আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী অধিনায়ক সারফারাজের
একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দল ও যুব দলের হয়ে আইসিসির শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়েছেন তিনি।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলে সুযোগ পান না সারফারাজ আহমেদ। ঘরোয়া ক্রিকেটেও পারফরম্যান্সে চলছে ভাটার টান। বয়সও হয়ে গেছে ৩৮। সব মিলিয়ে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা বোধহয় আর দেখছেন না তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তাই ইতি টেনে দিয়েছেন পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো অধিনায়ক।
প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা রোববার দিয়েছেন সারফারাজ। লম্বা সময় পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পেরে গর্বিত তিনি।
“পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়—পাকিস্তানের জার্সিতে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই ছিল স্পেশাল।”
“তিন সংস্করণে অধিনায়কত্ব করা ছিল স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। সবসময় নির্ভীক ক্রিকেট খেলার এবং একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ার চেষ্টা করেছি। বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলির মতো ক্রিকেটারদের ম্যাচ উইনার হিসেবে গড়ে উঠতে দেখা আমার অন্যতম বড় প্রাপ্তি।”
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার্থ টেস্টে সবশেষ পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন সারফারাজ। এর দুই বছর আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দেশের জার্সি গায়ে সবশেষ দেখা যায় তাকে।
আন্তর্জাতিক আঙিনায় সারফারাজের পথচলা শুরু হয় ২০০৭ সালে, ভারতের বিপক্ষে জায়পুরে ওয়ানডে দিয়ে। দেশের হয়ে ৫৪ টেস্ট, ১১৭ ওয়ানডে ও ৬১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। ছয়টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি ফিফটিতে মোট ছয় হাজার ১৬৪ আন্তর্জাতিক রান করেছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। গ্লাভস হাতে ৩১৫ জ্যাচ ও ৫৬ স্টাম্পিং করেছেন তিনি।
পাকিস্তানকে ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন সারফারাজ; ৫০ ওয়ানডে, ৩৭ টি-টোয়েন্টি ও ১৩ টেস্টে।
তার অধিনায়কত্বের সময় টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠে পাকিস্তান। এই সংস্করণে টানা ১১ সিরিজ জয়ের বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে তারা।
সারফারাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। ২০১৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে আট বছরের আইসিসি শিরোপা খরা কাটায় পাকিস্তান।
২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপ জয়েও পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেন সারফারাজ। জাতীয় দল ও যুব দলের অধিনায়ক হিসেবে আইসিসি শিরোপা জয়ী একমাত্র পাকিস্তানি তিনি।
ক্রিকেটে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে তাকে পাকিস্তানের ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ পুরস্কার দেওয়া হয়। এই সম্মান পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী পাকিস্তান অধিনায়কও তিনি।
