Published : 03 Jan 2026, 08:59 AM
বিপিএল নিলামের পর পেরিয়ে গেছে এক মাসের বেশি সময়। মাহমুদউল্লাহর প্রতিক্রিয়া এতদিন জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাকে পাওয়াই যায় কম। টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ খেলে ফেলার পর অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বললেন, নিলামে শুরুতে দল না পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
নিলামে মাহমুদউল্লাহ ছিলেন ৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে। তার নাম যখন ওঠে, তখন আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। তার মতো দল পাননি একই ক্যাটেগরির আরেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম।
পরে সব ক্যাটেগরির নিলাম শেষে দলগুলির ক্রিকেটার পূর্ণ করার কোটা বাকি ছিল। যে কোনো ক্যাটাগরি থেকে ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ পায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। প্রথম ডাকে দল না পাওয়া ক্রিকেটারদের ক্যাটাগারি পরের ধাপে নামিয়ে দেওয়ার সুযোগও ছিল। তবে রংপুর রাইডার্সের প্রতিনিধি ও বিসিবি পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক মাইক্রোফোন হাতে বলেন, মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্যাটাগরি যেন নামানো না হয়।
পরে মাহমুদউল্লাহকে ভিত্তিমূল্যে নেয় রংপুর, মুশফিককে নেয় রাজশাহী।
মাহমুদউল্লাহ সেই আস্থার প্রতিদান কিছুটা দিলেন চলতি মৌসুমে দলের তৃতীয় ম্যাচে। ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলে শুক্রবার সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে দলকে জিতিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হলেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে নিলামের প্রশ্নে বললেন, ব্যাপারটি তার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছিল।
“হ্যাঁ, আমি দেখছিলাম (নিলাম) এবং আই ওয়াজ রিয়েলি শকড… আই ওয়াজ… আই ওয়াজ রিয়েলি শকড। কারণ, আমি মনে করি, গত দুই বছর, এমনকি তিন বছরের পারফরম্যান্স গ্রাফ যদি দেখেন, জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারও আমার পরিসংখ্যানের কাছাকাছি ছিল না… স্ট্রাইক রেট, গড়, রান, সবকিছু মিলিয়ে। তো… ঠিক আছে, ইটস ফাইন।”
আগের তিনটি আসরেই মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ফরচুন বরিশালের হয়ে। গত আসরে তিনি ২০৬ রান করেন ৩৪.৩৩ গড়ে ১৪৩.০৫ স্ট্রাইক রেটে। আগের মৌসুমে ২৯.৬২ গড়ে ২৩৭ রান করেন ১৩৪.৬৫ স্ট্রাইক রেটে। এর আগের মৌসুমে তার ব্যাট থেকে আসে ২০.৮০ গড়ে ২০৮ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৭.৭৪।
শেষ পর্যন্ত রংপুর রাইডার্সে আশ্রয় পাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি।
“আমি সত্যিই ইশতিয়াক ভাই ও রংপুর রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ তারা আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। আমাকে শুরুতে নেওয়া হয়নি। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি, মালিকপক্ষ, কোচ, অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
আগামী মাসে তার বয়স পূর্ণ হবে ৪০। এবারের নিলামে যে অভিজ্ঞতা হলো, পরেরবার কি বিপিএল খেলতে আগ্রহী হবেন তিনি?
মাহমুদউল্লাহ উত্তর জমা রাখলেন সময়ের জন্য।
“আজকে জানুয়ারির ২ তারিখ, বিপিএলের ফাইনাল ২৩ জানুয়ারি। এরপর ১০-১১ মাস সময় আছে ভাবার জন্য। এরপর আমি দেখব। ১০-১১ মাস আছে তো, ভাবার সময় অনেক আছে।”