১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হৃদয়ের ৯৬ ছাপিয়ে সাইফ-নাঈমের ব্যাটে চ্যাম্পিয়ন মধ্যাঞ্চল

একটুর জন্য টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হলো না তাওহিদ হৃদয়ের, সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারলেন না মোহাম্মাদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Mar 2026, 10:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:04 PM

দুই দলের স্কোর তখন সমান। জয়ের জন্য মধ্যাঞ্চরে প্রয়োজন একটি রান। ক্রিকেটার, স্টাফরা ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে, জিতলেই সবাই ছুটে যাবেন মাঠে। কিন্তু এই সময়েই ‘অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স।’ রিশাদ হোসেনকে রিভার্স সুইপ খেলে ধরা পড়ে গেলেন ইরফান শুক্কুর। ওই ওভারেই সেই রান আর হলোই না! 

শেষ সময়ে একটু ভিন্ন মাত্রা যোগ হলো তাতে। ম্যাচের ফয়সালা তো হয়ে গেছে আগেই! মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসানের জুটিতেই ম্যাচ কার্যত শেষ। পরের ওভারেই জয়ের মুহূর্তটি এলো। 

প্রাথমিক পর্বে দুই দলের লড়াই দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছিল। কিন্তু ফাইনাল হলো একতরফা। উত্তরাঞ্চলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একদিনের ম্যাচের আসরের শিরোপা জিতে নিল মধ্যাঞ্চল।

মিরপুর শের-ই-বালা স্টেডিয়ামে দিন-রাতের ফাইনালে উত্তরাঞ্চল অলআউট হয় ২৩৮ রানে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তাওহিদ হৃদয় এবার খেলেন ৯৮ বলে ৯৬ রানের ইনিংস। 

সেই পুঁজি নিয়ে লড়াই সেভাবে করতে পারেনি উত্তরাঞ্চল। দ্বিতীয় উইকেটে ১৬৪ রানের জুটিতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন নাঈম শেখ ও সাইফ। 

ফাইনালের আগে তিন ম্যাচে সাইফের রান ছিল ৩৯, স্ট্রাইক রেট ৫২.৭০। সেরাটা জমা রেখেছিলেন তিনি সবচেয়ে বড় ম্যাচের জন্য। ফাইনালে খেললেন ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৭ রানের ইনিংস। 

নাঈম দারুণ ফর্মেই ছিলেন। ফাইনালের আগে তিন ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন দুটি। সেই ধারা ধরে রেখে শিরোপার মঞ্চে উপহার দেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস।

শেষ দিকে এই দুজনের বিদায় আর দ্রুত আরও দুটি উইকেটে জয়ের ব্যবধান কমে একটু। কিন্তু ম্যাচ ছিল একপেশেই। 

হ্যাটট্রিক শিরোপার আশা পূরণ হলো না উত্তরাঞ্চলের। টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরে দ্বিতীয় শিরোপা জিতল মধ্যাঞ্চল। 

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা উত্তরাঞ্চলের দুই ওপেনারের শুরু ছিল দুরকম। ম্যচের প্রথম ওভার মেডেন খেলে শুরু করা হাবিবুর রহমান সোহান ১৭ বল খেলে করতে পারেন ৫ রান। তাসকিন আহমেদের বলে বাজে শটে ক্যাচ দেন তিনি উইকেটের পেছনে।

দ্বিতীয় ওভারে তিনটি বাউন্ডারিতে শুরু করা তানজিদ হাসান ২২ বলে ২৩ করে উইকেট উপহার দেন রিপন মন্ডলকে।

তৃতীয় উইকেটে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়। 

সাইফ হাসান আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই ভাঙেন এই জুটি। সুইপ খেলে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন শান্ত (৫১ বলে ৩৫)।

এরপর এসএম মেহেরবের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয়। তবে সাবলিল খেলতে থাকা মেহেরব ৩৮ বলে ২৮ রান করে বোল্ড হন রকিবুল হাসানের বল ভুল লাইনে ডিফেন্স করে।

ওই ওভারে ফেরেন আকবর আলিকেও ফেরান রকিবুল। সেঞ্চুরি দিয়ে আসর শুরু করা ব্যাটসম্যান ফাইনালে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন সুইপ খেলার চেষ্টা।

