Published : 16 Mar 2026, 07:33 PM
সাদা বলের দুই সংস্করণে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের পারফরম্যান্সের মধ্যে ফারাক আকাশ-পাতাল। টি-টোয়েন্টির পরিসংখ্যান তার যতটা উজ্জ্বল, ততটাই বিবর্ণ ওয়ানডের রেকর্ড। ভারতীয় ব্যাটসম্যানের সরল স্বীকারোক্তি- ওয়ানডে ক্রিকেট কখনোই ‘বোঝেননি’ তিনি। এই সংস্করণে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়াটা খুব চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়েছে তার কাছে।
সুরিয়াকুমারের নেতৃত্বে সদ্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এই সংস্করণে জাতীয় দলের হয়ে ১১৩ ম্যাচে ৩৬.৩৫ গড় ও ১৬২.৯৪ স্ট্রাইক রেটে তার রান তিন হাজার ২৭২। চারটি সেঞ্চুরির পাশে ফিফটি আছে ২৫টি।
কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বোলারদের ওপর দাপট দেখানো সুরিয়াকুমার ওয়ানডেতে যেন হারিয়ে ফেলেন নিজেকে। ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনি ওয়ানডে খেলেছেন ৩৭টি। ২৫.৭৬ গড় ও ১০৫.০২ স্ট্রাইক রেটে রান কেবল ৭৭৩। নেই কোনো সেঞ্চুরি। ফিফটি মোটে চারটি।
সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছেন তিনি ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের ম্যাচে ২৮ বলে করেছিলেন ১৮ রান।
বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুরিয়াকুমার তুলে ধরলেন, ওয়ানডে ক্রিকেট কেন তার কাছে কঠিন মনে হয়েছে।
“ওয়ানডে ক্রিকেটের যতটা অভিজ্ঞতা আমি নিয়েছি এবং দেখেছি তাতে আমার মনে হয়েছে, এই সংস্করণে তিনভাবে ব্যাট করতে হয়। (ইনিংসের) শুরুতে ব্যাটিংয়ে গেলে, দ্রুত উইকেট পড়লে টেস্ট ক্রিকেটের মতো ব্যাট করতে হয়। এরপর ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে হয়, ওয়ানডে ক্রিকেটের মতো। ইনিংসের শেষ দিকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের মতো ব্যাট করতে হয়।”
“তাই এটা এমন এক সংস্করণ, যা কখনোই বুঝতে পারিনি। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটা চ্যালেঞ্জিং সংস্করণ।”
একই কথা বলা যায় সুরিয়াকুমারের টেস্ট ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও। ঘরের মাঠে ২০২২-২৩ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির জন্য দলে ডাকা হয়েছিল তাকে। এক ম্যাচ খেলার পরই বাদ পড়ে যান তিনি। আর কখনও টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।
“লাল বলের ক্রিকেট দিয়ে শুরু করেছিলাম আমি, ১০-১২ বছর রাঞ্জি ট্রফি খেলেছি। বোম্বেতে (মুম্বাই) লাল বলের ক্রিকেট অনেক খেলেছি, কারণ যদি বোম্বেতে বড় হন, তাহলে লাল বলের ক্রিকেট দিয়েই শুরু করবেন। ধীরে ধীরে যখন সাদা বলের ক্রিকেট খেলা শুরু করি, ঝোঁকটা তখন সেদিকেই চলে যায়। তারপর এই সংস্করণে (টি-টোয়েন্টি) আসি। ওয়ানডে ক্রিকেটেও ভালো খেলার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি আমি, কিন্তু সেখানে কিছুই হয়নি।”