Published : 08 May 2026, 09:56 PM
চলমান কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে চোট পাওয়া ক্রিকেটারের বদলির নিয়মের তীব্র সমালোচনা করলেন জেমস অ্যান্ডারসন। এই নিয়ম প্রয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার।
এবারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে পরীক্ষামূলকভাবে নিয়মটি চালু করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। কিন্তু শুরুতেই বিতর্কের মুখে পড়ছে এই নিয়ম। বিশেষ করে ক্রিকেটার বদলির দুটি বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে অ্যান্ডারসনের দল ল্যাঙ্কাশায়ার।
এই নিয়মে বদলি ক্রিকেটারকে অবশ্যই ‘লাইক-ফর-লাইক’ হতে হবে, মানে ব্যাটসম্যানের বদলি ব্যাটসম্যান, বোলারের বদলি বোলার, অলরাউন্ডারের বদলি অলরাউন্ডার।
তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিন গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে আজিত সিং ডেলের ‘লাইক-ফর-লাইক’ বদলি হিসেবে টম বেইলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি জানান ইসিবির ম্যাচ রেফারি পিটার সাচ। কারণ হিসেবে বেইলিকে ‘খুব ভালো বোলার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলে থাকা মিচেল স্ট্যানলি পিঠে ব্যথার কারণে খেলতে না পারায় ল্যাঙ্কাশায়ার বাধ্য হয়ে ডানহাতি পেসার ডেলের পরিবর্তে দলে ডাকে বাঁহাতি পেসার অলি সাটনকে।
সাটন তখন ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের হয়ে খেলছিলেন লেস্টারশায়ারে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে ব্রিস্টলে আসতে তার লেগে যায় তিন ঘন্টা। প্রথম দিন তিনি আর মাঠে নামতে পারেননি। ফলে প্রথম দিনের বেশিরভাগ সময় বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে ছিলেন বেইলি।
পরের রাউন্ডে ডারহামের বিপক্ষে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার আরাভ শেঠির বদলি হিসেবে বাঁহাতি স্পিনার টম হার্টলিকে নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি ল্যাঙ্কাশায়ারকে, কারণ হার্টলি ছিলেন ‘বেশি অভিজ্ঞ।’ পরে তারা বদলি হিসেবে নামায় কিপার-ব্যাটসম্যান জর্জ বেলকে, যিনি কোনোভাবেই ‘লাইক-ফর-লাইক’ বদলি ছিলেন না।
ওই দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ‘টেইলএন্ডার্স পডকাস্ট’-এ অ্যান্ডারসন প্রশ্ন তুললেন, ‘লাইক-ফর-লাইক’ বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ম্যাচ রেফারিরা কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করেছিলেন।
“নিয়মগুলো কী, আমি জানি না। আমার মনে হয়, গড় ভালো কি না, তা যাচাই করার জন্য তারা শুধু ক্রিকইনফো (ক্রিকেট ওয়েবসাইট) আর পরিসংখ্যান দেখে। আরাভ শেঠির বুড়ো আঙুল তিন জায়গায় খুব বাজেভাবে ভেঙে গিয়েছিল এবং আমাদের বলা হয়েছিল যে, তার জায়গায় আমরা টম হার্টলিকে নিতে পারব না, কারণ সে অনেক বেশি অভিজ্ঞ।”
“বিষয়টা আমার কাছে বোকামি মনে হয়েছে। এই বদলি খেলোয়াড় ব্যবস্থাটা তো এই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই চালু করা হয়েছে- যেমন, কারও আঙুল ভেঙে গেল এবং তার পক্ষে বাকি ম্যাচে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়, সেখানে আমরা তার হুবহু বদলি খেলোয়াড় পেয়ে যাব। গ্লস্টারশায়ারেও আমাদের সঙ্গে এমনটা হয়েছে। ব্যাপারটা কিছুটা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।”
২০২৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন ৪৩ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন। তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ২৬তম মৌসুম চলছে এটি।
অন্য কোনো ক্রিকেটারের চোটে বদলি হিসেবে তাকে কখনো মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হবে কি-না, এমন প্রশ্নে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন টেস্ট ইতিহাসের সফলতম পেসার অ্যান্ডারসন।
“(ঘটনার প্রেক্ষিতে) আমি কখনোই কারো বদলি খেলোয়াড় হতে পারব না। যদি চোট পাই, তো পাব। যদি প্রতিটি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করি, তাহলে আমার চোট পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। আমার বদলি নেওয়া যেতে পারে, কারণ আমার মতো অভিজ্ঞতা আমাদের দলে কারো নেই, কিন্তু আমি কখনোই অন্য কারো জায়গায় খেলতে পারব না।”