নিউ জিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা সিরিজ
Published : 02 Jan 2025, 04:17 PM
ব্যাটিংয়ে নেমেই মিচেল স্যান্টনারকে চার মেরে হাত খুললেন কুসাল পেরেরা। এরপর ব্যাটকে যেন মুগুর বানিয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের তুলাধুনা করলেন তিনি। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে উপহার দিলেন রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি। পরে শ্রীলঙ্কার গড়া বিশাল পুঁজি তাড়ায় নিউ জিল্যান্ড লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না।
নেলসনে বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার জয় ৭ উইকেটে। ২০০৬ সালের পর নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতল লঙ্কানরা।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড। বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় শ্রীলঙ্কা।
পেরেরার সেঞ্চুরি ও চারিথা আসালাঙ্কার ৪৬ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২১৮ রান করে শ্রীলঙ্কা, টি-টোয়েন্টিতে যা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান এই সংস্করণে তাদের সর্বোচ্চ।
রান তাড়ায় পঞ্চদশ ওভার পর্যন্ত লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই ছিল নিউ জিল্যান্ড। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৩০ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। লঙ্কানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত এই সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। থেমে যায় ২১১ রানে।
ম্যাচটিতে মোট রান হয়েছে ৪২৯। দুই দলের টি-টোয়েন্টিতে যা সর্বোচ্চ।
দেশের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে ১০১ রান করেন পেরেরা। তার ৪৬ বলের ইনিংসটি গড়া ৪টি ছক্কা ও ১৩টি চারে। এই ইনিংসের পথে ৪৪ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান, শ্রীলঙ্কার হয়ে যা দ্রুততম। ভেঙে দেন তিনি ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিলাকারাত্নে দিলশানের করা ৫৫ বলের সেঞ্চুরির রেকর্ড।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন তৃতীয় ওভারেই পাথুম নিসাঙ্কাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন কুসাল মেন্ডিসও। পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারানোর চাপ দলের ওপর পড়তে দেননি পেরেরা।
১৫ রানে জীবন পেয়ে ২৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন পেরেরা। টি-টোয়েন্টিতে এনিয়ে ১৬ বার পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন তিনি। শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
পঞ্চদশ ওভারে আরেক দফায় বেঁচে যায় পেরেরা। তখন ৬০ রানে খেলছিলেন তিনি। সেখান থেকে দ্রুত রান তুলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তার ঝড়ের বড় ঝাপটা যায় ম্যাট হেনরির ওপর দিয়ে। ১৮তম ওভারে এই পেসারকে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ ছক্কায় পূরণ করেন সেঞ্চুরি। ওভারটি থেকে আসে ২৩ রান। পরের ওভারে মাইকেল ব্রেসওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় পেরেরা তাণ্ডব।
চমৎকার এই ইনিংসের পথে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন পেরেরা। ৭৭ ম্যাচে তার রান এখন দুই হাজার ৫৬। এক হাজার ২০ রান নিয়ে দুইয়ে কুসাল মেন্ডিস।
জবাব দিতে নেমে কিউইদের ভালো শুরু এনে দেন টিম রবিনসন ও রাচিন রাভিন্দ্রা। তাদের জুটিতে পাওয়ার প্লেতে ৬৩ রান তোলে স্বাগতিকরা। সপ্তম ওভারে হাসারাঙ্গাকে টানা দুই ছক্কা মারা রাভিন্দ্রা এক বল পর ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। তখন ৩৮ রানে ছিলেন তিনি।
দুটি করে ছক্কা-চারে ৩৭ রান করা রবিনসনকে বিদায় করে ৮১ রানের জুটি ভাঙেন বিনুরা ফার্নান্দো। এরপর দ্রুত মার্ক চ্যাপম্যান ও গ্লেন ফিলিপসকেও হারিয়ে ফেলে তারা।
হাসারাঙ্গাকে ছক্কায় উড়িয়ে ২৯ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন রাভিন্দ্রা। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। পঞ্চদশ ওভারে আসালাঙ্কাকে টানা ৪টি ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দেন ড্যারিল মিচেল। কিন্তু দুই ওভারে মিচেল হে, ব্রেসওয়েল ও মিচেলকে হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে পড়ে কিউইরা।
শেষ দিকে মিচেল স্যান্টনার ও জ্যাকরি ফুকস অবিচ্ছিন্ন থেকে টি-টোয়েন্টিতে অষ্টম উইকেটে নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটির গড়েন। তবে শেষ ওভারে ২২ রানের প্রয়োজনে ১৪ রানের বেশি নিতে পারেননি তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২১৮/৫ (নিসাঙ্কা ১৪, মেন্ডিস ২২, পেরেরা ১০১, আভিশকা ১৭, আসালাঙ্কা ৪৬, রাজাপাকসা ৬*, উইক্রামাসিংহে ৬*; হেনরি ৪-০-৪৭-১, ডাফি ৪-০-৩০-১, ফুকস ৪-০-৫২-১, স্যান্টনার ৩-০-৩৬-১, ব্রেসওয়েল ৩-০-৩৪-০, ফিলিপস ১-০-১২-০, মিচেল ১-০-৬-১)
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২১১/৭ (রবিনসন ৩৭, রাভিন্দ্রা ৬৯, চ্যাপম্যান ৯, ফিলিপস ৬, মিচেল ৩৫, হে ৮, ব্রেসওয়েল ১, স্যান্টনার ১৪*, ফুকস ২১*; উইক্রামাসিংহে ১-০-১১-০, তুষারা ৪-০-৩৩-১, বিনুরা ৪-০-৪৩-১, থিকশানা ৩-০-৩৩-০, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩৮-২, আসালাঙ্কা ৪-০-৫০-৩)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুসাল পেরেরা
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড
ম্যান অব দা সিরিজ: জ্যাকব ডাফি