ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা
Published : 23 Nov 2025, 05:04 PM
আগের দিন শেষবেলায় দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন দিনে দারুণভাবে এগিয়ে গেল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি উপহার দিলেন সেনুরান মুথুসামি। অল্পের জন্য তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন না মার্কো ইয়ানসেন। তাদের সৌজন্যে ভারতের বিপক্ষে রানের পাহড় গড়ল সফরকারীরা।
গুয়াহাটি টেস্টে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪৮৯ রানে। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ভারত।
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১০৯ রান করেন মুথুসামি। সাতে নেমে ২০৬ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি ২ ছক্কা ও ১০ চারে। নিজের খেলা আগের টেস্টেই পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৯ রান করেছিলেন মুথুসামি।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরির অনির্বচনীয় স্বাদ পাওয়ার খুব কাছে ছিলেন ইয়ানসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পা রাখতে পারেননি তিনি ৭ রানের জন্য। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৭ ছক্কা ও ৬ চারে ৯১ বলে করেন ৯৩ রান।
ইনিংসে ভারতের সফলতম বোলার কুলদিপ ইয়াদাভ। ১১৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার। দুটি করে প্রাপ্তি জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মেদ সিরাজ ও রাভিন্দ্রা জাদেজার।
৬ উইকেটে ২৪৭ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম সেশনে হারায়নি কোনো উইকেট। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুথুসামি ও কাইল ভেরেইনার জুটিতে তিনশ পার করে দলটি।
২৫ রান নিয়ে খেলতে নামা মুথুসামি ফিফটি স্পর্শ করেন ১২১ বলে। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশের কাছে পৌঁছে যান ভেরেইনাও। কিন্তু ৫ চারে ৪৫ রান করে জাদেজার বলে স্টাম্পড হন তিনি, ভাঙে ৮৮ রানের বন্ধন।
এরপর মুথুসামি ও ইয়ানসেনের ব্যাটে বাড়তে থাকে সফরকারীদের রান। এক প্রান্তে মন্থর ছিলেন মুথুসামি, আরেক প্রান্তে দ্রুত গতিতে রান বাড়ান ইয়ানসেন।
জাদেজাকে ছক্কায় উড়িয়ে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান ইয়ানসেন। বাঁহাতি স্পিনারকে পরে মারেন আরেকটি ছক্কা। কুলদিপকে পরপর দুই ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ৫৩ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
সেঞ্চুরির কাছে এসে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মুথুসামিও। তার রান যখন ৮৮, কুলদিপকে তিন বলের মধ্যে মারেন ছক্কা ও চার। ১৯২ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি।
শতকের পর ইনিংস আর টেনে নিতে পারেননি মুথুসামি। সিরাজের শর্ট বলে ফাইন লেগে তিনি ধরা পড়লে ভাঙে ৯৭ রানের যুগলবন্দি।
মুথুসামি যখন বিদায় নেন, ইয়ানসেনের রান তখন ৫২। পরের ওভারে জাদেজাকে দুটি ছক্কায় ওড়ান তিনি। সিরাজকে হাঁকান চার ও ছক্কা। তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি সাইমন হার্মার। সেঞ্চুরি যখন নাগালে, কুলদিপের বল স্টাম্পে টেনে এনে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান ইয়ানসেন।
ইয়ানসেনের ৭টি ছক্কা টেস্টের এক ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ভারতের বিপক্ষেও এক ইনিংসে তার চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পারেননি কেউ। ২০০৬ সালে লাহোরে ৭টি ছক্কা মেরেছিলেন শাহিদ আফ্রিদিও।
৯ নম্বর কিংবা এর নিচে নেমে টেস্টের এক ইনিংসে ইয়ানসেনের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন কেবল টিম সাউদি। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের পেস বোলিং গ্রেট, ১০ নম্বরে নেমে।
শেষবেলায় ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের বাকি সময় নিরাপদে কাটিয়ে দেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১৫১.১ ওভারে ৪৮৯ (আগের দিন ২৪৭/৬) (মুথুসামি ১০৯, ভেরেইনা ৪৫, ইয়ানসেন ৯৩, হার্মার ৫, মহারাজ ১২*; বুমরাহ ৩২-১০-৭৫-২, সিরাজ ৩০-৫-১০৬-২, নিতিশ ৬-০-২৫-০, ওয়াশিংটন ২৬-৫-৫৮-০, কুলদিপ ২৯.১-৪-১১৫-৪, জাদেজা ২৮-২-৯৪-২)
ভারত ১ম ইনিংস: ৬.১ ওভারে ৯/০ (জয়সওয়াল ৭*, রাহুল ২*; ইয়ানসেন ৩.১-১-৯-০, মুল্ডার ৩-৩-০-০)