Published : 12 Apr 2025, 06:35 PM
বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে একপ্রান্ত ধরে রেখে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। হুট করেই যেন মনোযোগ হারালেন তিনি। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে স্কুপ করার চেষ্টায় বোল্ড আবাহনী লিমিটেড অধিনায়ক।
শান্তর বিদায়েই একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জয়। অনায়াসেই শেষের ব্যাটসম্যানদের ফিরিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর ও ১১ ম্যাচ পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল মোহামেডান।
ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির হয়ে এবারের আসরে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করেন আনিসুল ইসলাম। এছাড়া বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে দারুণ অবদান রাখেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি।
প্রিমিয়ার লিগে শনিবার আরেক ম্যাচে আজিজুল হাকিমের সেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে হারায় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।
দিনের অন্য ম্যাচে আব্দুল মজিদের সেঞ্চুরিতে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে জয় পায় রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব।
মোহামেডানের অপেক্ষার অবসান
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আবাহনীকে ৩৯ রানে হারায় মোহামেডান। আনিসুলের সেঞ্চুরিতে ২৬৪ রানের পুঁজি নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ২২৫ রানে গুটিয়ে দেয় তারা।
অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে হেরে আসরে যাত্রা শুরুর পর টানা ৯ ম্যাচ জিতেছিল আবাহনী। লিগের প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে আবার তেতো স্বাদ পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
১১ ম্যাচে আবাহনী ও মোহামেডানের এখন সমান ৯টি করে জয়। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে জেতায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই সুপার লিগে শুরু করবে মোহামেডান।
এর আগে প্রিমিয়ার লিগের লিস্ট ‘এ’ সংস্করণে আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের সবশেষ জয় ছিল ২০১৬ সালের মে মাসে। এরপর টানা ১১ ম্যাচে ছিল আবাহনীর দাপট। এবার তারকাখচিত দল গড়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল মোহামেডান।
টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠান শান্ত। রনি তালুকদার অল্পে ফিরলেও আনিসুলের ব্যাটে ঝড়ো শুরু পায় মোহামেডান। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান করে ফেলে তারা।
৪৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন আনিসুল। দ্বিতীয় উইকেটে মাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ১২৩ রান। ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি মাহিদুল। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ বলে ৪৮ রান করে ফেরেন কিপার-ব্যাটসম্যান।
অন্য প্রান্তে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান আনিসুল। লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করতে ১০৩ বল খেলেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। পরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১১৮ বলে ১৮ চার ও ২ ছক্কায় ১১৪ রান করে ফেরেন তিনি।
পরে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজরা হতাশ করলে বেশি বড় হয়নি মোহামেডানের সংগ্রহ। তবে সেটিই জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় আবাহনী। অষ্টম ওভারে ইবাদতের বলে মোহাম্মদ মিঠুনের এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ইবাদত। পরে তাওহিদ হৃদয়ও আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ান। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মিঠুন।
শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও মুমিনুল হক। ২৫ রান করা মুমিনুলের বিদায়ের পর আবার চাপে পড়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা।
একপ্রান্ত আগলে রেখে তবু চেষ্টা করে যান শান্ত। কিন্তু সফল হননি। ৭ চারে ১১৩ বলে ৮০ রান করে আউট হন আবাহনী অধিনায়ক।
মোহামেডানের হয়ে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নেন ইবাদত। এছাড়া ৩১ রান খরচায় মিরাজের শিকার ২ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৪৮.২ ওভারে ২৬৪ (রনি ১৬, আনিসুল ১১৪, মাহিদুল ৪৮, হৃদয় ৩, মুশফিক ২০, মাহমুদউল্লাহ ১৭, মিরাজ ১৮, সাইফ ১, আবু হায়দার ১, তাইজুল ৫, ইবাদত ০*; নাহিদ ৯.২-১-৪৯-৩, রিপন ৩-০-৩৭-০, মৃত্যুঞ্জয় ৯-০-৫৫-২, রকিবুল ১০-২-২৩-২, মোসাদ্দেক ৭-০-৩৫-১, রাব্বি ১০-০-৬০-২)
আবাহনী লিমিটেড: ৪৭.২ ওভারে ২২৫ (পারভেজ ১৬, জিসান ৩, শান্ত ৮০, মিঠুন ১৯, মুমিনুল ২৫, রাব্বি ১, মোসাদ্দেক ২৪, মৃত্যুঞ্জয় ২৪, রকিবুল ০, রিপন ১৩, নাহিদ ৫*; আবু হায়দার ৪-০-২৮-১, ইবাদত ৯.২-১-৩৬-৪, মিরাজ ১০-২-৩১-২, তাইজুল ৯-০-৫৬-১, মাহমুদউল্লাহ ৬-০-২৬-০, সাইফ ৯-১-৪৪-২)
ফল: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৩৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আনিসুল ইসলাম

