৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

হোপ-রাদারফোর্ডের তাণ্ডবে ৫০১ রানের টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারাল উইন্ডিজ

হোপের ৯ ছক্কায় সেঞ্চুরি ও রাদারফোর্ডের ৭ ছক্কায় ৮৪ রানের সুবাদে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির গড়ল ক্যারিবিয়ানরা।

হোপ-রাদারফোর্ডের তাণ্ডবে ৫০১ রানের টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারাল উইন্ডিজ

চার-ছক্কার ঝড় তুলে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেন শেই হোপ। ছবি: আইসিসি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 11:32 PM

Updated : 10 Oct 2026, 12:59 AM

জয়ের জন্য তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ১২ বলে ১০ রান। সেঞ্চুরি ছুঁতে শেই হোপেরও চাই ১০। আকসার প্যাটেলের তিন বলের মধ্যে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে মাইলফলক স্পর্শ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। রেকর্ডের ভেলায় ভেসে তার দলও পৌঁছে গেল কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।

রান উৎসবের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রাঁচিতে শুক্রবার সাঞ্জু স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ ও তিনটি চল্লিশ ছোঁয়া ইনিংসে ভারত ২০ ওভারে তোলে ২৪৯ রান। তখন পর্যন্ত এই দুই দলের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে যা সর্বোচ্চ স্কোর।

রান তাড়ায় প্রথম ওভারে দুটি ও পাওয়ার প্লেতে মোট তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা ৯ বল হাতে রেখেই।

এই সংস্করণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির এটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতে এই রেকর্ডের চূড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর আগে সর্বোচ্চ ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০১৫ সালে।

ভারতের বিপক্ষে এতদিন ২২৩ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির ছিল না কোনো দলের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেটি করে দেখাল দাপট দেখিয়ে। যেখানে আলাদা করে বলতে হবে হোপের কথা। পাঁচ দিন আগে চান্ডিগাড়ে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অপরাজিত ১৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে দলকে জেতান তিনি। এর আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হোপ ফিফটি করলেও হেরে যায় দল। এবার রেকর্ড রান তাড়ায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে দলের জয়ের নায়ক তিনিই।

৯ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রানের টর্নেডো ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন হোপ। পার্শ্বনায়ক রাদারফোর্ড পাঁচ নম্বরে নেমে সাতটি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ বলে করেন ৮৪ রান।

স্রেফ ৫৪ বলে ১২০ রানের বিস্ফোরক জুটি উপহার দেন এই দুজন। চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রানের জুটি এটি। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শিমরন হেটমায়ার ও ডোয়াইন ব্রাভোর ১০৩ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৩ ছক্কার এই ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৫০১। এই সংস্করণে এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রানের নজির আছে একটি- ২০০৯ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ৫১৭।

এ দিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। প্রথম ওভারে একটি ছক্কা ও পরের ওভারে দুটি চার মারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আভিশেক শার্মা (১২ বলে ২০)।

৬ রানে জীবন পেয়ে ঝড় তোলেন স্যামসন। পঞ্চম ওভারে তিনি দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন আকিল হোসেনকে। এই কিপার-ব্যাটসম্যান পরের ওভারে জীবন পান আরেক দফা, ৪২ রানে। পরের দুই বলে দুটি চার মেরে ফিফটি করেন তিনি ২১ বলে।

অন্য পান্তে ইশান কিষানও এগিয়ে যান ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। ১১ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৩৯ রান।

পরের ওভারে আক্রমণে ফিরেই কিষানকে (২২ বলে ৪৩) ফিরিয়ে ৪৩ বলে ৯৭ রানের বড় জুটি ভাঙেন চেইস। নিজের পরের ওভারে তিনি বিদায় করেন শিভাম দুবেকেও।

রান বন্যার ম্যাচে অফ স্পিনে চার ওভারে কেবল ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন চেইস।

স্যামসনও ফিরে যান পরের ওভারে। দ্রুত তিন ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেটে ৩৩ বলে ৮৩ রানের বিস্ফোরক জুটিতে দলের স্কোর আড়াইশর কাছে নিয়ে যান অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলাক ভার্মা।

প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শ্রেয়াস এবার তিনটি করে চার ও ছক্কায় ১৮ বলে করেন ৪০ রান। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ১৮ বলে ৪৪ রান করেন তিলাক।

লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম চার বলের মধ্যে জোড়া ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরপর দুই বলে কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারকে ফেরান গতিময় বোলার মায়াঙ্ক ইয়াদাভ।

রভম্যান পাওয়েল ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে থেমে যান পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে (১৩ বলে ২৪)। তাকেও বিদায় করেন মায়াঙ্ক। তখন ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে হোপ ও রাদারফোর্ড চাপ জেঁকে বসতে দেননি। পাল্টা আক্রমণে উল্টো ভারতের বোলারদের দিশাহারা করে দেন তারা। দুজনই পঞ্চাশে পা রাখেন সমান ২৪ বলে।

পঞ্চদশ ওভারে রাফারফোর্ডকে ফিরিয়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভ।

তখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান। তবে হোপ ও রোমারিও শেফার্ডের (১৩ বলে ৩৪*) তাণ্ডবে সফরকারীরা জিতে যায় অনায়াসে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে শামার স্পিঙ্গার চার ওভারে দেন ৬৪ রান, ভারতের হয়ে আকসার ৩.৩ ওভারেই দেন ৬৩।

আগামী রোববার তৃতীয় ম্যাচ হবে হায়দরাবাদে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ২৪৯/৫ (আভিশেক ২০, স্যামসন ৮২, কিষান ৪৩, দুবে ৭, শ্রেয়াস ৪০, তিলাক ৪৪*, নামান ৪*; আকিল ৩-০-৪৬-০, শেফার্ড ৩.৪-০-৪৭-০, চেইস ৪-০-২৪-৩, মোটি ২-০-২১-০, শামার ৩-০-৩৯-০, স্পিঙ্গার ৪-০-৬৪-২, পাওয়েল ০.২-০-৭-০)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৩ ওভারে ২৫২/৪ (হোপ ১০২*, পুরান ৪, হেটমায়ার ০, পাওয়েল ২৪, রাদারফোর্ড ৮৪, শেফার্ড ৩৪*; মায়াঙ্ক ৩-০-৩৬-৩, আর্শদিপ ৪-০-৪৫-০, আকসার ৩.৩-০-৬৩-০, দুবে ২-০-৩০-০, কুলদিপ ৪-০-৫৩-১, নামান ২-০-২৫-০)

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুটির পর ১-১ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: শেই হোপ