Published : 19 Apr 2026, 08:02 PM
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ব্লেসিং মুজারাবানিকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করাকে বাড়াবাড়ি বলছে তার এজেন্সি ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস এক্সচেঞ্জ। আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তিপত্র না দিয়েও, জিম্বাবুয়ের পেসারের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কড়া সমালোচনা করেছে তারা।
আইপিএল ও পিএসএলের নিলামে ২৯ বছর বয়সী মুজারাবানিকে দলে নেয়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার শামার জোসেফের জায়গায় তাকে দলে যোগ করার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।
কিন্তু গত মাসে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে ডাক পড়ায় পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মুজারাবানি। বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার দুই মাস পর গত ১৩ মার্চ তাকে চুক্তিভুক্ত করে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
যা ভালোভাবে নেয়নি পিসিবি। মুজারাবানির পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার পিএসএলে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে পাকিস্তানের বোর্ড।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তের কড়া জবাব দিয়েছে মুজারাবানির এজেন্সির। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঘোষণা দেয়।
ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস এক্সচেঞ্জ বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা গত ছয় সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে চুপ ছিলাম, কারণ আমরা কোনো বিদ্বেষ ছড়াতে চাইনি।” কিন্তু মুজারাবানিকে নিয়ে ‘নোংরা সমালোচনার’ কারণে তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।
এজেন্সির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পিএসএলে খেলার জন্য জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অনাপত্তিপত্রের প্রয়োজন ছিল মুজারাবানির। আর সেটা পাওয়ার জন্য লিগ বা ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু মুজারাবানিকে সেটা দেয়নি ইসলামাবাদ।
ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস এক্সচেঞ্জের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুজারাবানিকে দলে যোগ করার ঘোষণা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরও আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র দেয়নি ইসলামাবাদ। আর এই বিলম্বের মাঝে কলকাতা মুজারাবানির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দ্রুত চুক্তি করে ফেলে।
নিজেদের অবস্থানের কথা আরও একবার তুলে ধরে মুজারবানির এজেন্সি বলেছে, “যে চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে করাই হয়নি, সেটা ভঙ্গ করা যায় না।”
আইপিএলে যোগ দিতে পিএসএলের গত আসর থেকে নাম সরিয়ে নেন কর্বিন বশ। পরে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারকে এক বছরের জন্য পিএসএলে নিষিদ্ধ করে পিসিবি।
কিন্তু মুজারবানিকে দেওয়া হয়েছে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা। পিসিবির শাস্তির মাত্রায় বৈষম্য নিয়েও সমালোচনার করেছে এজেন্সিটি।
“আমরা মনে করি, পিএসএলে অংশগ্রহণের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি। অতীতে যারা সত্যিই চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাদের দেওয়া শাস্তির সঙ্গেও এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার এবং ভুলের দায় স্বীকার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এজেন্সিটি।