Published : 02 May 2026, 07:14 PM
সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। হঠাৎ করেই আকাশে মেঘের আনাগোনা। দুপুর বেলাতেই জ্বলে উঠল ফ্লাড লাইট। ম্যাচের শুরুতে হানা দিল বৃষ্টিও। রোদ-মেঘের লুকোচুরির মাঝে আঁধারে ডুবল বাংলাদেশের ব্যাটিং। শরিফুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ে আশার আলো দেখা গেলেও তা মিলিয়ে গেল ক্রমেই। দারুণ বোলিং-ফিল্ডিংয়ে জিতে সমতায় সিরিজ শেষ করল নিউ জিল্যান্ড।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে নিউ জিল্যান্ডের জয় ৬ উইকেটে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশের ইনিংসের সপ্তম ওভারে নামে বৃষ্টি। পরে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ১৫ ওভারে। ১৮ বল আর ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা ১০২ রানে গুটিয়ে যায় চার বল বাকি থাকতেই।
জবাবে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারালেও, বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফটের অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানের জুটিতে ২০ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউ জিল্যান্ড।
চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। সিরিজ জয়ের হাতছানিতে নেমে পারল না লিটন কুমার দাসের দল। সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
কানায় কানায় পূর্ণ না হলেও এ দিন গ্যালারিতে দর্শক ছিল অনেক। হইহুল্লোড়ে বাংলাদেশ দলকে উজ্জীবিত করলেও স্টেডিয়াম ছাড়তে হয় তাদের একরাশ হতাশা নিয়ে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ড বোলিং শুরু করে স্পিন। পরের ওভারে পেসার আক্রমণে আসতেই ন্যাথান স্মিথকে বেরিয়ে এসে ম্যাচের প্রথম বাউন্ডারি মারেন সাইফ হাসান। আরেকটি চার মারেন তিনি ফ্লিক করে। এই ওভারে আসে ১২ রান।
কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এ দিনও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাইফ। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জেডেন লেনক্সকে বেরিয়ে এসে খেলে বল আকাশে তুলে বিদায় নেন তিনি (১১ বলে ১৬)।
নিউ জিল্যান্ডের তৃতীয় বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে প্রথম বলে উইকেটের স্বাদ পেলেন লেনক্স।
দ্বিতীয় বলে চার মেরে শুরু করেন লিটন কুমার দাস। চতুর্থ বলে ছক্কা মারেন তিনি চমৎকার স্লগ সুইপে। প্রথম চার বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১২ রান।
পরের ওভারে বাংলাদেশ খায় জোড়া ধাক্কা। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান স্মিথ। ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তানজিদ হাসান (১০ বলে ৬)। প্রথম বলে আপার কাটের চেষ্টায় স্লিপ ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েন পারভেজ হোসেন।
৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ৬ ওভারে আসে ৪৩ রান।
লিটনের ব্যাটে আসতে থাকে বাউন্ডারি। সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসা লেগ স্পিনার ইশ সোধিকে চার মারেন তিনি। ওই ওভারেই চতুর্থ বলের পর খেলা বন্ধ হয়ে যায় বৃষ্টির কারণে।
তুমুল বৃষ্টি শেষে মাঠ শুকিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার শুরু হয় খেলা। শুরুর পর প্রথম বলে চার মারেন তাওহিদ হৃদয়। পরের ওভারে লেনক্সকে ছক্কায় গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন তিনি।
তবে বৃষ্টির পর ছন্দপতন হয় লিটনের। আর এক রান যোগ করেই তিনি বিদায় নেন জশ ক্লার্কসনকে ইনসাইড-আউট শট খেলে (১৭ বলে ২৬)।
বাজেভাবে রান আউট হতে বসেছিলেন হৃদয়। ভাগ্যের ছোঁয়ায় তিনি ১৫ রানে বেঁচে যান কিপার বল ধরার আগেই বেলস ফেলে দেওয়ায়।
সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ওই ওভারেই তিনি মারেন চার। পরপর চার ও ছক্কা হাঁকান ডিন ফক্সক্রফটকে।
প্রথম ম্যাচে ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয়ে অবদান রাখা শামীম হোসেন এবার ভালো করতে পারেননি। পরের ওভারে পরপর দুই বলে বিদায় নেন হৃদয় ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনও।
বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। শেষের এমন এলোমেলো ব্যাটিংয়ে সংগ্রহটাও বড় হয়নি।
ছোট পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে শেখ মেহেদী হাসান প্রথম ওভারে ৯ রান দিলেও, পরের ওভারে দারুণ দুটি ডেলিভারিতে কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারকে বিদায় করেন শরিফুল।
পরের ওভারে টিম রবিনসনকে (১৪ বলে ২৩) বোল্ড করে দেন বাঁহাতি এই পেসার। দুই ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ২-০-৪-৩।
পরে উইকেট শিকারে যোগ দেন শেখ মেহেদী। দারুণ ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করে দেন নিক কেলিকে। ৫ ওভারে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে নিউ জিল্যান্ড।
নিজের তৃতীয় ওভারটি ভালো করতে পারেননি শরিফুল, চার হজম করেন তিনটি। তাতে আলগা হয়ে যায় নিউ জিল্যান্ডের চাপ।
সাইফ উদ্দিন, রিশাদ হোসেনরা পারেননি দারুণ কিছু করে দেখাতে। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে নেন জ্যাকবস ও ফক্সক্রফট।
নিউ জিল্যান্ডের জয় থেকে ১৫ রান দূরে থাকতে সীমানায় জ্যাকবসের ক্যাচ ফেলে ছক্কা বানিয়ে দেন তানজিদ. ওই ছক্কায় জ্যাকবসের ফিফটি হয়ে যায় ২৯ বলে। পরের দুই বলে চার ও বিশাল এক ছক্কায় ম্যাচের ইতি টেনে দেন তিনি।
পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় ৩১ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৬২ রান করেন জ্যাকবস। ফক্সক্রফট করেন ১৫ বলে ১৫ রান।
শীর্ষ ১৫-১৬ জন ক্রিকেটারকে ছাড়া এই সফরে এসে জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছিল নিউ জিল্যান্ড। পরে তারা সিরিজ হারলেও, সফর শেষ করল জয় দিয়েই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (সাইফ ১৬, তানজিদ ৬, লিটন ২৬, পারভেজ ০, হৃদয় ৩৩, শামীম ৩, মেহেদি ৭*, সাইফ উদ্দিন ০, রিশাদ ৫, শরিফুল ৫, রিপন ০; ফক্সক্রফট ২-০-১৭-০, স্মিথ ২-০-১৪-২, সিয়ার্স ২.২-০-১২-২, লেনক্স ৩-০-২৮-১, সোধি ৩-০-২২-১, ক্লার্কসন ২-০-৯-৩)
নিউ জিল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৫ ওভারে ১০৩) ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (রবিনসন ২৩, ক্লার্ক ১, ক্লেভার ১, কেলি ১, জ্যাকবস ৬২*, ফক্সক্রফট ১৫*; মেহেদি ৩-০-২০-১, শরিফুল ৩-০-১৯-৩, রিপন ২-০-২৭-০, রিশাদ ২.৪-০-৩১-০, সাইফ উদ্দিন ১-০-৭-০)
ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে জয়ী নিউ জিল্যান্ড
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ
ম্যান অব দা ম্যাচ: বেভন জ্যাকবস
ম্যান অব দা সিরিজ: তাওহিদ হৃদয়