‘রোহিত-কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটের কোহিনুর’
পারফর্ম করে গেলে দুই তারকা ব্যাটসম্যানের পরের বছরের বিশ্বকাপে না খেলার কোনো কারণ দেখেন না ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচক চেতান শার্মা।
পারফরম্যান্স ও ফিটনেসই হওয়া উচিত দলে জায়গা পাওয়ার প্রধান মানদণ্ড- এমনটাই মনে করেন চেতান শার্মা। পারফর্ম করে গেলে রোহিত শার্মা ও ভিরাট কোহলির ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে না খেলার কোনো কারণ দেখেন না ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচক।
আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চতুর্দশ আসর। ততদিন তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে পারবেন কি না বা বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিতে পারবেন কি না, এসব নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন আর কৌতূহল।
কারণটাও পরিষ্কার। অনেকদিন ধরে তাদের বয়স নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে চলছে আলোচনা। রোহিতের বয়স ৩৯ পেরিয়ে গেছে। আগামী নভেম্বরে ৩৮ বছর পূর্ণ করবেন কোহলি। ভারতের হয়ে এখন কেবল ওয়ানডেতেই খেলেন সাবেক দুই অধিনায়ক।
২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন চেতান। রোহিত ও কোহলির বয়স ঘিরে চলমান চর্চাকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এই দুই ব্যাটসম্যানকে ভারতীয় ক্রিকেটের মূল্যবান সম্পদ উল্লেখ করে সাবেক এই পেসার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় বলেন, ম্যাচ জেতাতে পারে এমন খেলোয়াড় দলে থাকা উচিত।
“আমি বুঝতে পারি, মানুষ অনেক কিছু বলছে। আমিও একজন ক্রিকেটার ছিলাম, তাই ক্রিকেটার হিসেবে তাদের সম্মান করি ও ভালোবাসি। রোহিত শার্মা ও ভিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটের ‘কোহিনুর।’ বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। তারা যদি ভালো অবস্থায় থাকে, তাহলে কেন নয় (খেলা চালিয়ে যাবে না কেন)?
“আমিও একজন নির্বাচক ছিলাম। রোহিত সম্প্রতি একটি সেঞ্চুরি করেছে (১৯ জুলাই লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৩৮ রান)। ভিরাট তো প্রতিটি ম্যাচেই রান করছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? আমরা এমন খেলোয়াড় চাই, যারা আমাদের ম্যাচ জেতাতে পারে। আর তারা দুজনই সেটা করতে সক্ষম।”
রোহিতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে তার ফিটনেস ও ফর্ম ধরে রাখার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন চেতান। তার প্রশ্ন, এমন পরীক্ষিত পারফর্মাররা যখন দলের হয়ে ম্যাচ জেতানোয় অবদান রাখছেন, তখন কেন তাদের বাদ দেওয়া হবে?
“তারা যখন ভারতের হয়ে ব্যাট করতে নামে এবং আমাদের ট্রফি জেতায়, তখন তাদের খেলা দেখতে আমার ভালো লাগে। রোহিত এত বছর পর আমাদের একটি ট্রফি জিতিয়েছে (তার নেতৃত্বে ভারত দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে, যা ১৭ বছর পর এই সংস্করণে ভারতের প্রথম শিরোপা)। আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। অন্য লোকেরা কী বলছে, সেটা আমাদের শোনা উচিত নয়।
“যদি তারা ফিট থাকে, রান করে, তাহলে কেন তাদের নেব না? এই প্রশ্ন সবার উদ্দেশ্যেই করছি।”
চেতান প্রধান নির্বাচক থাকার সময় জাতীয় দলের নেতৃত্ব পান রোহিত। তার অধিনায়কত্বেই ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ এক অপেক্ষার অবসান ঘটায় ভারত। সেই প্রসঙ্গও টানেন তিনি।
“আমি যখন প্রধান নির্বাচক ছিলাম, তখন আমরা রোহিতকে অধিনায়ক করেছিলাম। তার প্রতি আস্থা রেখেছিলাম, তাই তাকে অধিনায়ক করেছিলাম। ভিরাট সবসময়ই ভারতীয় ক্রিকেটের সম্পদ ছিল। আমি যেমন বলেছি, তারা যদি ফিট থাকে এবং ভারতের হয়ে রান করে, তাহলে আমাদের খুশি হওয়া উচিত।”
