Published : 30 Nov 2025, 09:30 AM
রান তাড়ার চাপের মুহূর্তে দলকে ভরসা জোগানো এমনিতেই কঠিন। সেটা যদি হয় একাদশে ফেরার ম্যাচে, চাপ তখন চেপে বসে আরও বেশি। সঙ্গে যদি যোগ করা হয় দীর্ঘদিন পর ব্যাটিংয়ে নামার ব্যাপারটি, চ্যালেঞ্জও তখন বেড়ে যায় অনেক বেশি। সব প্রতিকূলতা পেরিয়েই দলকে জেতানোয় মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ক্যামিও ইনিংসটিকে অসাধারণ বলছেন শেখ মেহেদি হাসান।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই দুজনের ব্যাটেই শেষের বৈতরণী পার হয় বাংলাদেশ। সেখানে মূল কাণ্ডারি ছিলেন আদতে সাইফ।
সাইফ যখন ক্রিজে যান, হঠাৎ পথ হারিয়ে তখন দিশা খুঁজে বেড়াচ্ছে। সহজ জয় যেখানে ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার, কিছ সময়ের মধ্যেই সেখানে তখন প্রয়োজন হয়ে পড়ে ১৪ বলে ২২ রান। সাইফ ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই আদায় করে নেন বাউন্ডারি।
পরের ওভারে যখন আরেকটি উইকেট হারিয়ে আবার একটু সঙ্কট দল, তিন বলের মধ্যে সাইফের ছক্কা ও চার দলকে এনে দেয় স্বস্তি। ৭ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার। শেষ ওভারে মেহেদির বাউন্ডারি শেষ হয় খেলা।
এই দুজনই প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিলেন না। ফেরার ম্যাচে বল হাতে বাংলাদেশের নায়ক ছিলেন মেহেদি। দারুণ বোলিংয়ে শিকার করেন তিন উইকেট। পরে তিনি ব্যাট হাতে ক্রিজে দাঁড়িয়ে দেখেন, আরেকপ্রান্তে কীভাবে শেষ সময়ের স্নায়ুর চাপকে জয় করছেন সাইফ উদ্দিন।
তবে সাইফের জন্য পারিপার্শ্বিকতা কতটা কঠিন ছিল, সেটিই মেহেদির কণ্ঠে উঠে এলো ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে।
“সাইফ উদ্দিন অফ-অন থাকে। দলে নিয়মিত সুযোগ পায় না। এছাড়া দেখা যায়, যেদিন ব্যাটাররা ভালো করে, সেদিন টেল এন্ডাররা ব্যাটিং পায় না। আন্তর্জাতিক ম্যাচে বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরা অনেক দিন পরে পরে ব্যাটিং করতে পারে। যদি ওপরে ধস নামে, তখনই কেবল তারা (টেল এন্ডাররা) আগে নামতে পারে।”

“তো অনেক জায়গা থেকেই বলব, সাইফ উদ্দিন যে ইনিংসটি খেলেছে, এটা আউটস্ট্যান্ডিং। ওই চাপের সময়ে ওই দুটি বাউন্ডারি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
এই ম্যাচে বল হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি অধ্যায় রচনা করেছেন মেহেদি নিজেও। ম্যাচের প্রথম ওভারে তার হাতেই বল তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। সামনে তখন পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের মতো আগ্রাসী দুই ব্যাটসম্যান। প্রথম ওভারেই হজম করে তিনি তিনটি চার।‘
তবে পাওয়ার প্লে শেষে ফিরে এসেই টেনে ধরেন রানের লাগাম। এরপর এক ওভারে শিকার করেন জোড়া উইকেট, পরের ওভারে আরেকটি। শেষ পর্যন্ত চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে তার প্রাপ্তি ৩ উইকেট।
প্রথম ১০ ওভারে ৯৭ রান তোলা আয়ারল্যান্ড পরের ১০ ওভারে করতে পারে আর কেবল ৭৩ রান। মেখানে বড় কৃতিত্ব মেহেদির। তিনি নিজের অবশ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন অন্য বোলারদেরও।
“পাওয়ার প্লেতে দুটি ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সামনে আমার জন্য তো একটু চ্যালেঞ্জিং। যেহেতু ওরা জায়গা বানিয়ে খেলছিল, আসলে আমার মাইন্ড নিয়ে খেলছিল। তবে যখন পাঁচটা ফিল্ডার বাইরে থাকে (পাওয়ার প্লে) শেষে, তখন আরেকটু ভালোভাবে পরিকল্পনা করা যায়। আমি ওই পরিকল্পনার চেষ্টা করেছি। ভালো জায়গায় বল করেছি।”
“মাঝের ওভারগুলোতে বল করাতে ওদের ২০-৩০ রান কম হয়েছে। মাঝের সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাওয়ার প্লে ওরা যেভাবে কাজে লাগিয়েছে, তা শুধু ভালো নয়, বলা যায় অসাধারণ। ৬ ওভারে প্রায় ৮০ রান (৭৫) ছিল। সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সব কৃতিত্ব শুধু আমার নয়, সবাই ভালো বল করেছে।”