Published : 12 Mar 2026, 08:29 AM
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যর্থতার রেশ মিলিয়ে যায়নি এখনও। এর মধ্যেই বাংলাদেশের কাছে পরাজয়। সামনে তাকিয়ে শঙ্কার ছবি দেখছেন মোহাম্মাদ আমির। তার দুর্ভাবনা, আর কত নিচে নামবে পাকিস্তানের ক্রিকেট! দল নির্বাচন প্রক্রিয়া, ক্রিকেটারদের অনুশীলনের ধরন, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুললেন পাকিস্তানি এই পেসার।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বুধবার পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে নাহিদ রানার ৫ উইকেটে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিধ্বস্ত হয় ১১৪ রানেই। বাংলাদেশ রান তাড়ায় জিতে গেছে ২০৯ বল বাকি রেখেই।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া ছিল। উইকেট ছিল বেশ শক্ত। গতিময় সেই ২২ গজে বাউন্স মিলেছে বেশ। আমির নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বললেন, এখানেই বাংলাদেশ বিভ্রান্ত করতে পেরেছে পাকিস্তানকে।
“একটা ব্যাপার নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, বাংলাদেশ বেশ একটা স্মার্ট খেলা খেলেছে। আমরা ভেবেছিলাম, ওখানে টার্নিং উইকেট থাকবে। কিন্তু ওরা গতিময় উইকেট তৈরি করেছে। বলা হয় না যে, সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন চলে এসেছে! ওটাই হয়েছে পাকিস্তান দলের সঙ্গে। ওরা বাউন্সি উইকেট বানিয়েছে। ভালো বাউন্স ছিল।”
এমন উইকেটে ১৪০ কিলোমিটারের ওপরের গতির বোলারদের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নিয়মিতই নড়বড়ে অবস্থায় দেখছেন আমির।
“ব্যাপারটি এখন নিয়মিত হয়ে গেছে, যখনই ১৪০ কিলোমিটারের ওপরের গতির কোনো বোলার সামনে আসে, আমাদের ব্যাটসম্যানদের লাফালাফি শুরু হয়। আজকে কেবল একজন বোলারই ১৪০ কিলোমিটার গতিতে নিয়মিত বল করছিল, সে-ই ৫জনকে আউট করেছে। নাহিদ রানা পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে এসেও এভাবে আউট করেছে।”
আমির বললেন, বোলিং মেশিনে অতি অনুশীলন করায় ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার জায়গা রয়েই যাচ্ছে।
“আগেও বলেছি, বিশ্বকাপের সময় টিভিতে যখন অনুষ্ঠান করছিলাম, অনুশলিনে (বোলিং মেশিনে) বল দিয়ে যখন শট মারার চেষ্টা করবেন, পরে (ম্যাচে) গতিময় বল এলে বিপাকে পড়তেই হবে। নেটে বা যেখানেই হোক, বোলারদের দিয়ে গতিময় বলের সামনে অনুশীলন করতে হবে ওসব শট আর ডিফেন্সের। পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স এমন নয় যে ওপর থেকে বল ছুড়ছে (বোলিং মেশিনে) আর আপনি এভাবে ডিফেন্স করছেন। এই পদ্ধতি বদলাতে হবে।”
এই যুগের উঠতি ক্রিকেটারদের টেকনিকের মৌলিক জায়গায় বড় গলদ দেখছেন আমির। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিতে অভিষিক্ত দুই বাঁহাতি মাজ সাদাকাত ও শামিল হুসেইনকে দিয়ে উদাহরণ তুলে ধরলেন ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিজয়ী বোলার।
“এখনকার ছেলেপেলের একটি ব্যাপার দেখবেন, সব শুধু মিড উইকেটেই খেলে। অফ স্টাম্পে বল এলে বুঝতেই পারে না! মাজ সাদাকাতকেই দেখুন… বুঝতে পারছি এটা তার প্রথম ম্যাচ, টেনশন থাকে, চাপ থাকে… সমস্যা হলো, রান না করতে পারা এক ব্যাপার, কিন্তু টেকনিক উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে… এই টেকনিক তো থাকবে যে অফ স্টাম্পের বল ছাড়তে হবে বা কীভাবে খেলতে হবে।”
“শামিল প্রথমে মিড উইকেটে মারতে গেছে। ক্যাচ পড়েছে। পরে আবার নাহিদ রানাকে মিড উইকেটে মারতে গিয়েছে। আজকালকার ছেলেপেলেদের এটা বোঝাতে হবে, যেখানকার বল, সেখানে যেন খেলে। ছক্কা অফ সাইডেও হতে পারে, মিড অফ দিয়েও হতে পারে।”
১১৪ রানের পুঁজি নিয়ে যদিও বোলারদের করার ছিল না, তবু আমির তুলে ধরলেন বোলিং আক্রমণ কতটা ধারহীন।
“বোলিংয়ে দেখুন, আমাদেরকে ওরা এত মজায় দুম্বার মতো মেরেছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ করেছি, সেখানে ওরা ১০-১২ ওভারে ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে। এরকম কী হয়!”
তরুণ ক্রিকেটারদের নানা কিছুর দিকে আঙুল তুললেন তাদের দায় এখানে কমই দেখেন আমির। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন নির্বাচকদের।
“আমি তরুণদের সমালোচনা করার বদলে তাদেরকে যারা দলে নেয়, সেই মানুষগুলোকে প্রশ্ন করব। এই বাচ্চাগুলোর প্রথম শ্রেণির রেকর্ড তো দেখুন, টেকনিক তো দেখুন! ইরফান খান নিয়াজির ওপর দুই বছর বিনিয়োগ করলেন। ঠিকভাবে খেলার সুযোগও দেওয়া হয়নি, কখনও পাঁচ-ছয়ে খেলানো হয়েছে, কখনও সাতে। ওকে বাইরে রাখা হয়েছে। এখন আব্দুল সামাদকে আনা হয়েছে। অসম্মান করছি না, কিন্তু তার চেয়ে ইরফানকে এই মুহূর্তে বেশি ভালো লাগে।”
“আরও কত পারফরমার আছে, যাদের সুযোগ মিলছে না। কামরান গুলামকে নেওয়া হয়নি। এক-আধ মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই ছেলেরা (জাতীয় দলে) চলে আসছে। এরকম করবেন না।”
সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন শঙ্কার কালো মেঘ ঘনাতে দেখছেন আমির।
“আজ আমরা বাংলাদেশের কাছে হারতে শুরু করছি। আমার তো ভয় লাগতে শুরু করছে, আমরা সহযোগী দেশ না হয়ে যাই! এরকম করবেন না। ব্যালান্সড দল বানান, সিনিয়রদের সঙ্গে তরুণদের মিশ্রণে। দল এভাবে তৈরি করতে হয়। চার-পাঁচ সিনিয়রকে পাশে সরিয়ে সব তরুণদের খেলানো, এভাবে দল হয় না। তরুণদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্যও কিছু সিনিয়র লাগে।”
“পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের কাছে হারছে… জানি না, আমাদের ক্রিকেট আর কোথায় যাবে! আফসোস, এরকম হওয়া উচিত নয়।”