Published : 08 Nov 2021, 07:12 PM
নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটে ও দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় ভারতের। পরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট হয়নি।
সুপার টুয়েলভে রোববার আফগানিস্থানের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের জয়ে সেমি-ফাইনালের আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের বিদায়। পাঁচ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-২ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেয় কেন উইলিয়ামসনের দল। ফলে সোমবার নামিবিয়ার বিপক্ষে ভারতের শেষ ম্যাচটি স্রেফ নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরিণত হয়েছে।
গত মে মাসে ভারতজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপে স্থগিত হয়ে যাওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাকি অংশ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হয় বিশ্বকাপের ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতেই। এই প্রতিযোগিতায় খেলে দলটির সব খেলোয়াড় আগে থেকেই কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের সেখানে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।
কিন্তু বৈশ্বিক আসরে মাঠে নেমেই যেন উল্টোরথে চড়ে বসে এই সংস্করণে ২০০৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। টানা দুই হারে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার জন্য ভারতকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছিল অন্য দলগুলোর ওপর। শেষ পর্যন্ত যা আর আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৯ বিশ্বকাপও ফেভারিটের মর্যাদায় শুরু করেছিল ভারত। পরে সেমি-ফাইনালে হেরে যায় তারা। এবার তো শেষ চারেই উঠতে পারল না তারা।
নাসের হসেইন
"আপনাকে নিজের খেলাটা খেলতে হবে এবং শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে। তাদের (ভারত) দলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। এমন খেলতে না পারার কারণেই হয়ত আইসিসি ইভেন্টে পিছিয়ে পড়ছে ভারত।"
"দলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকায় তাদের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা উচিত, কিন্তু তারা সেটি করছে না।"
পাকিস্থানের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত এক স্পেলে ভারতের টপ অর্ডারকে এলোমেলো করে দেন বাঁহাতি পেসার শাহীন আফ্রিদি। পাওয়ার প্লেতে ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলকে। এরপর বিরাট কোহলি একপ্রান্ত ধরে খেললেও অন্য প্রান্তে মিডল অর্ডার থেকে পাননি পর্যাপ্ত সমর্থন। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাদের ব্যাটিং ছিল আরও ব্যর্থ। ২০ ওভার খেলে সাকুল্যে ১১০ রান করতে সমর্থ হয় কোহলির দল।
নাসেরের মতে, শক্তিশালী টপ অর্ডার থাকায় ভারতের মিডল অর্ডারকে সেভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় না সচরাচর। তাই চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা জ্বলে উঠতে পারছে না।
"আমি তাদের (ভারত) ফেভারিট ভেবেছিলাম। তারা এখানে (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আইপিএল খেলেছিল। দলটিতে তারকার ছড়াছড়ি। (পাকিস্থানের বিপক্ষে) প্রথম ম্যাচে তারা জোর ধাক্কা খেয়েছিল। পাওয়ার প্লেতে শাহীন (শাহ) আফ্রিদি যেভাবে বোলিং করেছিল, যেই দুটি ডেলিভারিতে রোহিত (শর্মা) ও (লোকেশ) রাহুলকে আউট করেছিল, ওইরকম বলে অনেক গ্রেট ক্রিকেটার আউট হতে পারে।”
“তাদের টপ অর্ডার এত ভালো যে মিডল অর্ডার অনেক সময় তেমন ব্যটিংয়ের সুযোগ পায় না। এজন্যই যখন হুট করে প্ল্যান বি প্রয়োজন পড়ে, তখন তারা পেরে ওঠে না।”
ভারতের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল দলে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ভূমিকা নিয়ে। চোটের কারণে লম্বা সময় ধরে বোলিং করা থেকে বিরত থাকা এই খেলোয়াড়কে শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানোর বিরোধিতায় ছিলেন অনেকেই। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভারত পরিবর্তন আনে তাদের ব্যাটিং অর্ডারে। নিয়মিত ওপেনার রোহিতকে খেলানো হয় তিনে।
নাসের মনে করছেন, দল নিয়ে এসব পরীক্ষা নিরীক্ষাই ভারতের জন্য কাল হয়েছে।
"আমার মতে, ভারত খুব প্রতিভাবান দল। কিন্তু মাঝে মাঝে দল নির্বাচনের দিক থেকে হার্দিক পান্ডিয়াকে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে খেলালে সেটা দলের ভারসাম্য নষ্ট করে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, রোহিত ও রাহুলকে (ওপেনিং জুটি থেকে) আলাদা করার সিদ্ধান্তটি ভালো ছিল না।"
"আমি কখনই রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলকে আলাদা করতাম না, কারণ তারা বিশ্বমানের খেলোয়াড়।"