যুব এশিয়া কাপ
Published : 13 Dec 2025, 07:24 PM
বাংলাদেশকে পেয়ে আরও একবার জ্বলে উঠলেন ফায়সাল খান। তার সেঞ্চুরি ও বাকিদের অবদানে বড় সংগ্রহই গড়ল আফগানিস্তান। চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় দেড়শ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত গড়ে দিলেন জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। পরে কিছুটা চাপে পড়লেও, শেষ পর্যন্ত রেকর্ড গড়া জয়ে যুব এশিয়া কাপ শুরু করল বাংলাদেশ।
দুবাইয়ে শনিবার অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের ২৮৩ রান ৭ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা।
যুব এশিয়া কাপের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের; ২০২১ সালে আফগানদের বিপক্ষেই ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল তারা।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রানের লক্ষ্যে ৬ উইকেটে জিতেছিল তারা।
জয়ের মাঝে কিছুটা আক্ষেপ থাকতে পারে আবরারের। অল্পের জন্য যে সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া পাননি তিনি। ৬টি ছক্কা ও ৯ চারে ১১২ বলে ৯৬ রান করেন তিনি।
আবরারের সঙ্গে ১৫১ রানের শুরুর জুটিতে ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৬৮ বলে ৬২ রান করেন রিফাত। তিনে নেমে ৪৮ বলে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ৩টি ছক্কা ও ২টি চার মারেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম।
ম্যাচের প্রথমভাগে সব আলো কেড়ে নেওয়া ফায়সাল ৯৪ বলে করেন ১০৩ রান। তার ইনিংসটি গড়া চারটি ছক্কা ও আটটি চারে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই নিয়ে ৬ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি। যুব ওয়ানডেতে কোনো দেশের বিপক্ষে যা যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের তাওহিদ হৃদয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আট ইনিংসে ভারতের শুবমান গিল এবং ভারতের বিপক্ষে ছয় ইনিংসে পাকিস্তানের সামি আসলামও করেছিলেন তিন সেঞ্চুরি।
আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা প্রতিপক্ষ শিবিরে চতুর্থ ওভারে আঘাত হানেন সাদ ইসলাম, কট বিহাইন্ড হন খালিদ আহমাদজাই। ওসমান সাদাত ও ফায়সালের ব্যাটে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে আফগানরা।
পাঁচটি চারে ৩৪ রান করা ওসমানকে বোল্ড করে জমে যাওয়া ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন সামিউন বাশির। উজাইরউল্লাহ নিয়াজাইকে নিয়ে এরপর ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি উপহার দেন ফায়সাল।
৫৯ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া ফায়সাল পরে বাড়ান রানের গতি। শাহরিয়ার আহমেদকে একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। পরে আজিজুল হাকিমকে মারেন টানা তিনটি ছক্কা, ওভারের শেষ বলে মারেন চার।
৯৭ রান থেকে রিজান হোসেনকে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ফায়সাল, ৯১ বলে। এরপর আর এগোতে পারেননি তিনি। ইকবাল হোসেন ইমনের বলে হন কট বিহাইন্ড, ভাঙে ৯৩ রানের যুগলবন্দি।
নিজের পরপর দুই ওভারে মাহবুব খান ও উজাইরউল্লাহকে (২ ছক্কা ও এক চারে ৪৪) বিদায় করেন বাঁহাতি স্পিনার শাহরিয়ার আহমেদ। শেষ দিকে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন আজিজউল্লাহ মিয়াখিল ও আব্দুল আজিজ।
দুটি করে ছক্কা-চারে ৩৬ বলে ৩৮ রান করেন আজিজউল্লাহ। ইকবাল হোসেনকে দুই ছক্কা মারা আজিজ পরে ছক্কায় ওড়ান সাদ ইসলামকে। ৩ ছক্কায় ১৬ বলে ২৬ রান করেন আজিজ।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারে টানা দুটি চার মেরে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন জাওয়াদ। পরের ওভারে ছক্কা ওড়ান তিনি। আরেক প্রান্তে রিফাতও ছিলেন সাবলীল। তাদের ব্যাটে প্রথম ১০ ওভারের দুটি ছাড়া প্রতি ওভারেই আসে বাউন্ডারি।
৪৬ রান থেকে খাতির স্টানিকজাইকে ছক্কায় উড়িয়ে ৪৫ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন জাওয়াদ। কয়েক ওভার পর রিফাতও ছক্কা মেরে স্পর্শ করেন ফিফটি।
আফগানদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো এই জুটির প্রতিরোধ ভাঙে ২৭তম ওভারে, রুহুল্লাহ আরাবের বলে রিফাত ক্যাচ দিয়ে ফিরলে। তিন ওভার পর বাঁহাতি স্পিনার রুহুল্লাহই বিদায় করেন জাওয়াদকে।
দ্রুত থিতু দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর দলকে টানেন কালাম ও আজিজুল। তৃতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৬৬ রানের জুটি। এরপর ৪৭ রানে পাঁচটি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এক প্রান্ত ধরে রেখে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন রিজান, করেন ১ চারে গুরুত্বপূর্ণ ১৭ রান।
‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী সোমবার, প্রতিপক্ষ নেপাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৮৩/৭ (খালিদ ৩, ওসমান ৩৪, ফায়সাল ১০৩, উজাইরউল্লাহ ৪৪, মাহবুব ১৩, আজিজউল্লাহ ৩৮*, খাতির ১১, রুহুল্লাহ ০, আজিজ ২৬*; ইকবাল ১০-০-৬৩-২, সাদ ১০-১-৫১-১, সামিউন ৯-১-৩৭-১, রিজান ৮-০-৩৫-১, পারভেজ ৪-০-২৭-০, শাহরিয়ার ৮-০-৪৩-২, আজিজুল ১-০-২৪-০)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৮.৫ ওভারে ২৮৪/৭ (জাওয়াদ ৯৬, রিফাত ৬২, আজিজুল ৪৭, কালাম ২৯, রিজান ১৭*, আবদুল্লাহ ২, সামিউন ১, পারভেজ ১৩, শাহরিয়ার ১*; আজিজ ১০-০-৫৯-০, ওয়াহিদউল্লাহ ১০-০-৫০-০, সালাম ১০-০-৭২-১, খাতির ৬.৫-০-৪৬-২, উজাইরউল্লাহ ২-০-৭-০, রুহুল্লাহ ১০-০-৪৮-২)
ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ অব দা ম্যাচ: জাওয়াদ আবরার