সুরিয়াকুমারকে টপকে কিষানের রেকর্ড
হ্যামিল্টনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করার পথে রেকর্ডটি গড়েন ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
মুখোমুখি চতুর্থ বলটি কাভারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে বাউন্ডারির বাইরে ফেলে রানের খাতা খুললেন ইশান কিষান। আর এই ছক্কায় দারুণ এক রেকর্ডও গড়ে ফেললেন ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি রান করা ভারতীয় এখন তিনি।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রোববার পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি করে ছক্কা ও চারে ৩২ বলে ৬১ রান করেন কিষান। এই ইনিংসের পথে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটি গড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
টি-টোয়েন্টিতে ২০২৬ সালে ভারতের জার্সিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২২০ রান করেছেন কিষান। চলতি বছর এই সংস্করণে ৩৭ ম্যাচ খেলে একটি সেঞ্চুরি ও আটটি ফিফটি করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ৩৫.৮৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১৭১.৫৮।
২০২২ সালে ৩১ টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার ১৬৪ রান করেন সুরিয়াকুমার। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ওই বছর দুটি সেঞ্চুরি ও ৯টি ফিফটি করেন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৭.৪৩ ও গড় ছিল ৪৬.৫৬।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডটি অস্ট্রিয়ার কারাবির সিংয়ের। ২০২৫ সালে ১৭৪.৮৫ স্ট্রাইক রেট ও ৫১.৩১ গড়ে ৩২ ম্যাচে এক হাজার ৪৮৮ রান করেন তিনি। দুটি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি করেন ১৩টি।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডটি পাকিস্তানের মোহাম্মাদ রিজওয়ানের। ২০২১ সালে এক সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটিতে এক হাজার ৩২৬ রান করেন তিনি। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৪.৮৯ ও ব্যাটিং গড় ৭৩.৬৬।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক বছরে ৮০০ টি-টোয়েন্টি রানও করতে পারেননি কেউ। ২০২৫ সালে ২৭ ম্যাচে তানজিদ হাসানের করা ৭৭৫ রান দেশের সর্বোচ্চ।
সুরিয়াকুমারকে টপকে যেতে হ্যামিল্টনে এদিন ছয় রান প্রয়োজন ছিল কিষানের। জেকব ডাফিকে ওই ছক্কায় রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি। ওই ওভারে একটি চারও মারেন এই ক্রিকেটার।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ব্লেয়ার টিকনারকে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন কিষান। পরের ওভারে বাউন্ডারিতে কিষানের দুর্দান্ত ক্যাচ নেন ফিন অ্যালেন, পরে অবশ্য সেটা ছক্কার সিদ্ধান্ত দেন থার্ড আম্পায়ার।
নবম ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন কিষান, ২৮ বলে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। একাদশ ওভারে বিদায় নেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ড সফরে খেলা নিজের আগের দুই ম্যাচে একদমই ভালো করতে পারেননি কিষান। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১ রানে আউট হন তিনি। চোট কাটিয়ে চতুর্থ ম্যাচে ফিরে আউট হন শূন্যতে। এবার পেলেন ফিফটির দেখা।