১২৩ রানে ৫ উইকেট হারানো উত্তরাঞ্চল ইনিংসের সেরা জুটি পায় এরপরই। হৃদয় ও সাব্বির রহমান যোগ করেন ৬৩ রান। 

ততক্ষণে উইকেটে জমে যাওয়া হৃদয়ই ছিলেন জুটিতে বেশি অগ্রণী। তাসকিনের ওভারে দুটি চার মেরে ফিফটি করেন তিনি ৬৯ বলে। এরপর তার রানের গতি বাড়ে আরও। 

স্টাম্পের বাইরে রিপনের আলগা এক ফুল টস ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়ে সাব্বির ফেরেন ৪৩ বলে ২৪ রান করে। সীমানায় দারুণ ক্যাচ নেন সাইফ। 

এরপর রিশাদ একটি করে ছক্কা ও চারে ১৬ রান করে আউট হয়ে যান। আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও শরিফুল ইসলাম টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।

৯৬ রান নিয়ে শেষ ওভার শুরু করেন হৃদয়। স্ট্রাইকে থাকা শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদ রানা প্রথম বলেই সিঙ্গল নিয়ে সঙ্গী সুযোগ করে দেন সেঞ্চুরির। পরের বলে ১ রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও হৃদয় নেননি। এরপরই ফুল লেংথ বলে ক্রস ব্যাটে চালিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। টানা দ্বিতীয় শতরান হয়নি চার রানের জন্য। 

রান তাড়ায় ষষ্ঠ ওভারে জিসান আলমকে হারায় মধ্যাঞ্চল। আগের ম্যাচে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করা ওপেনার এবার ৩ বাউন্ডারিতে ১৪ রান করে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন নাহিদ রানার গতিময় ডেলিভারিতে। 

তবে নাঈম শেখ ও সাইফ হাসানের একের পর এক বাউন্ডারিতে রান বাড়তে থাকে তরতরিয়ে। ৪২ বলে আসে জুটির পঞ্চাশ, ৯২ বলে শতরান।

সাইফ ফিফটি করেন ৪৯ বলে। ৬৩ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর নাঈম রানের গতি বাড়ান আরও। দুজনই ছুটতে থাকেন শতরানের পথে। তবে আগেই থামতে হয় দুজনকেই।

রিশাদ হোসেনের ফ্লাইটে বিভ্রান্ত হয়ে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হন নাঈম। শরিফুলের বাউন্সারে নিয়ন্ত্রণহীন শটে আউট হন সাইফ।

এরপর নাহিদ রানার গতিময় শর্ট বলে বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। পরে জয়ের দুয়ারে গিয়ে ফেরেন ইরফান। ৭২ বল বাকি রেখেই জিতে যায় মধ্যাঞ্চল। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

উত্তরাঞ্চল: ৪৯.৩ ওভারে ২৩৮ (সোহান ৫, তানজিদ ২৩, শান্ত ৩৫, হৃদয় ৯৬, মেহেরব ২৮, আকবর ০, সাব্বির ২৪, রিশাদ ১৬, সাকলাইন ২, শরিফুল ২, নাহিদ ১; তাসকিন ১০-১-৫৬-২, আবু হায়দার ৯-০-৪৭-০, রিপন ৯.৩-০-৪১-৪, মোসাদ্দেক ৮-০-৩৯-০, রকিবুল ১০-২-৪১-২, সাইফ ৩-০-১২-১)

মধ্যাঞ্চল: ৩৮ ওভারে ২৩৯/৫ (জিসান ১৪, নাঈম শেখ ৭৮, সাইফ ৮৭, মাহফিজুল ১৮*, মাহিদুল ৪, ইরফান ১৪, মোসাদ্দেক ০*; শরিফুল ৭-০-৪৫-১, নাহিদ ১০-১-৬১-২, সাকলাইন ৫-০-৩৮-০, মেহেরব ৫-০-৩২-০, রিশাদ ৯-০-৪৯-২, হৃদয় ২-০-১০-০, তানজিদ ০-০-১-০)

ফল: মধ্যাঞ্চল ৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাইফ হাসান।