প্রথমের রোমাঞ্চ আর ‘বড় স্বপ্ন’ নিয়ে এশিয়ান গেমসে লিটন
ভারত যদিও সেরা দল পাঠিয়েছে এশিয়ান গেমসে, তবু বাংলাদেশ অধিনায়কের লক্ষ্য সোনার পদক জয় করা।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বয়স ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। অধিনায়ক হিসেবেও অনেক দিন হয়ে গেল। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার রোমাঞ্চ নতুন করে অনুভব করছেন লিটন কুমার দাস। এশিয়ান গেমসের মতো বড় ক্রীড়া আসরের স্বাদ যে এই প্রথম পেতে চলেছেন! নিজের ও দলের ভেতরের সেই উত্তেজনা ও সোনার পদকের স্বপ্নের কথা শোনালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
আইচি-নাগোয়া গেমসে খেলতে বাংলাদেশ দল ঢাকা ছাড়বে বৃহস্পতিবার রাতে। নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এ দিনই শুরু হয়ে যাবে ছেলেদের ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের খেলা। তবে বাংলাদেশ সরাসরি খেলবে কোয়ার্টার-ফাইনালে।
এশিয়া গেমসে ক্রিকেট থাকছে এই নিয়ে চতুর্থবার। আগের তিনবারও অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম আসরে (২০১০) ও গত আসরে (২০২৩) খেলেছে ছায়া জাতীয় দল। ২০১৪ আসরে খেলেছিল সেই সময়ের মূল জাতীয় দল। সেই স্কোয়াডের কেউ নেই এবার। এখনকার জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা তাই বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপের মতো আসরে নিয়মিত খেললেও ক্রিকেটের সীমানা ছাড়িয়ে বড় গেমসে অংশ নেবেন প্রথমবার।
সবসময় ট্রফির জন্য লড়তে হয়, এবার লড়াই দেশের হয়ে পদক জয়ের। লিটনের কণ্ঠে মিশে থাকল সেই ভিন্নতার উচ্ছ্বাস।
“অবশ্যই বাংলাদেশ দল খেলেছে অনেকবার। এই প্রথমবার আমিসহ আমরা খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমার কাছে এটা বড় ব্যাপার। জাতীয় দলকে সার্ভ করছি, সঙ্গে এরকম একটি জায়গায় খেলা, অনেক বড় ব্যাপার এটা।
এমনিতে জিতলে আপনি ট্রফি জিতবেন, কিন্তু এখানে সোনার পদকের বিষয় থাকে। এটাই একটা বড় স্বপ্ন এবং আমার মনে হয় দলের সবাই অনেক রোমাঞ্চিত।”
এশিয়ান গেমসের চলমান আসরে উশুতে একটি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। সব আসর মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ১৫তম পদক। এর মধ্যে স্বর্ণ পদক স্রেফ একটি, যা এসেছিল ক্রিকেটের হাত ধরে ২০১০ আসরে। ২০১৪ আসরে জাতীয় দল খেললেও সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি হতে পারেনি বৃষ্টিতে। পরে টসে নির্ধারিত হয় ভাগ্য। সেখানে হেরে যায় বাংলাদেশ। পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। গত আসরে সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশ হেরে যায় ভারতের কাছে। পরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ধরে রাখে ব্রোঞ্জ।
এবার মূল জাতীয় দল খেলবে বলে প্রত্যাশার ভারও বেশি। ১৬ বছর পর সোনার পদক ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য। এই অঞ্চলের সেরা দল ভারত অবশ্য এবার প্রথমবারের মতো মূল জাতীয় দলই পাঠিয়েছে। তার পরও চাপ সামলে প্রত্যাশিত সাফল্যে এনে দিতে চান লিটন।
“প্রত্যাশা তো সবাই করবে। এমন কি আমি খেলোয়াড় হিসেবে আমিও তো আশা নিয়েই যাব যে, ওখানে ভালো কিছু করব। আমি একটা জিনিস বলতে পারি, আমাদের দলের সবাই অনেক আগ্রহ নিয়ে আছে এই টুর্নামেন্ট খেলার জন্য।
এই টুর্নামেন্টটা প্রতিবার (বছর) আসে না। আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলে যে কোনো জিনিস এক বছর পরপরই পেয়ে যাবেন। কিন্তু এই খেলাটা (এশিয়ান গেমস) খুব সবসময় আসে না। আমাদের প্রত্যেকেই অনেক রোমাঞ্চিত এবং সবচেয়ে বড় স্বপ্ন যেটা, সেটাই পূরণ করার চেষ্টা করব আমরা।”
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের লড়াই হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। বাংলাদেশ দল এই সংস্করণে সবশেষ খেলেছে গত জুলাইয়ে। ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে প্রস্তুতি ক্যাম্প চলার সময় নিজেদের মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছেন লিটনরা। সামগ্রিক প্রস্তুতিতে অধিনায়ক সন্তুষ্ট।
“প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। দুইটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি অনেকদিন পর। আমরা সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছি জিম্বাবুয়েতে। ওখান থেকে একসাথে বন্ডিং হওয়ার একটা সুযোগ ছিল এই প্রস্তুতি ম্যাচ।
আমার মনে হয়, আমরা প্রস্তুতি খুবই ভালো নিয়েছি। আর অবশ্যই এখানে লক্ষ্য তো একটাই থাকবে। যেহেতু একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ফাইনাল খেলা এবং ফাইনালে যেন ভালো কিছু করতে পারি।”
এশিয়ান গেমসে যেমন এখন ক্রিকেট নিয়মিতই হচ্ছে, সামনে ক্রিকেটের সীমানা বড় হচ্ছে আরও। ১২৮ বছর পর অলিম্পিকসে ক্রিকেট ফিরছে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস আসর দিয়ে।
ছয় দলের অলিম্পিকসের বাছাই প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা খুবই সামান্য। তবে লিটন জানালেন, তাদের মনের কোণে অলিম্পকসও উঁকি দিচ্ছে।
“দেখেন অলিম্পিক কে না খেলতে চায়? কিন্তু সবার আগে, আমরা যে ইভেন্টের জন্য যাচ্ছি, আমরা যদি এই ইভেন্টে ভালো খেলি, আমার মনে হয় আল্টিমেট জায়গায় ওখানে (অলিম্পিকসে) আমরা পৌঁছে যাব। তাই লক্ষ্যটা হচ্ছে এই ইভেন্টে আমরা কীভাবে ভালো খেলতে পারি এবং কীভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি।”
