Published : 03 Mar 2026, 06:55 PM
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনাল। হঠাৎ সেখানে আগমন এনামুল হকের। নিজে থেকেই জানালেন, কথা বলতে চান সংবাদকর্মী সঙ্গে। ক্রিকেট আর সংবাদমাধ্যম, দুটি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দূরে তিনি। এবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে দেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বললেন, বিসিবির কাছ থেকে সম্মান না পেলে ক্রিকেটের সঙ্গে দূরত্ব আর ঘোচাবেন না।
ক্রিকেটের এই ভরা মৌসুমেও গত তিন মাসে কোনো ধরনের ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাকে। বিপিএলের ২০২৪-২৫ আসরে ফিক্সিংসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যে ৯ ক্রিকেটারকে এবারের আসরে খেলতে দেওয়া হয়নি, তাদেরই একজন এনামুল। বিপিএলের পর তাকে রাখা হয়নি অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপেও।
এই বিসিএল দিয়ে তার মাঠে ফেরার কথা ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু তিনি খেলতে পারেননি ওমরাহ করার জন্য।
এনামুল যা বললেন, তাতে খেলার মতো মানসিক অবস্থাতেও তিনি নেই আপাতত। বিসিবির কাছ থেকে দুটি ব্যাপারে সমাধান চাইলেন ৩৩ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“দুটি বিষয় নিয়ে আমি এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছি। কোনো সমাধান পাচ্ছি না। একটা হলো, তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপার যেটা ছিল, আরেকটা পেমেন্টের ইস্যু। আমাকে বিপিএল খেলতে দেওয়া হয়নি। যেটা আমার অধিকার। এতদিন ধরে পারফরম্যান্স করে আসছি। এটা আমার প্রাপ্য, কিন্তু খেলতে পারিনি।”
“আগের বছরের যে পেমেন্ট ইস্যুটা ছিল, আমার পারিশ্রমিক, সেটাও আমি এখন পর্যন্ত কোন পাইনি। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করার পরেও কোনো ফল আসলে পাইনি। সবাই আসলে বলছে, আজ হবে বা কাল। আসলে ঝুলন্ত অবস্থায় আছি। একেক সময় একেজনের কাছ যাচ্ছি, একেকজনকে ফোন দিচ্ছি। কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না। আমি আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করেছি। তারাও যোগাযোগ করতে অনেক সময় ফল পেতে ব্যর্থ হয়েছে।”

বিপিএল খেলতে দেওয়া না হলেও বিসিএলে খেলতে দেওয়া হচ্ছে, এই ব্যাপারটিও বোধগম্য নয় এনামুলের কাছে।
“আমাকে একটা টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হবে, আরেকটা খেলতে দেওয়া হবে না। কোনো ক্রিকেটারের সঙ্গে এভাবে চলতে পারে না। এমন তো নয় যে আমি পেশাদার ক্রিকেটার নই বা তৃতীয় বিভাগে খেলছি বা কোনো ক্রিকেট খেলছি না। উড়ে এসে জুড়ে বসলাম, এরকম ব্যাপারটা তো নয়। আমার পেছনে তো একটা ক্যারিয়ার আছে। ১০-১২ বছর জাতীয় দলে খেলছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫১ সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটার। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অধিনায়কত্ব করেছি। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়কত্ব করেছি।”
অভিযোগের তদন্ত নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার ব্যাপারটি মানতে পারছেন না বাংলাদেশের হয়ে ৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার।
“এটা আসলে হাস্যকর। কেউ যদি কোনো কিছু করে থাকে, তার জন্য এক মাস, এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ যথেষ্ট সেটা বের করতে। দুই বছর ধরে কেউ বের করতে পারছে না, তার মানে তো সে কিছু করে নাই। ব্যাপারটা তো এরকমই হওয়া উচিত। জানি না, আমি নাসায় জব করি কি না। নাসায় জব করলে বলতে পারতাম যে, আমি ভাই দারুণ ব্রেনি মানুষ, এমন কিছু করছি যে কেউ বুঝবে না।”
আগের বহুবারের মতো আরও একবার এনামুল দাবি করলেন, কোনো ধরনের দুর্নীতি তিনি করেননি। বিসিবির কাছে তার চাওয়া, হারানো সম্মান যেন আবার ফিরিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
“আমি তো বলছি কিছু করিনি। করলে আপনি প্রমাণ দেখান। আমি ক্রিকেট খেলব না। এখনও বলছি, আমার তো খেলার দরকার নেই। আপনারা যে অসম্মান আমাকে দিয়েছেন গত এক বছর ধরে, সেটা যথেষ্ট একটা মানুষের জন্য। পরবর্তীতে খেলেও আসলে আর সম্মান অর্জন করার মমো মনে হয় না কোনো অবস্থান থাকবে। আমি মনে করি যে, যথেষ্ট হয়েছে এবার আপনারা একটা সমাধান দিন।”
“আমার ক্রিকেট খেলার দরকার নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত না উনারা আমাকে সম্মান ফেরত দিচ্ছে, সসম্মানভাবে সবাইকে জানাচ্ছে যে বিজয় অপরাধী না, বিজয়ের পেমেন্ট ক্লিয়ার হয়েছে, এই যে নামগুলো ভুল করে হয়ে গেছে, সন্দেহ তালিকায় ছিল, এখন জিনিসটা সুন্দরভাবে হয়ে গেছে… সুন্দর করে বিসিবি যখন বলবে, তখন আমি ক্রিকেট খেলব। আমার এখন সম্মান দরকার। সম্মানের জন্য ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য না। সেটা আবার ফেরত পেতে চাই, দ্যাটস ইট।”
ব্যাপারটি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কোনো ইচ্ছে নেই বলে জানালেন এনামুল। তবে নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে আছে তার।