Published : 09 Oct 2025, 09:20 PM
জটিল পিঠের চোটে ক্যারিয়ারই ছিল হুমকিতে। বছরের পর বছর কাটাতে হয়েছে মাঠের বাইরে। ব্যাট-বলে ২২ গজে নামা তো বহুদূর, রাতের পর রাত কেটেছে বিছানায় ব্যথায় কাতর হয়ে। তবু দমে যান নি। সেই অভিষেক দাস সাড়ে পাঁচ বছর পর স্বীকৃত ক্রিকেটে ফেরার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই অসাধারণ এক ক্যামিও খেলে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিলেন দলকে।
অভিষেকের সঙ্গে ঝড় তুললেন নাহিদুল ইসলামও। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে শঙ্কা উড়িয়ে বৃষ্টিবিঘ্নি ম্যাচ জিতে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে উঠল খুলনা বিভাগ।
সিলেটে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগকে ৪ উইকেটে হারায় খুলনা বিভাগ।
২০ ওভারে চট্টগ্রাম তোলে ১৪৮ রান। খুলনা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নামে বৃষ্টি। পরে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯ ওভারে ৮১।
সেই লক্ষ্য তাড়ায় ৫.১ ওভারে ৩০ রানেই ৬ উইকেট হারায় খুলনা। ৩.৫ ওভারে তখন তাদের প্রয়োজন ৫১ রান।
প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠা সেই সমীকরণ মেলান নাহিদুল ও অভিষেক।
নাঈম হাসানকে চার ও ছক্কা মেরে শুরুটা করেন নাহিদুল। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের ওভারে দুই ছক্কা ও এক চার মারেন অভিষেক।
শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১০ রানের। বাঁহাতি পেসার মেহেদি হাসান রানাকে দুটি চার মেরে তিন বল বাকি রেখেই খেলা শেষ করে দেন অভিষেক।
এই আসরের আগে অভিষেকের সবশেষ ম্যাচ ছিল ২০২০ সালের মার্চে। এই টুর্নামেন্টে ফেরার পর প্রথম ম্যাচে বল হাতে উইকেট পাননি, ব্যাটিংয়ে নামেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিংয়ে ২ ওভারে রান দেন ১৫, এরপর ব্যাটিংয়ের সেই ঝলক।

তিন চার ও দুই ছক্কায় ১১ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন অভিষেক। ৯ বলে অপরাজিত ২১ রান করে আর একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নাহিদুল।
ম্যাচের প্রথম ভাগে চট্টগ্রামের টপ অর্ডার ভালো করতে পারেনি ততটা। ফর্মে থাকা মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন ২ রানে। মুমিনুল হক ২ ছক্কায় ১৯ রান করে বিদায় নেন। দুটি করে চার ও ছক্কায় ২০ বলে ২৫ করেন শাহাদাত হোসেন।
এরপর ইরফান শুক্কুর ও ইয়াসির আলি চৌধুরি টেনে নেন দলকে। ৩৩ বলে ৩৯ করে আউট হন ইরফান। অধিনায়ক ইয়াসির ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৫ করে দলকে নিয়ে যান দেড়শর কাছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভিন্ন সমীকরণে ম্যাচ জিতে নেয় খুলনা।
হেরে যাওয়া চট্টগ্রাম শনিবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে এলিমিনেটর জয়ী রংপুর বিভগের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ: ২০ ওভারে ১৪৮/৬ (জয় ১, মুমিনুল ১৯, শাহাদাত ২৫, সৈকত ৬, ইরফান ৩৯, ইয়াসির ৪৫*, নাঈম ৩, রুবেল ০*; নাহিদুল ৪-০-২৩-১, অভিষেক ২-০-১৫-০, টিপু ৪-০-২৫-১, মৃত্যুঞ্জয় ৪-০-৩৬-২, জীবন ৪-০-২৫-১, জিয়াউর ২-০-২২-০)।
খুলনা বিভাগ: (লক্ষ্য ৯ ওভারে ৮১) ৮.৩ ওভারে ৮১/৬ (ইমরানউজ্জামান ০, সৌম্য ১৪, এনামুল ৩, মিঠুন ০, জিয়াউর ৩, আফিফ ৭, অভিষেক ২৭*, নাহিদুল ২১*; শরিফ ২-০-৯-২, রুবেল ২-০-১১-০, মেহেদি রানা ১.৩-০-২১-১, মুরাদ ২-০-২৬-২, নাঈম ১-০-১৩-১ )।
ফল: খুলনা বিভাগ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাহিদুল ইসলাম।