Published : 29 Jun 2025, 07:35 PM
ব্যাট হাতে ম্যাচের প্রথম বলেই আউট। তবে শুরুটা বাজে হলেও ম্যাচ শেষে সেই মিচেল ওয়েনই নায়ক। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা তিনি পুষিয়ে দেন বল হাতে। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আবারও ম্যাচ সেরা হয়ে অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ড ছুঁয়ে এখন বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের সামনে।
মেজর লিগ ক্রিকেটে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে ওয়াশিংটন ফ্রিডমের ১২ রানে জয়ের নায়ক ওয়েন। ব্যাটিংয়ে ‘গোল্ডেন ডাক’ এর পর মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে ৩ ওভারে ১৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন এই অস্ট্রেলিয়ান।
আসরে এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে ‘প্লেয়ার অব দা ম্যাচ’ হলেন ওয়েন। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টানা চার বা এর বেশি ম্যাচে সেরার স্বীকৃতি পাওয়া অষ্টম ক্রিকেটার তিনি।
একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে সেরা হয়ে বিশ্ব রেকর্ডটা সাকিব আল হাসানের। ২০২২ সালের বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে এই কীর্তি গড়েন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে ওয়েনের আগে টানা চারবার ম্যাচ সেরা হতে পেরেছেন কেবল শেন ওয়াটসন ও ডেভিড ওয়ার্নার।
এই তালিকার আট জনের মধ্যে ওয়ার্নারই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি চারবার ম্যাচ সেরা হয়েছেন ভিন্ন দুই দলের হয়ে (অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনবার, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে একবার)।
বাকি চার জন হলেন মার্কাস ট্রেসকোথিক (সমারসেটের হয়ে), সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ের হয়ে), দিনেশ নাকরানি (উগান্ডার হয়ে), সামি সোহেল (মালাউইয়ের হয়ে)।
চারবারই একই মাঠে এই স্বাদ পেয়েছেন কেবল ওয়েন ও ওয়াটসন। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ওয়াটসন টানা চার ম্যাচে সেরার স্বীকৃতি পান যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
ওয়েনের সবগুলো ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে। যার শুরুটা এমআই কেপ টাউনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। সেদিন দলের ২ উইকেটে জয়ের ম্যাচে বল হাতে ২৯ রানে একটি উইকেট নেওয়ার পর ২৬ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
পরের ম্যাচে টেক্সাস সুপার কিংসের বিপক্ষে বোলিংয়ে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ৫২ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন ওয়েন। এরপর লস অ্যাঞ্জেলস নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকার পর ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন ১৬ বলে।
সবশেষ বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে তার পাঁচ উইকেট শিকার। যে কোনো সংস্করণের স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথমবার এই স্বাদ পেলেন তিনি।
এখন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবেই বেশি পরিচিত ওয়েন। ব্যাট করেন ওপেনিংয়ে। ২০২১ সালে স্বীকৃত ক্রিকেটে পথচলা শুরুর সময়টায় অবশ্য পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি ব্যাটিং করতেন সাত কিংবা আট নম্বরে। তবে গত বিগ ব্যাশে ওপেনিংয়ে উঠে আসার পর ব্যাট হাত ঝড় তুলে আলোড়ন ফেলে দেন তিনি।
হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে বিগ ব্যাশে আগে চার আসর মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে যেখানে করছিলেন স্রেফ ৭৯ রান, সেখানে গতবার ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়ার পর ১১ ম্যাচে ২০৩.৬০ স্ট্রাইক রেটে ৪৫২ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনিই।
দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির পর ফাইনালে ৪২ বলে ১০৮ রানের ইনিংস খেলে দলের শিরোপা জয়ে তিনি রাখেন সবচেয়ে বড় অবদান।
পরে পাকিস্তান ও ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএল ও আইপিএলে সুযোগ পান তিনি। পিএসএলে খুব একটা ভালো করতে পারেননি, পেশাওয়ার জালমির হয়ে ৭ ইনিংসে করতে পারেন ১০২ রান। আইপিএলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বদলি হিসেবে তাকে নেয় পাঞ্জাব কিংস। একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে আউট হন শূন্য রানে।
এরপরই মেজর লিগ ক্রিকেটে খেলছেন ওয়েন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে এখন পর্যন্ত তিনি দারুণ সফল। ৭ ইনিংসে ২১০.২১ স্ট্রাইক রেটে ২৮৮ রান করে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। ১৪ উইকেট নিয়ে উইকেটশিকারির তালিকায় তিনি আছেন যৌথভাবে দুই নম্বরে।
হার দিয়ে আসর শুরুর পর টানা ছয় ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ওয়েন-ম্যাক্সওয়েলদের ওয়াশিংটন ফ্রিডম। তাদের সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস।