Published : 26 Jul 2026, 11:37 PM
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছতে কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে তার দেশ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। শারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তি ভবিষ্যতে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে।
তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, এ ধরনের কোনও চুক্তি হলেও অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকারের বিষয়ে কোনও আপস হবে না। এই মালভূমি ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েল অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
শারা আরও বলেন, “সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনওরকম সংঘর্ষ এড়িয়ে চলছে। একটি নিরাপত্তা চুক্তি ভবিষ্যতে সংকটের আরও বৃহত্তর ও সর্বাঙ্গীন সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে পারে।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। তারপর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় দফায় দফায় ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনার পর শারার এই বক্তব্য সামনে এল।
সাক্ষাৎকারে লেবাননের বিষয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারা স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিবেশী এই দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনও অভিপ্রায় তার নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও তা নাকচ করেন তিনি।
শারা জানান, বরং লেবাননের চলমান সংকট মোকাবেলা এবং দেশটিকে নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করছে সিরিয়া সরকার।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা ইসরায়েলের দখলে আছে। কয়েক মাস ধরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ওদিকে, লেবানন সরকার দখল হয়ে যাওয়া সব অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং দেশের সব অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
শারা বলেন, তিনি লেবাননের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সমর্থন করেন এবং মনে করেন, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র লেবানন রাষ্ট্রেরই থাকা উচিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবানন সংকট সমাধানে কেবল নিরাপত্তা-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিই যথেষ্ট নয়, বরং বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপকভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবানন যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হলে তার সরাসরি ও তাৎক্ষণিক প্রভাব সিরিয়ার ওপর পড়বে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে গোটা অঞ্চলে।
দেশের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীন পরিস্থিতি নিয়ে শারা বলেন, “কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই সেটি কার্যকরী হবে না, যতক্ষণ না সিরিয়াকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হচ্ছে।”
এছাড়াও, উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখা কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে অভ্যন্তরীন চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বের কথা স্বীকার করেছে প্রেসিডেন্ট শারা। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, সরকার চুক্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছে এবং এর চূড়ান্ত সাফল্যের ওপর আস্থা রাখছে।