১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অপরাজিত সেঞ্চুরি ও ইয়াংয়ের সঙ্গে দারুণ জুটিতে কিউইদের নায়ক মিচেল

ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিফলে গেল লোকেশ রাহুলের অপরাজিত ১১২ রানের ইনিংসটি।

অপরাজিত সেঞ্চুরি ও ইয়াংয়ের সঙ্গে দারুণ জুটিতে কিউইদের নায়ক মিচেল
ড্যারিল মিচেল। ছবি: ব্ল্যাকক্যাপস এক্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jan 2026, 11:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিটি স্কুপ শট খেলতে গিয়ে পড়ে গেলেন ড্যারিল মিচেল। তবে ব্যাটে-বলে টাইমিংটা করতে পারলেন ঠিকঠাক। কিপারের মাথার ওপর দিয়ে এক ড্রপে বল গেল বাউন্ডারির বাইরে। ক্রিজে কাত হয়েই হেসে দিলেন নিউ জিল্যান্ড ব্যাটসম্যান। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে জেতানোর আনন্দ ফুটে উঠল তার চোখেমুখে।

রাজকোটে বুধবার দ্বিতীয় ওয়ানডে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরায় কিউইরা। ২৮৫ রানের লক্ষ্যে তারা পৌঁছে যায় ১৫ বল বাকি থাকতে।

ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে এটি নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়। ২০২৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৩ রান তাড়ায় জিতেছিল তারা। 

সফরকারীদের এদিনের জয়ের নায়ক মিচেল ক্যারিয়ারের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে করেন ১৩১ রান। তার ১১৭ বলের অপরাজিত ইনিংসটি গড়া ২ ছক্কা ও ১১ চারে। এই পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরা তিনি ছাড়া আর কে!

হেরে যাওয়া প্রথম ওয়ানডেতেও হেসেছিল মিচেলের ব্যাট। ৮৪ রান করেছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে থাকে এই ক্রিকেটার। এই সংস্করণে সবশেষ ছয় ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি করলেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের এই জয়ে অবদান কম নয় উইল ইয়াংয়ের। তৃতীয় উইকেটে মিচেলের সঙ্গে ১৬২ রানের জুটি গড়েন তিনি। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় তাকে। তিনে নেমে খেলেন ৭ চারে ৮৭ রানের দারুণ ইনিংস।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান লোকেশ রাহুল। কিন্তু মিচেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিফলে গেল তার এক ছক্কা ও ১১ চারে গড়া ৯২ বলে ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি।

নিরাঞ্জান শাহ স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভারতকে ভালো শুরু এনে দেন রোহিত শার্মা ও শুবমান গিল। রোহিতকে (৪টি চারে ২৪) বিদায় করে  তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক।

মুখোমুখি প্রথম বলে ক্লার্ককে চার মেরে রানের খাতা খোলেন ফর্মে থাকা ভিরাট কোহলি। ওই ওভারের শেষ বলে গিল মারেন আরেকটি। এক ওভার পর কাইল জেমিসনকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৪৭ বলে ফিফটিতে পা রাখেন ভারত অধিনায়ক।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাত ওয়ানডের পাঁচটিতে পঞ্চাশ ছোঁয়া গিলকে বিদায় করেন জেমিসনই। শর্ট বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন এক ছক্কা ও ৯ চারে ৫৬ রান করা গিল।

শ্রেয়াস আইয়ারকে দুই অঙ্কে যেতে দেননি ক্লার্ক। টানা পাঁচ ওয়ানডেতে পঞ্চাশ ছোঁয়া কোহলিও এদিন পারেননি দলকে টানতে। কার্কের বল স্টাম্পে টেনে আনেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট।

৪৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলের হাল ধরেন রাহুল। সাবধানী ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দেন রাভিন্দ্রা জাদেজা। ৪৪ বলে ২৭ রান করা জাদেজার ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ৭৩ রানের বন্ধনে ফাটল ধরান মাইকেল ব্রেসওয়েল।

জাদেজা ফেরার পরের ওভারে জেমিসনকে চার মেরে ৫২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন রাহুল। তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি দলে ফেরা নিতিশ। হার্শিত রানাও বিদায় নেন দ্রুত। তবে এক প্রান্তে রানের চাকায় দম দিয়ে যান রাহুল।

৪৯তম ওভারের শেষ বলে জেমিসনকে ছক্কায় কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি, ৮৭ বলে। ওয়ানডেতে ভারতীয় কিপার-ব্যাটসম্যানের এটি অষ্টম শতক। ২০২৩ সালের পর প্রথমবার পেলেন তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া। 

লক্ষ্য তাড়ায় পঞ্চাশের আগে দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলসকে হারায় কিউইরা। দুইজনই হন বোল্ড। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে দলকে পথেই রাখেন ইয়াং ও মিচেল। তাদের জুটিতে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে সফরকারীরা।

ইয়াং কিছুটা ছিলেন মন্থর। তবে মিচেল বেছে নেন দ্রুত রান বাড়ানোর পথ। মুখোমুখি পঞ্চম বলেই নিতিশকে ছক্কায় ওড়ান তিনি। পরে কুলদিপ ইয়াদাভকে টানা দুই বলে মারেন ছক্কা ও চার।

পরপর দুই ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন মিচেল ও ইয়াং। ৫২ বলে পঞ্চাশের ঠিকানায় পা রাখেন মিচেল, ইয়াংয়ের লাগে ৬৮ বল। এরপর প্রায় একই গতিতে আসতে থাকে দুজনের রান।

৩৬তম ওভারে পরপর দুই দফায় বেঁচে যান মিচেল। অল্পের জন্য রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে, পরের বলেই কুলদিপকে ছক্কার জন্য উড়িয়ে মারেন তিনি। কিন্তু লং-অনে বল মুঠোয় জমাতে পারেননি প্রাসিধ। তখন ৮০ রানে খেলছিলেন মিচেল।

কুলদিপ নিজের পরের ওভারে ইয়াংকে বিদায় করে জমে যাওয়া জুটির প্রতিরোধ ভাঙেন। ছক্কার চেষ্টায় মিডউইকেটে ধরা পড়ে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইয়াং।

তিন ওভার পর সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মিচেল, ৯৬ বলে। আরেক প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেন গ্লেন ফিলিপস। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৭৮ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউ জিল্যান্ড।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী রোববার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ২৮৪/৭ (রোহিত ২৪, গিল ৫৬, কোহলি ২৩, শ্রেয়াস ৮, রাহুল ১১২*, জাদেজা ২৭, নিতিশ ২০, হার্শিত ২, সিরাজ ২*; জেমিসন ১০-২-৭০-১, ফোকস ৯-০-৬৭-১, ক্লার্ক ৮-০-৫৬-৩, লেনক্স ১০-০-৪২-১, ব্রেসওয়েল ১০-১-৩৪-১, ফিলিপস ৩-০-১৩-০)

নিউ জিল্যান্ড: ৪৭.৩ ওভারে ২৮৬/৩ (কনওয়ে ১৬, নিকোলস ১০, ইয়াং ৮৭, মিচেল ১৩১*, ফিলিপস ৩২*; সিরাজ ৯-০-৪১-০, হার্শিত ৯.৩-১-৫২-১, প্রাসিধ ৯-০-৪৯-১, নিতিশ ২-০-১৩-০, জাদেজা ৮-০-৪৪-০, কুলদিপ ১০-০-৮২-১)

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ড্যারিল মিচেল

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায়