরের মাঠে দ্বিতীয়বার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার তেতো স্বাদ পেল লঙ্কানরা। ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি তারা।
২০ ওভারের ম্যাচে (পুরো ম্যাচ খেলা হয়েছে) এটিই সবচেয়ে কম রানের পুঁজি নিয়ে জয় ইংল্যান্ডের। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৯ রান নিয়ে ৫ রানে জিতেছিল তারা।
ছয়ে নেমে এক ছক্কা ও ছয়টি চারে ৪৮ বলে ৫৮ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন কারান। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই অলরাউন্ডারই হন সিরিজ সেরা খেলোয়াড়।
এদিনের জয়ে অবদান কম নয় বেথেল ও জ্যাকসেরও। বাঁহাতি স্পিনে এক ওভারে তিনটিসহ স্রেফ ১১ রান খরচায় চার উইকেট নেন বেথেল। আর ১৪ রান দিয়ে তিন শিকার ধরেন জ্যাকস।
ইংলিশদের অল্পতে আটকে রাখার পথে অসাধারণ বোলিংয়ে ২৪ রানে পাঁচ উইকেট নেন দুশমান্থা চামিরা। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কান পেসারের প্রথমবার ৫ উইকেট পাওয়ার দিনটি জয়ে রাঙাতে পারল না শ্রীলঙ্কা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড পাওয়ার প্লেতেই হারায় চার উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে বেন ডাকেটকে এলবিডব্লিউ করে দেন চামিরা। মাথিশা পাথিরানার বলে কট বিহাইন্ড হন বেথেল। এই দুইজনের মতো টম ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুকও যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
এক ছক্কা ও দুটি চারে ২১ বলে ২৫ রান করা জস বাটলারের স্টাম্প ভেঙে দেন মাহিশ থিকশানা। চামিরার দ্বিতীয় শিকার জ্যাকস।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান কারান। তাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন লিয়াম ডসন। তাকে ফিরিয়েই ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪৭ রানের জুটি ভাঙেন চামিরা। দুই বল পর জেমি ওভারটনকেও বিদায় করেন তিনি।
৪৪ বলে ফিফটি করা কারানকে ইনিংসের শেষ ওভারে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন চামিরা।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় বলে ফেরেন কামিল মিশারা। তিন ছক্কায় ১২ বলে ২৩ রান করা পাথুম নিসাঙ্কার আগ্রাসন থামান ডসন। পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট হারায়নি লঙ্কানরা।
নবম ওভারে দুর্দান্ত এক গুগলিতে পাভান রাত্নায়েকের স্টাম্প ভেঙে দেন লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ। পরের ওভারেই জ্যাকসের বলে রাশিদের হাতে ধরা পড়েন চারটি চারে ২৬ রান করা কুসাল মেন্ডিস।
তখনও ম্যাচ ছিল শ্রীলঙ্কার হাতে। কিন্তু কামিন্দু মেন্ডিস, দুনিথ ওয়েলালাগে, জানিথ লিয়ানাগে, দাসুন শানাকাদের টিকতে দেননি বেথেল ও জ্যাকস। পরপর দুই ওভারে কামিন্দু ও লিয়ানাগেকে বিদায় করেন জ্যাকস। আর ১৮তম ওভারে ওয়েলালাগে, চামিরা ও শানাকার বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন বেথেল।
শেষ ওভারে বেথেলকে ছক্কার চেষ্টায় শর্ট থার্ডম্যানে থিকশানা ধরা পড়লে জয়ের আনন্দে মাতে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের আগে সহ-আয়োজকদের একটিকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারা নিশ্চিতভাবেই ইংলিশদের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিবে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী শনিবার শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১২৮/৯ (বাটলার ২৫, ডাকেট ০, বেথেল ৩, ব্যান্টন ৭, ব্রুক ৪, কারান ৫৮, জ্যাকস ৩, ডসন ১৪, ওভারটন ২, রাশিদ ৭*, উড ১*; চামিরা ৪-০-২৪-৫, শানাকা ৩-০-২৩-০, পাথিরানা ৪-০-২৭-২, ওয়েলালাগে ৪-০-২৮-১, থিকশানা ৪-০-১৬-১, কামিন্দু ১-০-৯-০)
শ্রীলঙ্কা: ১৯.৩ ওভারে ১১৬ (নিসাঙ্কা ২৩, মিশারা ০, মেন্ডিস ২৬, পাভান ১৩, কামিন্দু ১৪, লিয়ানাগে ১৭, ওয়েলালাগে ৯, শানাকা ৪, চামিরা ০, থিকশানা ২, পাথিরানা ২*; উড ২-০-১৩-১, ডসন ৪-০-২৫-১, ওভারটন ১-০-১৪-০, কারান ১-০-৯-০, রাশিদ ৪-০-২৫-১, বেথেল ৩.৩-০-১১-৪, জ্যাকস ৪-০-১৪-৩)
ফল: ইংল্যান্ড ১২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: স্যাম কারান
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশড শ্রীলঙ্কা
ম্যান অব দা সিরিজ: স্যাম কারান