মজিদের সেঞ্চুরি, মাহমুদুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্য
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ২৮ রানে হারায় রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব। ২৫১ রানের লক্ষ্যে ১১ বল বাকি থাকতে ২২২ রানে গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর।
১১ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশন লিগ এড়ানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্স। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট পাওয়া শাইনপুকুর নামবে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে রূপগঞ্জের জয়ের কারিগর আব্দুল মজিদ। এর সঙ্গে ব্যাট হাতে ফিফটির পর বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন মাহমুদুল হাসান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলকে একাই টেনে নেন মজিদ। পঞ্চম উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন মাহমুদুল। দুজন মিলে গড়েন ৯২ রানের জুটি। ৫৪ বলে ৫৬ রান করে ফেরেন মাহমুদুল।
ইনিংসের শেষ ওভারে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মজিদ। ১৩৯ বলের ইনিংসে ৬ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মারেন ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
রান তাড়ায় মাত্র ২৭ বলে ৫০ রান করে শাইনপুকুরকে ঝড়ো শুরু এনে দেন মইনুল ইসলাম। পরে রহিম আহমেদ ও শাহরিয়ার সাকিবের ব্যাট থেকেও আসে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
মাত্র ৩৬ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর।
৯ ওভারে ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন মাহমুদুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব: ৫০ ওভারে ২৫০/৬ (মজিদ ১০২*, অমিত ৪, গালিব ১০, নাসির ২৩, আল আমিন ২২, মাহমুদুল ৫৬, আরিফুল ১৪, মইনুল ৭*; শরিফুল ১০-২-৩৪-২, আলি ১০-১-৫৭-২, রাফসান ১০-০-৬১-০, আনোয়ার ১০-০-৪৫-১, জুবায়ের ১-০-৫-০)
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ৪৮.১ ওভারে ২২২ (রহমতউল্লাহ ৮, মইনুল ৫০, নিওন ২, রহিম ৫৩, রাফসান ৯, সাকিব ৫০, সাব্বির ২১, শরিফুল ৫, জুবায়ের ১১, আলি ১, আনোয়ার ১*; মহিউদ্দিন ৬-০-৩৬-২, আওলাদ ৯.১-০-৪৮-৩, আরিফুল ১-০-১৫-০, মাহমুদুল ৯-০-৩১-৪, মইনুল ১০-০-২৭-০, নাসির ৫-০-২০-০, সানদিদ ২-০-১৯-০, আল আমিন ৬-০-২৫-১)
ফল: রূপগঞ্জ টাইগার্স ২৮ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আব্দুল মজিদ
আজিজুলের সেঞ্চুরিতে গুলশানের জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারায় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। ২০৪ রানের লক্ষ্য ৭৭ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দলটি।
সুপার লিগে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না প্রাইম ব্যাংকের। হেরে গিয়ে শেষ হয়ে গেল তাদের এবারের প্রিমিয়ার লিগ।
১১ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগ শুরু করবে গুলশান। সমান ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের ঝুলিতে ১০ পয়েন্ট।
দলের সহজ জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আজিজুল হাকিম। চমৎকার ব্যাটিংয়ে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করেন বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান।
রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে ৭১ রান যোগ করেন জাওয়াদ আবরার ও আজিজুল। ৩৩ রান করে আউট হন জাওয়াদ। এরপর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন আজিজুল।
৫৬ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে আরও এগিয়ে যান বাঁহাতি ওপেনার। নাজমুল ইসলামের বল ছক্কায় উড়িয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ওই ওভারেরই শেষ বলে আউট হন ১০৬ বলে ১০৫ রান করা গুলশান অধিনায়ক।
এছাড়া পাঁচ নম্বরে নেমে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৪ বলে ৩৮ রান করেন খালিদ হাসান। অনায়াস জয় পায় গুলশান।
ম্যাচের প্রথমভাগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে একদমই সুবিধা করতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। সাত নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাজ্জাদুল হক। এছাড়া ইরফান শুক্কুরের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান।
দারুণ ছন্দে থাকা মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৩৬ রান করে বোল্ড হন। ১১ ম্যাচে এখন পর্যন্ত লিগের সর্বোচ্চ ৬১৮ রান নিয়ে আসর শেষ করলেন বাঁহাতি ওপেনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৭.৩ ওভারে ২০৩ (সাব্বির ২২, নাঈম ৩৬, শাহাদাত ০, শামীম ৭, জাকির ২২, ইরফান ৪৩, সাজ্জাদুল ৫১*, হাসান ১, নাজমুল ৩, খালেদ ৪, নাঈম ০; আজিজুল ১০-০-৪২-০, মেহেদি ৭.৩-০-৩৫-৩, পায়েল ১০-০-৩৭-২, নিহাদ ১০-০-২৯-২, ইলিয়াস ৩-০-১৫-১)
গুলশান ক্রিকেট ক্লাব: ৩৭.১ ওভারে ২০৪/৫ (জাওয়াদ ৩৩, আজিজুল ১০৫, আলিফ ৯, নাঈম ৫, খালিদ ৩৮, সাকিব ৯*, ফরহাদ ১*; হাসান ৭-০-৩৬-০, খালেদ ৪-০-৩২-০, নাঈম ১০-০-৪৫-২, নাজমুল ১০-০-৫১-১, শামীম ৫.১-০-৩০-১, শাহাদাত ১-০-৯-১)
ফল: গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: আজিজুল হাকিম