হোপ-রাদারফোর্ডের তাণ্ডবে ৫০১ রানের টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারাল উইন্ডিজ
হোপের ৯ ছক্কায় সেঞ্চুরি ও রাদারফোর্ডের ৭ ছক্কায় ৮৪ রানের সুবাদে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির গড়ল ক্যারিবিয়ানরা।
জয়ের জন্য তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ১২ বলে ১০ রান। সেঞ্চুরি ছুঁতে শেই হোপেরও চাই ১০। আকসার প্যাটেলের তিন বলের মধ্যে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে মাইলফলক স্পর্শ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। রেকর্ডের ভেলায় ভেসে তার দলও পৌঁছে গেল কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।
রান উৎসবের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রাঁচিতে শুক্রবার সাঞ্জু স্যামসনের ৪১ বলে ৮২ ও তিনটি চল্লিশ ছোঁয়া ইনিংসে ভারত ২০ ওভারে তোলে ২৪৯ রান। তখন পর্যন্ত এই দুই দলের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে যা সর্বোচ্চ স্কোর।
বড় রান তাড়ায় প্রথম ওভারে দুটি ও পাওয়ার প্লেতে মোট তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা ৯ বল হাতে রেখেই।
এই সংস্করণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের নজির এটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতে এই রেকর্ডের চূড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর আগে সর্বোচ্চ ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ২০১৫ সালে।
ভারতের বিপক্ষে এতদিন ২২৩ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির ছিল না কোনো দলের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেটি করে দেখাল দাপট দেখিয়ে। যেখানে আলাদা করে বলতে হবে হোপের কথা। পাঁচ দিন আগে চান্ডিগাড়ে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অপরাজিত ১৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে দলকে জেতান তিনি। এর আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হোপ ফিফটি করলেও হেরে যায় দল। এবার রেকর্ড রান তাড়ায় অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দলের জয়ের নায়ক তিনিই।
৯ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রানের টর্নেডো ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন হোপ। পার্শ্বনায়ক রাদারফোর্ড পাঁচ নম্বরে নেমে সাতটি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ বলে করেন ৮৪ রান।
স্রেফ ৫৪ বলে ১২০ রানের বিস্ফোরক জুটি উপহার দেন এই দুজন। চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রানের জুটি এটি। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শিমরন হেটমায়ার ও ডোয়াইন ব্রাভোর ১০৩ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৩ ছক্কার এই ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৫০১। এই সংস্করণে এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রানের নজির আছে একটি- ২০০৯ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ৫১৭।
(বিস্তারিত আসছে)
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২৪৯/৫ (আভিশেক ২০, স্যামসন ৮২, কিষান ৪৩, দুবে ৭, শ্রেয়াস ৪০, তিলাক ৪৪*, নামান ৪*; আকিল ৩-০-৪৬-০, শেফার্ড ৩.৪-০-৪৭-০, চেইস ৪-০-২৪-৩, মোটি ২-০-২১-০, শামার ৩-০-৩৯-০, স্পিঙ্গার ৪-০-৬৪-২, পাওয়েল ০.২-০-৭-০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৩ ওভারে ২৫২/৪ (হোপ ১০২*, পুরান ৪, হেটমায়ার ০, পাওয়েল ২৪, রাদারফোর্ড ৮৪, শেফার্ড ৩৪*; মায়াঙ্ক ৩-০-৩৬-৩, আর্শদিপ ৪-০-৪৫-০, আকসার ৩.৩-০-৬৩-০, দুবে ২-০-৩০-০, কুলদিপ ৪-০-৫৩-১, নামান ২-০-২৫-০)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুটির পর ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেই হোপ
