কাটার শিখতে মাশরাফির ক্লাসে তাসকিন

ব্যাটে-বলে ঠিক মিলছিল না। তাই এক সঙ্গে দুই জনের কাজ করা হয়ে উঠছিল না। নানা ব্যস্ততায় যে ৯ মাসের বেশি সময় ধরে মাঠেই আসতে পারছিলেন না মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষ পর্যন্ত সময় করে উঠতে পারলেন বাংলাদেশের সফলতম পেসার। সুযোগ পেয়ে তার কাছ থেকে কার্যকর স্লোয়ারের কিছু গ্রিপ শিখে নিলেন তাসকিন আহমেদ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Sept 2021, 01:50 PM
Updated : 30 Sept 2021, 01:50 PM

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মাঠে আসেন মাশরাফি। ঘণ্টা তিনেক স্লোয়ারের বিভিন্ন গ্রিপ নিয়ে কাজ করেন তাসকিনের সঙ্গে। সে সময় মাঠে থাকা সৌম্য সরকারও কাজে লাগান সুযোগ। অনিয়মিত এই পেসারও শিখে নেন স্লোয়ারের দুয়েকটা গ্রিপ।

টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরা একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “সারা জীবনের ভাই, আমার অধিনায়ক।”  

তাসকিনকে একটি গ্রিপ দেখিয়ে দিয়ে বল করতে বললেন মাশরাফি। কাঁধে হাত রেখে দেখিয়ে দিলেন ফিল্ডাররা কে কোথায়, এক সঙ্গে জাতীয় দলে খেলার সময় যে কাজ করেছেন অসংখ্যবার। ব্যাটিংয়ে ছিলেন কিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। তিনি শট খেলার পর তাসকিনের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে ডেলিভারি নিয়ে আলাপ করলেন মাশরাফি।

ক্যারিয়ার জুড়েই দারুণ সব কাটারে সফল হয়েছেন মাশরাফি। কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পর গতি কমলেও কাটারের কার্যকারিতে মোটেও কমেনি। সে কারণেই তার গ্রিপ শিখে নিতে উন্মুখ তাসকিন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে রাখলেন, গতির সঙ্গে কোনো আপোস নয়। ব্যাটসম্যানদের আরও বেশি ভাবনায় রাখার জন্য ভাণ্ডারে যোগ করতে চান নতুন অস্ত্র।

গতিময় পেসারদের স্লোয়ার কখনও কখনও ভীষণ কার্যকর হয়ে ওঠে। কিন্তু বোলিংয়ের এদিকটায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না তাসকিন। তার স্লোয়ার আসলে কেমন, নিজেই জানালেন সে কথা।

“আমি কাটার আগেও করতাম। আমারটা একটু সোজা যেত, কম ঘুরত। আগে তো মিরপুরের উইকেটেও আমার কাটার ধরত না। এখন একটু ধরছে। আরও অনুশীলন করব, আরও আত্মবিশ্বাসী হবো। হয়ত ভালো হবে।”

মিরপুরের উইকেটেও কাটার ধরত না, এই কথাটাই আসলে সব বলে দিচ্ছে। আর মাশরাফির তো জানাই আছে সবটা। কয়েক পা দৌড়ে নিজে কয়েকটা বল করলেন। টুপি রেখে দেখিয়ে দিলেন, অফ স্টাম্পের কতটা বাইরে, কোন লেংথে ডেলিভারি দিতে হবে। 

পরে সেভাবে বোলিং করলেন তাসকিন, কখনও লাইন-লেংথ ঠিক থাকল, কখনও নয়। কখনও কাটার করাতে পারলেন। কেবল তো শুরু। তাসকিন জানালেন, পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেতে নতুন গ্রিপে বোলিং চালিয়ে যাবেন তিনি।

“ভাইয়াকে বলছিলাম একদিন সময় দেওয়ার জন্য। কারণ, আমার আসলে পেস, সুইং এইগুলোর উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু আমি স্লোয়ারের দিক থেকে একটু পিছিয়ে। স্লোয়ারে উন্নতি করতে চাই। ভাইয়াকে বলতাম। ভাই এসে কিছু গ্রিপ দেখিয়ে বলেছেন, একেকজনের একেক রকক অ্যাকশন হয়। এগুলো একটু চেষ্টা করে দেখতে পার। আমার কাছে ভালো লেগেছে, কিছু কাটারের গ্রিপ দেখিয়েছেন। আশা করি, এইগুলা প্রয়োগ করলে ফল মিলবে।”

“মূলত দুই-তিনটা গ্রিপ দেখিয়েছে। আর বলেছেন, একসঙ্গে এতো কিছু নিয়ে তো কাজ করা যাবে না। যেহেতু সামনেই অনেক খেলা। আপাতত কাটার ট্রাই করতে বলেছেন। তো ওইটাই দেখিয়েছেন। বলেছেন, যদি ভালো লাগে এটা চালিয়ে যেতে পার। এটা আয়ত্তে এলে আরেকটা।”

সেই ১৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে শেষ মাঠে এসেছিলেন মাশরাফি। কদিন আগে স্বপরিবারে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন, তবে সেটা ব্যক্তিগত কাজে। খেলা সংক্রান্ত কোনো কাজে এলেন প্রায় সাড়ে নয় মাস পর। এতো ব্যস্ততার মাঝেও মাশরাফি সময় বের করে মাঠে আসায় কৃতজ্ঞতা জানালেন তাসকিন।

“ব্যস্ততার মাঝে মাশরাফি ভাই আমাকে সময় দিয়েছেন, এটা অনেক। আমার স্লোয়ার অন্যদের থেকে একটু দুর্বল। আজ যে গ্রিপগুলো দেখিয়েছেন, এইগুলা আগেরগুলোর থেকে ভিন্ন।”

“আমার শক্তি যেটা পেস বাউন্স, তার সঙ্গে এটা যোগ হলে আরেকটা বিকল্প হাতে থাকবে। মাশরাফি ভাই বলেছেন, যদি ভালো লাগে তাহলে যেন চেষ্টা করি। হয়তো একটু সময় লাগবে। যদি শিখতে পারি, আমার মনে হয় ভালো হবে।”

স্লোয়ারে উন্নতির নেশায় আসল কাজ ভুলে যাচ্ছেন না তাসকিন। ‘কাটার মাস্টার’ হয়ে ওঠার কোনো ভাবনা তার নেই। গতিময় ডেলিভারির সঙ্গে কার্যকর স্লোয়ারের মিশেলে নিজেকে আরও কার্যকর বোলার হিসেবে গড়ে তোলায় তার লক্ষ্য।

“পেসের সঙ্গে আমার কোনো কম্প্রোমাইজ নাই। আমি মুস্তাফিজ হতে পারব না। মুস্তাফিজ কাটার মাস্টার। আমি পেসের সঙ্গে একটু স্লোয়ার যোগ করছি আরকি।”

“মুস্তাফিজের মতো কাটার আমি পারব না। আমার পেসের সঙ্গে, সুইংয়ের সঙ্গে আগের চেয়ে ভালো কাটার যদি করতে পারি, তাহলে একটা অপশন বাড়বে। এটা আমার জন্য ভালো একটা অস্ত্র হতে পারে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক