Published : 14 Oct 2023, 10:26 AM
“আমরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিলাম, লিটন ভাইকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাব। খেলা শুরু হতে হতে মাত্রই প্ল্যাকার্ড উঁচিয়েছি, তখনই তিনি আউট। খুবই হতাশার মুহূর্ত ছিল…”, ম্যাচ শেষে এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামের বাইরে বলছিলেন বাংলাদেশের এক সমর্থক। তিনি তো তবু আউটটি দেখতে পেরেছেন। গ্যালারির অন্য অনেক দর্শক তখনও থিতু হয়ে বসেননি। অনেকেই তখন ছিলেন মাঠে ঢোকার লাইনে।
খেলা শুরু হতে না হতেই বাংলাদেশের বিপদের শুরু। ম্যাচের প্রথম বলেই আউট লিটন কুমার দাস। জন্মদিনে তার প্রাপ্তি ‘গোল্ডেন ডাক।’ দলের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা হয়েও ম্যাচের প্রথম বলেই নিজের মৃত্যু পরোয়ানা লিখে ফেলেছেন তিনি। তার ওই শট নিয়ে চলছে বিস্ময়, আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। মাঠে থাকা দর্শকদের হতাশাটুকুও স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে থাকা কোচিং স্টাফের একজনের কাছে ওই শট অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি।
সহকারী কোচের দায়িত্বে মূলত ব্যাটিংই দেখভাল করেন পোথাস। ম্যাচ শেষে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘লিটনের শট দেখে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?’, প্রশ্ন শুনে তিনি যেন আকাশ থেকে পড়লেন, “আমার প্রতিক্রিয়া? কোনো প্রতিক্রিয়াই হয়নি…!” পরে তিনি ব্যাখ্যাও করলেন যে, তার কোনো আপত্তি নেই অমন শটে। বরং ওই শটে তিনি খুঁজে পেয়েছেন ইতিবাচকতা ও সাহসিকতার ছাপ।
চেন্নাইয়ে শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে প্রথম বলেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে একটু ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ফ্লিকের মতো করে উড়িয়ে ম্যাট হেনরির হাতে ধরা পড়েন লিটন। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ‘গোল্ডেন ডাক’ এটি। এর মধ্যে তিনটি হলো এই বছরই। সব মিলিয়ে এই বছর শূন্য রানে ফেরার তেতো স্বাদ পেলেন তিনি পাঁচ বার।
এমনিতে কোনো ব্যাটসম্যান বা ওপেনার ‘গোল্ডেন ডাক’ পেতেই পারেন। ম্যাচের প্রথম বলে আউট হওয়া বা বড় শট খেলতে চাওয়াও বিরল কিছু নয়। তবে পারিপার্শ্বিকতা এখানে বড় ব্যাপার। বাংলাদেশের টপ অর্ডার যেখানে নড়বড়ে, সেখানে নতুন বলের সবচেয়ে বড় হুমকি ও প্রতিপক্ষের সেরা পেসারের বলে প্রথম বলেই শাফল করে উড়িয়ে মারার চেষ্টা অনেকের কাছে অভাবনীয়।
পোথাসের কাছে অবশ্য এটিই স্বাভাবিক ব্যাপার। তিনি জানালেন, এমন ভাবনার বীজই তারা ক্রিকেটারদের ভেতরে বুনে দিচ্ছেন।
“সে (লিটন) তো ইতিবাচক একটি বার্তা দিয়েছে। বল যদি ৫ গজ এদিক-সেদিক যেত, তাহলে বাউন্ডারি হতো। তাহলে এখন এই আলোচনাই হতো না। আমরা চাই, আমাদের ব্যাটসম্যানরা সাহসী হোক। লিটনের একটি পরিকল্পনা ছিল। বোল্ট দারুণ মানসম্পন্ন বাঁহাতি পেসার। আমরা দেখেছি, তার সামনে লোকে স্রেফ জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে খেললে কী হয়। আমার তাই কোনো আপত্তি নেই (তার শট নিয়ে)।”
পোথাসকে পরে প্রশ্ন করা হলো, বোল্টের মতো একজন বোলারের বলে ঝুঁকি নেওয়ার আগে লিটন দু-একটি বল সাবধানে খেলতে পারতেন কি না। তিনি তখনও বললেন, লিটনের ভাবনার প্রক্রিয়া ঠিক ছিল।

“আপনি পরিণতির কথা বলছেন, আমি বলছি প্রক্রিয়ার কথা। আমাদের আলোচনার প্রসঙ্গই তাই ভিন্ন। ওই বলটিতে বাউন্ডারি হয়ে গেলে আমাদের এই আলোচনাই হতো না।”
তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হলো, “লিটন যদি কিছু বল দেখে খেলতেন এবং উইকেটে টিকে যেতেন, তাহলেও তো এই আলোচনা হতো না!।” পোথাসও আঁকড়ে রইলেন নিজের ভাবনা, “সে তিন বল খেলার পর যদি এলবিডব্লিউ হতো, তাহলেও আমাদের আলোচনা একই থাকত। আপনি পরিণতির কথা বলছেন, আমি বলছি প্রক্রিয়ার কথা।”
কিন্তু পরিণতি বা ফলাফলই কি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়? পোথাসের ঝটপট উত্তর, “না, প্রক্রিয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ...!"
লিটনের ভাবনায়ও যে গলদ ছিল না, সেটিও আবার জোর দিয়ে বলেন তিনি।
"তার (লিটনের) প্রক্রিয়া ও ভাবনা ছিল খুবই সাহসী। সুইং করে বল ভেতরে আনতে পারে, এমন একজন বোলারকে সামলানোর জন্য খুব ভালো ভাবনা ছিল এটি। তার ভাবনা ও প্রক্রিয়া ছিল সাহসী। কিন্তু বল সরাসরি ফিল্ডারের কাছে চলে গিয়েছে। এরকম হতেই পারে।”