০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় গাপটিলের

দেশের হয়ে ৩৬৭ ম্যাচ খেলতে পারার গর্ব নিয়ে অবসরে গেলেন নিউ জিল্যান্ডের তারকা ওপেনার।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jan 2025, 08:39 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:28 PM

বয়স হয়ে গেছে ৩৮। দুই বছরের বেশি সময় ধরে জায়গা হয় না জাতীয় দলে। সব মিলিয়ে শেষের ডাক শুনতে পাচ্ছিলেন মার্টিন গাপটিল। সেটাতেই সাড়া দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন নিউ জিল্যান্ডের এই তারকা ওপেনার।

গাপটিল বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। নিউ জিল্যান্ডের বিধ্বংসী ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে এখন দেখা যাবে কেবল টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয়। আপাতত তিনি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশে অকল্যান্ডের হয়ে খেলছেন।

“ছোটবেলায় নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল এবং দেশের হয়ে ৩৬৭টি ম্যাচ খেলতে পেরে আমি নিজেকে অবিশ্বাস্যভাবে ভাগ্যবান ও গর্বিত মনে করি। দারুণ একদল খেলোয়াড়ের সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সি পরার স্মৃতি আমি চিরকাল মনে রাখব।”

নিউ জিল্যান্ডের জার্সিতে ১৯৮ ওয়ানডে ও ১২২ টি-টোয়েন্টি খেলে শেষ হলো গাপটিলের জাতীয় দলের অধ্যায়। ১৮ সেঞ্চুরি, ৩৯ ফিফটি ও ৪১.৭৩ গড়ে ওয়ানডেতে রান করেছেন তিনি ৭ হাজার ৩৪৬। এই সংস্করণে কিউইদের হয়ে তার চেয়ে বেশি রান আছে কেবল দুইজনের, রস টেইলর (৮ হাজার ৬০৭) ও স্টিভেন ফ্লেমিং (৮ হাজার ৭)।

গাপটিলের ১৮ ওয়ানডে সেঞ্চুরি নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২১ সেঞ্চুরি নিয়ে রেকর্ড টেইলরের।

ওয়ানডেতে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান গাপটিল। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের তালিকায় প্রথম চারটির মধ্যে তিনটিই তার। ওয়ানডে ইতিহাসে তার চেয়ে বড় ইনিংস খেলেছেন কেবল ভারতের রোহিত শার্মা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪।

টি-টোয়েন্টিতে ৩১.৮১ গড় ও ১৩৫.৭০ স্ট্রাইক রেটে গাপটিলের রান ৩ হাজার ৫৩১। নামের পাশে ২ সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ২০টি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ৩ হাজার রানও করতে পারেননি নিউ জিল্যান্ডের আর কেউ।

জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ ২০ ওভারের ক্রিকেটই খেলেন গাপটিল। ২০২২ সালের অক্টোবরে ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হয়ে রইল তার শেষ ম্যাচ।

২০০৯ সালে তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই অভিষেক হয়ে যায় গাপটিলের। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেন তিনি। পরের মাসে পা রাখেন টি-টোয়েন্টিতে। মার্চে পান সাদা পোশাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ।

তবে টেস্ট ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি গাপটিলের। ২০১৬ সালেই থেমে যায় অভিযান এই সংস্করণে তার পথচলা। ৪৭ টেস্টে খেলে ২৯.৩৮ গড়ে রান করতে পারেন তিনি ২ হাজার ৫৮৬। সেঞ্চুরি করেন তিনটি, ফিফটি ১৭টি।

তবে সাদা বলে নিজেকে নিউ জিল্যান্ডের গ্রেটদের একজন হিসেবে পরিণত করেন গাপটিল। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের ফাইনাল খেলার পথে বড় অবদান ছিল তার। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৫৪৭ রান আসে গাপটিলের ব্যাট থেকে। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে হেরে যায় কিউইরা।

চার বছর পর ২০১৯ বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলে নিউ জিল্যান্ড। সেবার টুর্নামেন্ট জুড়েই নিষ্প্রভ ছিলেন গাপটিল। ১০ ম্যাচে রান করেন মোটে ১৮৬। লর্ডসে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাউন্ডারির হিসেবে হেরে যায় নিউ জিল্যান্ড। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলেন গাপটিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে ফের স্বপ্ন ভাঙে তাদের।

তিন দফায় বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছে গিয়েও শিরোপায় চুমু আঁকতে পারেনি কিউইরা, পারলেন না গাপটিলও। বিদায় বেলায় হয়তো সেই আক্ষেপ মনের এককোণে থাকতেই পারে তার।