৪৩০ রান তাড়ায় জয়ের বিশ্বাস ছিল ‘শ্রীলঙ্কার সবার’
ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জিতে ব্যাটসম্যানদের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস।
চারশ ছাড়ানো লক্ষ্যে ব্যাটিং শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। শুরুতে জোড়া উইকেট হারানোর পর তাদের বড় পরাজয়ের ছবিই হয়তো আঁকছিল অনেকে। তবে সবাইকে ভুল প্রমাণ করে অভাবনীয় এক জয় তুলে নেয় তারা। লঙ্কান অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস বললেন, দলের ভেতর জয়ের বিশ্বাস ছিল শুরু থেকেই।
রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে জিতে যায় এক বল বাকি থাকতে। ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির এটি। এই সংস্করণে আগে কখনও ৩২২ রানের বেশি তাড়া করে জয় ছিল না শ্রীলঙ্কার।
দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক করেন ১১৬ বলে ২০২ রান। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক মেন্ডিস কোনো বল না খেলেই রান আউট হন শূন্য রানে। তখন ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে দল। তবে আভিশকা ফার্নান্দো ৮৩ বলে ৯৭ রানের ইনিংসে পথ দেখান দলকে।
মিডল অর্ডারে পাভান রাত্নায়াকে ১০৬ বলে ১৩০, দাসুন শানাকা ৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসে এগিয়ে নেন দলকে। ২৭ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন জানিথ লিয়ানাগে।
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে মেন্ডিস বলেন, নিজেদের ওপর কখনও বিশ্বাস হারাননি তারা।
“সবারই বিশ্বাস ছিল যে, আমরা এটা করতে পারব। আমরা প্রতিদিন মিটিংয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কথা বলি; নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি। সবাই জানে কীভাবে খেলতে হয়, আর আজকে রান তাড়ার মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি যে, আমরা ভালো খেলতে পারি এবং বড় স্কোর গড়তে পারি। আমি সত্যিই খুব খুশি।”
সচরাচর সাত নম্বরে ব্যাটিং করা শানাকাকে এই ম্যাচে নামানো হয় পাঁচে। মেন্ডিস জানালেন, তাদের পরিকল্পনারই অংশ ছিল এটি। ব্যাটসম্যানদের মানসিক দৃঢ়তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন অধিনায়ক।
“কোচ ও আমি আলোচনা করছিলাম যে, আমাদের শুরুর কয়েক ওভার স্বাভাবিক খেলতে হবে। এরপর পরিস্থিতি বুঝে এগোতে হবে। আমরা ঠিক করলাম, দাসুনকে একটু আগেভাগে নামানো যায় কি না। আমার মনে হয়, ছেলেরা সত্যিই খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। প্রত্যেকেই দৃঢ় মানসিকতা দেখিয়েছে এবং দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। আমার মনে হয়, এই কারণেই আমরা ৪৩০ রান তাড়া করতে পেরেছি।
“আভিশকা, পাভান, দাসুন, জানিথ-সবাই দারুণ ব্যাটিং করেছে। সবাই নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, অধিনায়ক হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত।”
