বিসিবির মাঠ উন্নয়নের সংবাদ সম্মেলনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
মাঠে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্নে চটে গেলেন বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ।
সেন্টার উইকেট ও অনুশীলন উইকেট মিলিয়ে ১৩৭টি নতুন উইকেট তৈরি করা হবে গোটা দেশের বিভিন্ন মাঠে। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা তুলে ধরলেন বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব চলতে থাকল বেশ লম্বা সময় ধরে। শেষ দিকে হুট করে বদলে গেল পরিস্থিতি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্নে চটে গেলেন সাবেক এই অধিনায়ক। তর্কাতর্কি আর বাক্য বিনিময়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠল উত্তপ্ত।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নির্দিষ্ট ফটক দিয়ে সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার ছিল বছরজুড়েই। কিন্তু গত শনিবার হুট করে নিরাপত্তজনিত কারণ উল্লেখ করে কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। ম্যাচের দিন, আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন, বিসিবির আমন্ত্রণমূলক আয়োজন ও বিসিবির জানান দেওয়া সুনির্দিষ্ট অনুশীলন ছাড়া সংবাদকর্মীদের মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এরপর ক্রীড়া সাংবাদিকদের দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয় বিসিবিতে। কিন্তু বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। দায়িত্বশীল কেউ কোনো মন্তব্যও করতেও রাজি হননি এই কদিনে। বিধিনিষেধের পর মঙ্গলবার গ্রাউন্ডস কমিটির এই আায়োজনই ছিল বিসিবিতে প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
খালেদ মাসুদ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিসিবির আরেক পরিচালক ও হাই পারফরম্যান্স কমিটির প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ও গ্রাউন্ডস কমিটির ম্যানেজার আব্দুল বাতেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের তিন টেস্ট ভেন্যু মিরপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাশাপাশি খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, কক্সবাজার, বিকেএসপি, পূর্বাচলসহ দেশের বিভিন্ন মাঠে সেন্টার উইকেট বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠের নানা প্রান্তে ও আশেপাশে ফাঁকা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে উইকেটগুলো তৈরি করা হবে। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির তত্ত্বাবধানে স্থানীয় কিউরেটররা উইকেটগুলো তৈরি করবেন। খালেদ মাসুদ জানালেন, আগামী জুনের মধ্যে প্রথম ধাপের ১৩৭ উইকেট তৈরি কাজ শেষ করার লক্ষ্য তাদের। এরপর পরিকল্পনা আছে দ্বিতীয় ধাপ শুরুর।
এই প্রকল্পের সম্ভাব্য বাজেট অবশ্য জানাতে পারেননি খালেদ মাসুদ।
তবে গোটা সংবাদ সম্মেলনের আবহ বদলে যায় শেষ দিকে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে চাপা পড়ে যায় আগের সবকিছু।
সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় খালেদ মাসুদকে। তিনি তখন বলেন, “আজকে ছিল আমার প্রেজেন্টেশন নিয়ে, আপনাদের নিয়ে সমন্বয়ে একটা কাজ করা…আমার মনে হয় আমি বোঝাতে পেরেছি… আমি জানি না… আপনাদের সবার খুশি হওয়া উচিত…।”
তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বিসিবি নিজেদের সুবিধামতো সংবাদমাধ্যমকে কাজে লাগাচ্ছে কি না। এবার সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, “আমরা এত সুন্দরভাবে এত কথা বলেছি… আমার মনে হয়, প্রশ্নটা আপনি এমনভাবে করছেন, আপনার ভিউয়ার্স বাড়ানোর জন্য… ঠিক আছে…।”
এটুকু বলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। তাকে বলা হয়, “আপনি যাচ্ছেন কেন?” তখন আবার তিনি বলেন, “পরিচালক হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবে বলছি, আপনার প্রশ্ন করাটা আমার পছন্দ হয়নি বলে চলে যাচ্ছি…।”
‘চলে যাচ্ছি’ বললেও তিনি আদতে যাননি। তর্কাতর্কি ক্রমে বাড়তেই থাকে। তিনি আবার বলেন, “আমার মনে হয়, একজন-দুজন মানুষ পরিবেশ নষ্ট করে দিলেন… থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ…।”
তবে বারবার যেতে উদ্যত হলেও তিনি যাননি। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তার তর্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বেশ হট্টগোল বেঁধে যায়। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর হইচইয়ের মধ্যে কক্ষ ছেড়ে যান খালেদ মাসুদ।
