‘স্বপ্নের মতো’ অর্জনের পর রাশিদ মনে করিয়ে দিলেন লারার সেই ভবিষ্যদ্বাণীর কথা
বিশ্বকাপ শুরুর বেশ আগেই ব্রায়ান লারা বলেছিলেন, এবার সেমি-ফাইনাল খেলতে পারে আফগানিস্তান, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির সেই কথাকেই সত্যি প্রমাণ করলেন রাশিদ খান, নাভিন-উল-হাকরা।
নাভিন-উল-হাকের বলে মুস্তাফিজুর রহমান এলবিডব্লিউ হতেই আনন্দে দিগ্বিদিক ছুটলেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। রাশিদ খান তখন মাথা ঠেকিয়ে দিলেন আর্নস ভেল স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায়। কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে যেন বোঝার চেষ্টা করলেন, স্বপ্ন নাকি সত্যি!
স্বপ্নের মতোই অর্জনেই ইতিহাস রচনা করে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পা রেখেছে আফগানিস্তান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কজন ভাবতে পেরেছিলেন এমন কিছু!
তবে একজন ঠিকই বলেছিলেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বা সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্রায়ান লারা বলেছিলেন এই সম্ভাবনার কথা। তাই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পর লারার কথা বলতে ভুললেন না আফগান অধিনায়ক রাশিদ।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে যাওয়ার দৌড়ে কাগজে-কলমে আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউ জিল্যান্ড। তা হতে দেয়নি আফগানরা। কিউইদের মাত্র ৭৫ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে টানা তিন জয়ে সেরা আটে নাম লেখায় তারা।
সুপার এইটে তারা পড়ে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ‘১’ নং গ্রুপে। সেমি-ফাইনালের টিকেট পাওয়ার দৌড়ে যে কোনো দিন থাকবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। তবে আরও একবার সবাইকে ভুল প্রমাণ করে, সব ভবিষ্যদ্বাণী বা সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ চারের সম্ভাবনা জাগায় আফগানিস্তান।
মঙ্গলবার সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ৮ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে প্রথমবারের মতো তারা নাম লেখাল স্বপ্নের সেমি-ফাইনালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া ২০১০ সালের আসরে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল আফগানিস্তান। ১৪ বছর সেই ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জেই তারা পৌঁছে গেল ফাইনালে ওঠার দোরগোড়ায়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আবেগের ছটা স্পষ্ট রাশিদের কণ্ঠে। সেমি-ফাইনালের টিকেট পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কথা বলেন আফগানিস্তান অধিনায়ক।
“দল হিসেবে এটি আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো... বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলা। আমরা যেভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছি, নিউ জিল্যান্ডকে হারানোর পর বিশ্বাসটা চলে আসে। এটি অবিশ্বাস্য। অনুভূতি বোঝানোর মতো ভাষা নেই আমার। এত বড় অর্জনে দেশের সবাই নিশ্চিতভাবেই আমাদের নিয়ে অনেক খুশি।”
এ সময় তিনি নিজ থেকেই আনেন লারার প্রসঙ্গ। গত মাসে আইপিএল চলাকালে স্টার স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে লারা, সুনিল গাভাস্কার, ম্যাথু হেইডেনসহ ১০ জনের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কাছে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের জন্য ফেবারিট ৪ দলের নাম জানতে চাওয়া হয়। সেখানে লারাই একমাত্র বলেন আফগানিস্তানের নাম।
ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে আফগানিস্তানকে সেমির দৌড়ে রেখে তিনি বলেন, ‘চতুর্থ দল হিসেবে আমি দেখছি আফগানিস্তানকে। তাদের সেই সামর্থ্য আছে।’
লারার ওই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণ করতে পারায় তাই বাড়তি আনন্দ রাশিদের মনে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটিং গ্রেটকে এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও জানালেন বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১৯ রানের পর ৪ উইকেট নিয়ে স্বপ্ন পূরণে বড় অবদান রাখা লেগ স্পিনার।
“আমার মনে হয়, একমাত্র ব্রায়ান লারা আমাদের সেমি-ফাইনালের দৌড়ে রেখেছিলেন। আমরা সেটি সত্য প্রমাণ করেছি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একটি স্বাগত অনুষ্ঠানে আমরা তার সঙ্গে এটি আলোচনা করেছিলাম। লারাকে বলেছিলাম, ‘আমরা তোমাকে হতাশ করব না। আমরা প্রমাণ করব যে তুমিই ঠিক।’ তো আমাদের জন্য এটি অনেক গর্বের বিষয়।”
