Published : 26 Dec 2025, 09:34 PM
সেঞ্চুরি ছুঁয়েই ছুটতে ছুটতে লাফিয়ে ওঠা। হেলমেট খুলে উঁচিয়ে ধরা। ব্যাট হাওয়ায় ভাসিয়ে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দেওয়া। নাজমুল হাসান শান্তর ‘ট্রেডমার্ক’ উদযাপন এটি। যারা তাকে অনুসরণ করেন, উদযাপনটা সবারই খুব চেনা। তবে এই সংস্করণে ব্যাট হাতে তিনি অনেক দিন ধরেই ছিলেন অচেনা। হারিয়ে ফেলা নিজেকে ফিরে পাওয়ার শুরুটা দারুণভাবেই করলেন তিনি।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি দারুণ সেঞ্চুরিতে রাঙালেন শান্ত। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৫ ছক্কা ও ১০ চারে ৬০ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক।
গত বিপিএলে তিনি ছিলেন ফরচুন বরিশালে। চ্যাম্পিয়নদের হয়ে বেশির ভাগ ম্যাচেই খেলার সুযোগ পাননি তিনি। যে পাঁচটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন, তার ব্যাট ছিল একদম নিশ্চুপ। পাঁচ ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন স্রেফ ৫৬ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৯.১২।
গতবারের আগের মৌসুমেও তার ব্যাট কথা বলেনি। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে সেবার ১২ ইনিংসের একটিও ৪০ ছুঁতে পারেননি। ১৪.৫৮ গড়ে ১৭৫ রান করেছিলেন ৯৩.৫৮ স্ট্রাইক রেটে।
সময়টা তার ভালো কাটেনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও। বাংলাদেশের হয়ে খেলে ফেলেছেন ৫০ টি-টোয়েন্টি। ৯৮৭ রান করতে পেরেছেন ২২.৯৫ গড় ও ১০৯.০৬ স্ট্রাইক রেটে। অধিনায়ক হিসেবে ব্যাটিং রেকর্ড তো আরও বিবর্ণ। নেতৃত্বের ২৪ ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ১৮.৭৬, স্ট্রাইক রেট ১০৪.২৩।
গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া ক্রিকেটার তাই এখন আরেকটি বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের ত্রীসিমানাতেও নেই।
তবে শান্ত নিজে ঠিকই বিশ্বকাপের ঠিকানায় পৌঁছাতে চান আবার। এই বিপিএলকেই করে নিতে চান নিজের পথ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন বলেছেন, বিপিএলে পারফর্ম করে বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচকদের দুয়ারে কড়া নাড়তে চান তিনি।
সেই অভিযানে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি দিয়ে শুরুর চেয়ে ভালো কী আর হতে পারে!
তবে ব্যক্তিগত সেই লক্ষ্যটা আছে তার মনের কোণে। ম্যাচ জয়ের রাজশাহী অধিনায়ক তুলে ধরলেন দলীয় প্রাপ্তির কথাই।
ভালো লাগছে।, আমরা জিতেছি। সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো লাগছে জয়ে অবদান রাখতে পেরেছে। প্রথম ম্যাচ সবসময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে মোমেন্টাম খুবই জরুরি। শুরুর মোমেন্টাম আমরা পেয়েছি, খুবই খুশি আমি।”
১৯১ রান তাড়ার চ্যালেঞ্জে রাজশাহীর শুরুটা খুব ভালো ছিল না। দুই ওপেনারের কেউ ভালো করেনি। শান্ত ও মুশফিকুর রহিম যখন জুটির শুরু করেন, ওভারপ্রতি তখন দশের বেশি রান লাগে। কিন্তু এই দুজনই দরুণ জুটিতে শেষ করে দেন খেলা।
শান্ত বললেন, সম্ভাব্য কন্ডিশন ভাবনায় ছিল বলেই রান তাড়ার বিশ্বাস ছিল তার।
“প্রথম ইনিংস শেষ করার পর আমরা জানতাম যে, শিশির পড়বে আরও এবং পরিস্থিতি আরও ভালো হয়ে উঠবে। আমাদের বিশ্বাস ছিল। মুশি (মুশফিকুর রহিম) তার অভিজ্ঞতা মেলে ধরেছেন এবং আমার কাজ সহজ করে তুলেছেন। যেভাবে ব্যাট করেছি আমরা, খুবই খুশি আমি।”
তৃতীয় উইকেটে ৭১ বলে ১৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৩১ বলে ৫১ রান করে।
৮ উইকেটের এই জয়ের পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেও আবার মাঠে নামবে রাজশাহী। প্রতিপক্ষ এবার ঢাকা ক্যাপিটালস। শান্তর চাওয়া জয়ের পথেই থাকা।
“আজকে মোমেন্টাম পেয়েছি আমরা। কালকে আরেকটি ম্যাচ আছে। আশা করি আমরা ফর্ম ধরে রাখব।”